পা হারিয়ে থামেনি পড়াশোনা, এসএসসি পাস সামিয়া দেখছে নতুন স্বপ্ন
একটি সড়ক দুর্ঘটনা বদলে দিয়েছে সামিয়া আক্তারের জীবন। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই হারাতে হয়েছে একটি পা। রিকশাচালক বাবার সংসারে অভাব, নিজের শরীরে স্থায়ী প্রতিবন্ধকতায়ও থেমে থাকেনি সামিয়া। এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ- ২.৩৩ পেয়ে পাস করেছে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সামিয়ার এই সাফল্যে আনন্দিত তার পরিবার ও পাশে দাঁড়ানো মানুষগুলো। তবে এসএসসি পাস করেই থামতে চায় না সে। এখন তার সবচেয়ে বড় ইচ্ছা, একটি কৃত্রিম পা পাওয়া। সেই পা নিয়ে আবার হাঁটতে চায়, নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়। চালিয়ে যেতে চায় পড়াশোনা। বড় হয়ে নিজের একটা পরিচয় তৈরি করতে চায়। প্রায় দুই মাস আগে সামিয়ার দুর্ঘটনা ও সংগ্রামের কথা জানতে পেরে তার পাশে দাঁড়ান সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ ও উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তরের সমন্বয়কারী ঝুমু, সীমা। সামিয়া ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তার প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে কাজ শুরু করেন। সেসময় প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের মাধ্যমে তাকে দেওয়া হয় একটি হুইলচেয়ার। আর শহর সমাজসেবা কার্যালয় থেকে ব্যবস্থা করা হয় প্রতিবন্ধী ভাতার। এছাড়াও চিকিৎসার জন্য তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো.
একটি সড়ক দুর্ঘটনা বদলে দিয়েছে সামিয়া আক্তারের জীবন। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই হারাতে হয়েছে একটি পা। রিকশাচালক বাবার সংসারে অভাব, নিজের শরীরে স্থায়ী প্রতিবন্ধকতায়ও থেমে থাকেনি সামিয়া। এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ- ২.৩৩ পেয়ে পাস করেছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সামিয়ার এই সাফল্যে আনন্দিত তার পরিবার ও পাশে দাঁড়ানো মানুষগুলো। তবে এসএসসি পাস করেই থামতে চায় না সে। এখন তার সবচেয়ে বড় ইচ্ছা, একটি কৃত্রিম পা পাওয়া। সেই পা নিয়ে আবার হাঁটতে চায়, নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়। চালিয়ে যেতে চায় পড়াশোনা। বড় হয়ে নিজের একটা পরিচয় তৈরি করতে চায়।
প্রায় দুই মাস আগে সামিয়ার দুর্ঘটনা ও সংগ্রামের কথা জানতে পেরে তার পাশে দাঁড়ান সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ ও উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তরের সমন্বয়কারী ঝুমু, সীমা।
সামিয়া ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তার প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে কাজ শুরু করেন। সেসময় প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের মাধ্যমে তাকে দেওয়া হয় একটি হুইলচেয়ার। আর শহর সমাজসেবা কার্যালয় থেকে ব্যবস্থা করা হয় প্রতিবন্ধী ভাতার।
এছাড়াও চিকিৎসার জন্য তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের সহযোগিতায় দেওয়া হয় ৫০ হাজার টাকা। পাশাপাশি বিআরটিএর এককালীন অনুদানের জন্য আবেদনও করা হয়।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আবারও সামিয়ার খোঁজ নিতে তার বাড়িতে যাওয়া হয়। আগের মতো শুধু কষ্টের গল্প নয়, এবার সামিয়ার মুখে ছিল সাফল্যের কথা। এসএসসি পাসের আনন্দের সঙ্গে তার কথায় ছিল সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন।
সামিয়া জানায়, কৃত্রিম পা পেলে সে আবার হাঁটতে চায়। পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায়। বড় হয়ে নিজের মতো করে কিছু করতে চায়।
সামিয়ার এই সাফল্যে খুশি সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ। তিনি বলেন, সামিয়ার ফলাফল শুনে আমরা আনন্দিত। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও সে পড়াশোনা চালিয়ে গেছে এবং এসএসসি পাস করেছে। তার এই মানসিক শক্তি অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণার। এখন সে কৃত্রিম পা লাগিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে চায়। তার এই স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতার সুযোগ থাকলে আমরা অবশ্যই পাশে থাকার চেষ্টা করব।
শাওন খান/এসজেডএইচ/এএসএম
What's Your Reaction?
