পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নতুন পদক্ষেপ, জমি হারাচ্ছে ফিলিস্তিনিরা

অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রায় ছয় দশক পর ভূমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল সরকার। তবে দেশটির মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেছে, এই পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ ও বঞ্চনাকে “প্রাতিষ্ঠানিক রূপ” দেবে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হবে। রোববার ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ, বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের প্রস্তাব অনুমোদনের পর এই ভূমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর দখলের পর থেকে এই প্রক্রিয়া কার্যত স্থগিত ছিল। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বিমকম (Bimkom) এক বিবৃতিতে বলেছে, নতুন এই উদ্যোগ ইসরায়েলকে আইনি কাঠামোর মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জমি দখলের সুযোগ করে দেবে এবং বসতি সম্প্রসারণকে ত্বরান্বিত করবে। সংস্থাটির গবেষণা প্রধান মিখাল ব্রায়ের বলেন, অধিকাংশ ফিলিস্তিনির জমি কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়নি, ফলে তারা মালিকানা প্রমাণে গুরুতর বাধার মুখে পড়বেন। তিনি জানান, জর্ডানের শাসনামলে পশ্চিম তীরের মাত্র ৩০ শতাংশ জমি নিবন্ধিত হয়েছিল। ফলে প্রায় ৭০ শতাংশ জমির কোনো আনুষ্ঠানিক রেকর্ড নেই

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নতুন পদক্ষেপ, জমি হারাচ্ছে ফিলিস্তিনিরা

অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রায় ছয় দশক পর ভূমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল সরকার। তবে দেশটির মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেছে, এই পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ ও বঞ্চনাকে “প্রাতিষ্ঠানিক রূপ” দেবে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হবে।

রোববার ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ, বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের প্রস্তাব অনুমোদনের পর এই ভূমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর দখলের পর থেকে এই প্রক্রিয়া কার্যত স্থগিত ছিল।

ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বিমকম (Bimkom) এক বিবৃতিতে বলেছে, নতুন এই উদ্যোগ ইসরায়েলকে আইনি কাঠামোর মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জমি দখলের সুযোগ করে দেবে এবং বসতি সম্প্রসারণকে ত্বরান্বিত করবে। সংস্থাটির গবেষণা প্রধান মিখাল ব্রায়ের বলেন, অধিকাংশ ফিলিস্তিনির জমি কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়নি, ফলে তারা মালিকানা প্রমাণে গুরুতর বাধার মুখে পড়বেন।

তিনি জানান, জর্ডানের শাসনামলে পশ্চিম তীরের মাত্র ৩০ শতাংশ জমি নিবন্ধিত হয়েছিল। ফলে প্রায় ৭০ শতাংশ জমির কোনো আনুষ্ঠানিক রেকর্ড নেই, যা প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণকে কঠিন করে তুলেছে।

অধিকারকর্মীরা আরও বলেন, যেসব জমি নিবন্ধিত ছিল, সেগুলোর ক্ষেত্রেও মালিকানা প্রমাণের জন্য শত বছর পুরোনো ব্রিটিশ বা জর্ডান আমলের নথি প্রয়োজন হতে পারে—যা অধিকাংশ ফিলিস্তিনির কাছে নেই। এর ফলে অনেক জমি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইসরায়েলি রাষ্ট্র বা বসতি স্থাপনকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে।

ইসরায়েলি বসতি-বিরোধী সংগঠন পিস নাউ (Peace Now) এই পদক্ষেপকে “পূর্ণাঙ্গ সংযুক্তিকরণ” (full annexation) হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনটির সদস্য হাগিত ওফরান বলেন, “এটি পশ্চিম তীরের ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি কৌশল।”

এদিকে, ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি এই ভূমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর বিরুদ্ধে করা একটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে এ বিষয়ে রায় দেওয়া সময়োপযোগী নয়।

এর আগে পূর্ব জেরুজালেমে ২০১৮ সালে শুরু হওয়া একই ধরনের ভূমি নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় দেখা গেছে, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নিবন্ধিত জমির মাত্র ১ শতাংশ ফিলিস্তিনিদের নামে নিবন্ধিত হয়েছে। বাকি জমি ইসরায়েলি রাষ্ট্র বা বেসরকারি মালিকানায় চলে গেছে।

২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) এক পরামর্শমূলক রায়ে বলেছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের ভূমি দখল, জনসংখ্যা স্থানান্তর এবং আইনগত সংযুক্তিকরণ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং তা অবৈধ।

মানবাধিকার কর্মীরা আশঙ্কা করছেন, নতুন এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইসরায়েল পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ আরও বাড়াবে এবং ফিলিস্তিনিদের ছোট ছোট এলাকায় সীমাবদ্ধ করে ফেলবে।

সূত্র- আলজাজিরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow