পা ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অতিরিক্ত ক্লান্তি হলে কী করণীয়?

দৈনন্দিন ব্যস্ত জীবনে অনেকেই হঠাৎ করে পা ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তির মতো সমস্যায় ভোগেন। অনেক সময় আমরা এসব বিষয়কে খুব সাধারণ ভেবে গুরুত্ব দিই না। কিন্তু কখনও কখনও এই উপসর্গগুলো শরীরের ভেতরে থাকা কোনো সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। তাই এমন লক্ষণ দেখা দিলে সচেতন হওয়া জরুরি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সাকিয়া হক। কেন হয় পা ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অতিরিক্ত ক্লান্তি? ডা. সাকিয়া হক জানান, পা ব্যথা, মাথা ঘোরা কিংবা অতিরিক্ত ক্লান্তি এই তিনটি উপসর্গ অনেক কারণেই হতে পারে। অনেক সময় অতিরিক্ত কাজ, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব, পুষ্টিহীনতা বা পানিশূন্যতার কারণে এসব সমস্যা দেখা দেয়। এ ছাড়া শরীরে রক্তস্বল্পতা, ভিটামিনের ঘাটতি, নিম্ন রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা থাইরয়েডের সমস্যার কারণেও এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, অনেক সময় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করা বা হাঁটাহাঁটির কারণে পা ব্যথা হতে পারে। আবার কম পানি পান করলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়, যার ফলে মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগতে পারে। ছবি: বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল

পা ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অতিরিক্ত ক্লান্তি হলে কী করণীয়?

দৈনন্দিন ব্যস্ত জীবনে অনেকেই হঠাৎ করে পা ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তির মতো সমস্যায় ভোগেন। অনেক সময় আমরা এসব বিষয়কে খুব সাধারণ ভেবে গুরুত্ব দিই না। কিন্তু কখনও কখনও এই উপসর্গগুলো শরীরের ভেতরে থাকা কোনো সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। তাই এমন লক্ষণ দেখা দিলে সচেতন হওয়া জরুরি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সাকিয়া হক।

কেন হয় পা ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অতিরিক্ত ক্লান্তি?

ডা. সাকিয়া হক জানান, পা ব্যথা, মাথা ঘোরা কিংবা অতিরিক্ত ক্লান্তি এই তিনটি উপসর্গ অনেক কারণেই হতে পারে। অনেক সময় অতিরিক্ত কাজ, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব, পুষ্টিহীনতা বা পানিশূন্যতার কারণে এসব সমস্যা দেখা দেয়। এ ছাড়া শরীরে রক্তস্বল্পতা, ভিটামিনের ঘাটতি, নিম্ন রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা থাইরয়েডের সমস্যার কারণেও এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

তিনি বলেন, অনেক সময় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করা বা হাঁটাহাঁটির কারণে পা ব্যথা হতে পারে। আবার কম পানি পান করলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়, যার ফলে মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগতে পারে।

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সাকিয়া হকছবি: বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সাকিয়া হক

পা ব্যথা হলে কী করবেন?

ডা. সাকিয়া হক বলেন, পা ব্যথা হলে প্রথমেই বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। কাজের চাপ বেশি থাকলে কিছু সময় পা তুলে বসা বা শুয়ে থাকা উপকার দিতে পারে। এছাড়া হালকা গরম পানিতে পা ভিজিয়ে রাখা পেশির ব্যথা কমাতে সাহায্য করে, প্রয়োজনে হালকা ব্যায়াম বা স্ট্রেচিং করা যেতে পারে। আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করা জরুরি। যদি পা ফুলে যায়, তীব্র ব্যথা হয় বা দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

মাথা ঘোরা হলে কী করবেন?

হঠাৎ মাথা ঘোরা অনেক সময় বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে দাঁড়িয়ে থাকলে বা চলাফেরা করার সময়। এমন পরিস্থিতিতে যা করা উচিত-

  • সঙ্গে সঙ্গে বসে পড়া বা শুয়ে পড়া
  • একটু পানি পান করা
  • গভীরভাবে শ্বাস নেওয়া
  • কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া

ডা. সাকিয়া হক বলেন, অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলেও মাথা ঘোরা দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত ও সুষম খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

অতিরিক্ত ক্লান্তি কেন হয়?

অতিরিক্ত ক্লান্তি শুধু শারীরিক পরিশ্রমের কারণে নয়, মানসিক চাপ, অনিদ্রা বা অপুষ্টির কারণেও হতে পারে। বিশেষ করে যারা পর্যাপ্ত ঘুমান না বা অতিরিক্ত কাজের চাপের মধ্যে থাকেন, তাদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। ডা. সাকিয়া হকের মতে, অতিরিক্ত ক্লান্তি দীর্ঘদিন ধরে থাকলে তা শরীরের ভেতরে থাকা অন্য কোনো রোগের লক্ষণও হতে পারে।

ক্লান্তি দূর করতে কী করবেন?

  • প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুমানো
  • সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া
  • পর্যাপ্ত পানি পান করা
  • নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করা
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ এড়িয়ে চলা

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

ডা. সাকিয়া হক বলেন, পা ব্যথা, মাথা ঘোরা বা ক্লান্তি মাঝে মাঝে হওয়া স্বাভাবিক। তবে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। যেমন- বারবার মাথা ঘোরা, হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, দীর্ঘদিন ধরে তীব্র ক্লান্তি, পা ফুলে যাওয়া বা তীব্র ব্যথা, বুক ধড়ফড় বা শ্বাসকষ্ট হওয়া। এসব লক্ষণ থাকলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন:

সচেতন থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

ডা. সাকিয়া হক বলেন, অনেক সময় আমরা শরীরের ছোটখাটো সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দিই না। কিন্তু এসব বিষয় অবহেলা করলে বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই শরীরের যেকোনো অস্বাভাবিক লক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো উপায়। একই সঙ্গে সুস্থ থাকতে নিয়মিত ঘুম, সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি পান এবং মানসিক চাপ কমিয়ে রাখা এই কয়েকটি বিষয় মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।

জেএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow