পাকিস্তান-চীন মোকাবিলায় ফ্রান্সের ১১৪ রাফায়েল যুদ্ধবিমান কিনছে ভারত

বিমানবাহিনী ইতিহাসের সবচেয়ে বড় যুদ্ধবিমান ক্রয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়েছে ভারত। এর আওতায় আরও ১১৪টি ডাসো রাফায়েল মাল্টিরোল ফাইটারের জন্য ফ্রান্সকে একটি আনুষ্ঠানিক অনুরোধপত্র পাঠিয়েছে ভারত। ভারতের উত্তর-পশ্চিমে পাকিস্তান ও চীনের সামরিক সক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার্থে এই চুক্তি করছে ভারত। এই চুক্তিকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামরিক বিমান শিল্পের সমীকরণ আমূল বদলে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আনুমানিক ৩ হাজার ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের এই ‘সরকার-টু-সরকার’ (জি টু জি) চুক্তিটি একই সাথে ভারতীয় বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রন সংকট দূর এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রতিরক্ষা-শিল্প কৌশলকে আরও গতিশীল করবে। এর পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক সামরিক প্রতিযোগিতার মধ্যে প্যারিসের সাথে নয়াদিল্লির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করবে। এই কর্মসূচির বিশাল পরিধি রাফাল প্রকল্পের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভারতকে একটি সাধারণ বিদেশি ক্রেতা থেকে এমন এক আধা-সমন্বিত মহাকাশ উৎপাদন ইকোসিস্টেমে রূপান্তরিত করবে, যা ইউরোপের বাইরে উন্নত পশ্চিমা যুদ্ধবিমান তৈরিতে সক্ষম। ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়ার তথ্য মতে, বর্তমানে ভারতীয়

পাকিস্তান-চীন মোকাবিলায় ফ্রান্সের ১১৪ রাফায়েল যুদ্ধবিমান কিনছে ভারত

বিমানবাহিনী ইতিহাসের সবচেয়ে বড় যুদ্ধবিমান ক্রয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়েছে ভারত। এর আওতায় আরও ১১৪টি ডাসো রাফায়েল মাল্টিরোল ফাইটারের জন্য ফ্রান্সকে একটি আনুষ্ঠানিক অনুরোধপত্র পাঠিয়েছে ভারত। ভারতের উত্তর-পশ্চিমে পাকিস্তান ও চীনের সামরিক সক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার্থে এই চুক্তি করছে ভারত। এই চুক্তিকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামরিক বিমান শিল্পের সমীকরণ আমূল বদলে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আনুমানিক ৩ হাজার ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের এই ‘সরকার-টু-সরকার’ (জি টু জি) চুক্তিটি একই সাথে ভারতীয় বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রন সংকট দূর এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রতিরক্ষা-শিল্প কৌশলকে আরও গতিশীল করবে। এর পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক সামরিক প্রতিযোগিতার মধ্যে প্যারিসের সাথে নয়াদিল্লির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করবে।

এই কর্মসূচির বিশাল পরিধি রাফাল প্রকল্পের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভারতকে একটি সাধারণ বিদেশি ক্রেতা থেকে এমন এক আধা-সমন্বিত মহাকাশ উৎপাদন ইকোসিস্টেমে রূপান্তরিত করবে, যা ইউরোপের বাইরে উন্নত পশ্চিমা যুদ্ধবিমান তৈরিতে সক্ষম।

ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়ার তথ্য মতে, বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং ফ্রান্স সফরে রয়েছেন। সেখানে ডাসো অ্যাভিয়েশনের কারখানা পরিদর্শনের পাশাপাশি শিল্প ক্ষেত্রে কাজের অংশীদারিত্ব, উৎপাদনের সময়সীমা এবং পরিচালনগত একীকরণের বিষয়ে আলোচনা আরও গতি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই কর্মসূচির শিল্প কাঠামো নির্দেশ করে যে প্রায় ৯৪টি বিমান ভারতের অভ্যন্তরে তৈরি করা হবে এবং বাকি ২০টি যুদ্ধবিমান সরাসরি ফ্রান্স থেকে তৈরি অবস্থায় আসবে। এর ফলে একদিকে যেমন দ্রুত বিমানবাহিনীতে নতুন ফাইটার যুক্ত করা যাবে, অন্যদিকে ভারতের নিজস্ব মহাকাশ উৎপাদন শিল্পের ভিত্তিও মজবুত হবে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর, ২০২৬ সালের মে মাসের শেষের দিকে আকুইজিশন উইংয়ের মাধ্যমে এই অনুরোধপত্রটি পাঠানো হয়েছে। এ অনুরোধপত্র নির্দেশ করে যে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিরক্ষা ক্রয় পরিষদ যে অনুমোদন দিয়েছিল, তা এখন কৌশলগত জরুরি অবস্থার সাথে একটি সক্রিয় আলোচনা পর্বে রূপ নিয়েছে।

বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনী অনুমোদিত ৪২টি স্কোয়াড্রনের বিপরীতে মাত্র ৩০ থেকে ৩২টি ফাইটার স্কোয়াড্রন নিয়ে কাজ করছে। এর ফলে ভারতের উত্তর ও পশ্চিম সীমান্ত জুড়ে যে কার্যক্ষমতার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, এই ক্রয় প্রক্রিয়া মূলত তা কাটিয়ে ওঠার জন্য নেওয়া হয়েছে।

এই চুক্তির সামরিক গুরুত্ব কেবল সংখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রাফালের দূরপাল্লার আঘাত হানার ক্ষমতা, ‘স্পেক্ট্রা’ ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট, ‘মিটিওর’ বিয়ন্ড-ভিজ্যুয়াল-রেঞ্জ মিসাইল এবং নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা সম্মিলিতভাবে চীন ও পাকিস্তানের অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ভারতকে অনেক বেশি সুরক্ষিত ও শক্তিশালী করবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২৬ সালের জুনে তার প্রস্তাবিত ফ্রান্স সফরের সময় এই রাফাল প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে যা ভারত-ফ্রান্স কৌশলগত অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে এই কর্মসূচির গুরুত্বকে ফুটিয়ে তোলে।

ব্যাপক স্থানীয়করণ এবং দেশীয় প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানোর বিষয়ে ভারতের এই জোরালো অবস্থান মূলত তাদের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের বিষয়টিকে তুলে ধরে। বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে একাধিক বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা ক্রয় কর্মসূচিতে সাপ্লাই-চেইন বা সরবরাহ চেইনের দুর্বলতা এবং রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের বিধিনিষেধ পর্যবেক্ষণ করার পর ভারতের এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

ফ্রান্সের জন্য এই চুক্তিটি ডাসো অ্যাভিয়েশনের দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্যারিসের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবকে নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দেবে, যেখানে ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা-শিল্পের উপস্থিতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং রাশিয়ার মধ্যকার বৃহত্তর কৌশলগত প্রতিযোগিতার সাথে ক্রমশ জড়িয়ে পড়ছে।

কেএম 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow