ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত। তবে এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে শুধু বলা হয়, আমরা যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই এবং আশা করি এটি পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। একইসঙ্গে সংলাপ ও কূটনীতির গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। আমরা আশা করি এটা পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করবে। যেমনটা আমরা আগেও বলেছি, যুদ্ধবিরতি, সংলাপ এবং কূটনৈতিক পদক্ষেপ এই যুদ্ধ অবসানের জন্য অপরিহার্য।
বিবৃতিতে যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক রূপ নিয়ে বলা হয়েছে, এটা বিশ্বব্যাপী তেল ও জ্বালানি সরবরাহ এবং বাণিজ্য ব্যবস্থাকে ব্যাহত করেছে। আমরা আশা করি বাণিজ্যিক ও তেলবাহী জাহাজগুলো এবার স্বাধীনভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসতে পারবে।
ভারত তাদের বিবৃতিতে যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য ব্যবস্থায় বিঘ্নের কথাও উল্লেখ করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
যদিও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেক নেতা পাকিস্তানের মধ্যস্থতার ভূমিকাকে প্রশংসা করেছেন, ভারত এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব থেকেছে। ইসলামাবাদে সম্ভাব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা নিয়েও কোনো মন্তব্য করা হয়নি। এর ফলে দেশটির অভ্যন্তরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলো একে ভারতের জন্য ‘কূটনৈতিক ব্যর্থতা’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আগে জানিয়েছিলেন, ভারত ‘মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্র’ বা ‘ব্রোকার নেশন’ হতে আগ্রহী নয়। তবে এর জবাবে কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভি মন্তব্য করেন, পাকিস্তান যে ভূমিকা পালন করেছে, তা ভারতেরই করা উচিত ছিল। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
সাবেক পররাষ্ট্র সচিব নিরুপমা মেনন রাও বলেন, পাকিস্তান সরাসরি মধ্যস্থতাকারী না হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘অনুঘটক’ হিসেবে কাজ করেছে, যা কূটনৈতিক যোগাযোগ চালু রাখতে সাহায্য করেছে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি কোনো চূড়ান্ত সমাধান নয়; বরং সংঘাত নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে আলোচনা ও সামরিক চাপ পাশাপাশি চলছে।
‘পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট’ বিশ্লেষক অশোক সোয়াইন এই যুদ্ধবিরতিকে ইরানের জন্য সাফল্য এবং পাকিস্তানের জন্য কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে বিশ্লেষক অভিনব সিং বলেন, বর্তমানে পাকিস্তানই এমন একটি দেশ যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সুসম্পর্ক রয়েছে। সাংবাদিক অঞ্জনা শঙ্কর-এর মতে, সংঘাতের চরম অবস্থাতেও পাকিস্তান কূটনৈতিক পথ খোলা রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা এই যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় সাত বছরের মধ্যে প্রথমবার ইরানের তেল ভারতে আসতে শুরু করেছে। অন্যদিকে ক্যাপ্টেন নরেশ সিং নামে একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী লিখেছেন, মোদিজির ব্যর্থ কূটনীতির ফলস্বরূপ পাকিস্তান বিশ্বগুরু হয়ে উঠেছে।