‘পলাতক নেত্রীর কথায় উঁকি-ঝুঁকি মারলেও লাভ হবে না’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, সরকারের ভেতরে-বাইরে এখনো ফ্যাসিবাদের দোসররা সক্রিয় রয়েছে। পলাতক নেত্রীর কথায় উঁকি-ঝুঁকি মারলেও লাভ হবে না। শেখ হাসিনা ও তার দোসররা দেশে ফিরবেন শুধু ফাঁসির আসামি হিসেবেই।
শনিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়ায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কর্মী, সাথী ও সদস্যদের প্রীতি সমাবেশে ৭টি সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত একক প্রার্থীদের নাম ঘোষণার সময় এসব কথা বলেন তিনি।
প্রার্থীরা হলেন- বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিন, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান, বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া-আদমদিঘি) আসনে নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে অধ্যক্ষ মাওলানা তায়েব আলী, বগুড়া-৫ শেরপুর-ধুনট) আসনে আলহাজ দবিবুর রহমান, বগুড়া-৬ (সদর) আসনে আবিদুর রহমান সোহেল এবং বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে প্রার্থী করা হয়েছে গোলাম রব্বানীকে।
আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। এর আগে ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালে জামায়াত এককভাবে নির্বাচন করেন। ২০০১ সাল থেকে তারা বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধভারে নির্বাচনে অংশ নেয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হলে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন হবে না। তাই প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করেই নির্বাচন দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যারা জামায়াত-শিবিরের দিকে চোখ রাঙানোর চেষ্টা করছেন তারা সাবধান হয়ে যান। এ দেশ কারো পারিবারিক সম্পত্তি নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের। দেশের মানুষ যাকে চাইবে, তারাই দেশ পরিচালনা করবে।
বিরোধীদের সমালোচনা করে জামায়াতের এ নেতা বলেন, যারা সংস্কার ছাড়া নির্বাচন চায়, তারা মূলত শেখ হাসিনার দুঃশাসনকেই ফিরিয়ে আনতে চায়। যারা নেত্রীর বাড়ির সামনে থেকে বালুর ট্রাক সরাতে সাহস পায়নি, তারাই এখন গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করছে।
জামায়াতে ইসলামীর বগুড়া জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি গোলাম রব্বানী, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলোয়ার হোসেন সাঈদী এবং আন্তর্জাতিক ছাত্র ও যুব ফেডারেশন (ইফসু)’র সেক্রেটারি জেনারেল ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ।
এ ছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামী বগুড়া অঞ্চলের টিম সদস্য মাওলানা আব্দুর রহীম ও অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠান শেষে এক বিশাল র্যালি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে ছাত্রশিবিরের দুই হাজারেরও বেশি সাবেক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। পরে দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।