পাংশা পৌরসভায় ভিজিএফের চাল কম দেওয়ার অভিযোগ

রাজবাড়ীর পাংশায় ঈদ-উল ফিতর-২০২৬ উপলক্ষে দরিদ্র ও দুস্থদের মাঝে বিতরণকৃত ভিজিএফ এর চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। কার্ড প্রতি ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে ৮ থেকে ৯ কেজি। চাল কম দেওয়ার দায় চাপিয়েছেন পৌর সচিব শ্রমিকদের উপর। রোববার (১৫ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌরসভার বারান্দায় চাল ঢেলে বালতিতে ভরে উপকারভোগীদের চাউল দেওয়া হচ্ছে। চাল মাপের জন্য নেই কোন পরিমাপ যন্ত্র। সাংবাদিকেদের উপস্থিতির পর একটি পরিমাপযন্ত্র এনে বালতি ভরে পরিমাপ করে দেখা যায় ৯ কেজি ২৯৩ গ্রাম চাল। এ সময় চাল বিতরণ কার্যক্রম তদারকির দায়ীত্বে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রেজাউল শরীফকে দেখা যায়নি। তবে পাশেই মাস্ক পড়ে বসে চাল বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করতে দেখা গেছে উপজেলা মৎস্য অফিসের হ্যাচারি অ্যাটেনডেন্ট মো. মনিরুজ্জামানকে। আয়সা নামের এক উপকারভোগী চাল পেয়ে পৌরসভার সামনের একটি দোকান থেকে মাপ দিয়ে দেখেন ৮ কেজি ৮ শত গ্রাম চাল পেয়েছেন। অপর এক উপকারভোগী চাল মেপে দেকেন ৮ কেজি ২০০ গ্রাম। তাইজেল নামের এক উপকারভোগী বলেন, চাল নিয়ে মনে হলো ওজনে কম পরে পৌরসভার সমনে থেকে মেপে দেখি ৮ কেজি ৩০০ গ্রাম। পরে গিয়ে বাকি চাল নিয়ে এ

পাংশা পৌরসভায় ভিজিএফের চাল কম দেওয়ার অভিযোগ

রাজবাড়ীর পাংশায় ঈদ-উল ফিতর-২০২৬ উপলক্ষে দরিদ্র ও দুস্থদের মাঝে বিতরণকৃত ভিজিএফ এর চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

কার্ড প্রতি ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে ৮ থেকে ৯ কেজি। চাল কম দেওয়ার দায় চাপিয়েছেন পৌর সচিব শ্রমিকদের উপর।

রোববার (১৫ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌরসভার বারান্দায় চাল ঢেলে বালতিতে ভরে উপকারভোগীদের চাউল দেওয়া হচ্ছে। চাল মাপের জন্য নেই কোন পরিমাপ যন্ত্র।

সাংবাদিকেদের উপস্থিতির পর একটি পরিমাপযন্ত্র এনে বালতি ভরে পরিমাপ করে দেখা যায় ৯ কেজি ২৯৩ গ্রাম চাল। এ সময় চাল বিতরণ কার্যক্রম তদারকির দায়ীত্বে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রেজাউল শরীফকে দেখা যায়নি। তবে পাশেই মাস্ক পড়ে বসে চাল বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করতে দেখা গেছে উপজেলা মৎস্য অফিসের হ্যাচারি অ্যাটেনডেন্ট মো. মনিরুজ্জামানকে।

আয়সা নামের এক উপকারভোগী চাল পেয়ে পৌরসভার সামনের একটি দোকান থেকে মাপ দিয়ে দেখেন ৮ কেজি ৮ শত গ্রাম চাল পেয়েছেন। অপর এক উপকারভোগী চাল মেপে দেকেন ৮ কেজি ২০০ গ্রাম।

তাইজেল নামের এক উপকারভোগী বলেন, চাল নিয়ে মনে হলো ওজনে কম পরে পৌরসভার সমনে থেকে মেপে দেখি ৮ কেজি ৩০০ গ্রাম। পরে গিয়ে বাকি চাল নিয়ে এসেছি।

জানা গেছে, পাংশা পৌরসভার ৪ হাজার ৬২৫ জন দরিদ্র ও দুস্তদের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৪৬ হাজার ২৫০ কেজি। বরাদ্দকৃত চাল খাদ্য গুদাম থেতে উত্তোলন করেছেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহানগীর হোসেন।

উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহানগীর হোসেন বলেন, গত বৃস্পতিবার ৩০কেজি ওজনের ১৫শত ৪৪ বস্তা চাল উত্তোলন করে পৌরসভার গোডাউনে রেখেছি। শনিবারে বিতরণ হয়েছে এবং আজও বিতরণ করা হচ্ছে।

চাল কম দেওয়ার খবরে পাংশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো চাঁদ আলী খান ঘটনার সত্যতা পেয়ে সেখানে গিয়ে স্টিলেট বালতি বদল করে প্ল্যাস্টিকের বালতি দিয়ে চাল দেওয়া হচ্ছে।

পাংশা পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) আনিছুর রহমান বলেন, একটি বস্তার ওজন ৩০০ গ্রাম। বস্তায় চালও কম থাকে। সব মিলিয়ে সাড়ে ৯ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। তবে পৌরসভা চত্বরের বাইরে গিয়ে মেপে কম পড়লে এর দায় আমাদের নয়।

পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল হক এসব অভিযোগ ক্ষতিয়ে না দেখে উল্টো বলেন, পৌরসভার বাইরে থেকে মাপলে আমরা আমলে নিব না। যেখানে চাল দিচ্ছে সেখানে একটি মিটার নিয়ে মাপলে সেটা আমরা আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow