পাকিস্তানের বৈঠকে হঠাৎ কেন বাংলাদেশ?
সকল নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে শনিবার পর্দা উঠেল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। এর ফলে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশকে ছাড়াই শুরু হলো ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের এই মেগা আসর। এ নিয়ে অবশ্য বিতর্ক আর সমালোচনার শেষ নেই। কেউ কেউ যেমন বাংলাদেশের এমন সিদ্ধান্তকে আত্মমর্যাদার প্রতীক হিসেবে যথাযথ বলছেন তেমনি অনেক ভক্ত-অনুরাগীর কণ্ঠে শোনা যায় স্বপ্নের এই আসরে খেলতে না পারার আক্ষেপের সুরও। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলতে না পারার গল্পটা এখন অতীত। এর মধ্যেই আজ গণমাধ্যমে নতুন খবরের আবির্ভাব। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম খুব সকালেই লাহোরে পৌঁছেছেন। সন্ধ্যায় আইসিসির জরুরি ভার্চুয়াল সভায় যোগ দেওয়ার কথা তার। একই সভায় আইসিসির অন্যান্য সদস্যও উপস্থিত থাকার কথাও রয়েছে। পাকিস্তানের জিও নিউজ তাদের এক প্রতিবেদনে এমন খবরই প্রকাশ করেছে। এর একদিন আগে শনিবার ইএসপিএন ক্রিকইনফো ও ক্রিকবাজ জানায়, পাকিস্তানের ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে পিসিবির সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে আইসিসি। মূলত, চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকেন্দ্রিক এই সংকটের শুরু বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে অব্যাহতি দেওয়া
সকল নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে শনিবার পর্দা উঠেল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। এর ফলে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশকে ছাড়াই শুরু হলো ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের এই মেগা আসর। এ নিয়ে অবশ্য বিতর্ক আর সমালোচনার শেষ নেই। কেউ কেউ যেমন বাংলাদেশের এমন সিদ্ধান্তকে আত্মমর্যাদার প্রতীক হিসেবে যথাযথ বলছেন তেমনি অনেক ভক্ত-অনুরাগীর কণ্ঠে শোনা যায় স্বপ্নের এই আসরে খেলতে না পারার আক্ষেপের সুরও। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলতে না পারার গল্পটা এখন অতীত।
এর মধ্যেই আজ গণমাধ্যমে নতুন খবরের আবির্ভাব। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম খুব সকালেই লাহোরে পৌঁছেছেন। সন্ধ্যায় আইসিসির জরুরি ভার্চুয়াল সভায় যোগ দেওয়ার কথা তার। একই সভায় আইসিসির অন্যান্য সদস্যও উপস্থিত থাকার কথাও রয়েছে। পাকিস্তানের জিও নিউজ তাদের এক প্রতিবেদনে এমন খবরই প্রকাশ করেছে।
এর একদিন আগে শনিবার ইএসপিএন ক্রিকইনফো ও ক্রিকবাজ জানায়, পাকিস্তানের ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে পিসিবির সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে আইসিসি। মূলত, চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকেন্দ্রিক এই সংকটের শুরু বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে অব্যাহতি দেওয়া থেকে। যে ঘটনার জেরেই বিশ্বকাপ খেলা থেকে বঞ্চিত হলো বাংলাদেশ। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর একদিন পর আবার কেন বৈঠকে বসতে যাচ্ছে পিসিবি-আইসিসি। আর কেনই বা সেই বৈঠকে যোগ দিতে তড়িঘড়ি করেই যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল? এ নিয়েই এখন দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এই বৈঠক থেকে বাংলাদেশর কী লাভ হতে পারে সেটা নিয়েও ভক্ত-অনুরাগীদের আগ্রহের কমতি নেই।
জানা যায়, বিশ্বকাপ শুরুর দিন অর্থাৎ শনিবার রাত একটায় বিসিবির পরিচালকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জরুরি এক বার্তা পাঠান সভাপতি আমিনুল ইসলাম। পাকিস্তানের বিমানে ওঠার অপেক্ষায় তখন তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। কিন্তু কেন? পরিচালকদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় সেটি পরিষ্কার করেননি আমিনুল। শুধু জানিয়েছেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলা নিয়ে তিনি আইসিসির সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মধ্যে আছেন। তারই অংশ হিসেবে লাহোরে যাচ্ছেন আইসিসি ও পিসিবির সঙ্গে সভা করতে। আমিনুলের বার্তা অনুযায়ী পাকিস্তানে যেতে হবে, সেটাই তিনি নিশ্চিত হয়েছেন সেদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে।
রাত ১টার দিকে বোর্ড পরিচালকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠানো বার্তায় আমিনুল যা লিখেছেন তা হলো, ‘মাত্র ৯০ মিনিট আগে আমার এই সফরটি নিশ্চিত হয়েছে। আমি এখন বিমানবন্দরে। সময়স্বল্পতার কারণে কাউকে কল করা সম্ভব হয়নি। মিটিং হবে লাহোরের সময় আগামীকাল (আজ) বিকাল ৪টায়। ফিরব ৯ তারিখ সন্ধ্যায়।’
ওদিকে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করে, আজ ভোরে লাহোরে পৌঁছেছেন আমিনুল। সেখানে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালমান নাসির তাকে স্বাগত জানান। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ফেসবুকে আমিনুলকে স্বাগত জানানোর একটা ভিডিও–ও পোস্ট করা হয়েছে, যেটির ক্যাপশনে সালমান নাসিরকে উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছে, ‘সম্মানিত অতিথিকে আমরা আন্তরিকভাবে পাকিস্তানে স্বাগত জানিয়েছি।’ লাহোরে আইসিসি ও পিসিবির সভায় যোগ দেওয়া ছাড়াও পিসিবিপ্রধান মহসিন নাকভির সঙ্গে আলাদা একটি সভা করার কথা আমিনুলের।
সূত্রমতে জানা যায়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের না খেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ নিয়ে আইসিসির একটি প্রতিনিধিদলের লাহোরে আসার কথা। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা। বিসিবি সভাপতির পাকিস্তান যাত্রা সম্পর্কে তেমন কিছু জানা নেই বলে আজ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ। তিনি বলেন, ‘সভাপতি আমাকে রাতে ফোন করেছিলেন। আমি ধরতে পারেনি। ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। সকালে দেখলাম বা শুনেছি সভাপতি গেছেন। তিনি তো বলেছেন আইসিসির কী একটা মিটিং করতে গেছেন।’
নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত সফরে যেতে রাজি না হওয়ার পর গত ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নিয়ে আইসিসি নতুন করে বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণা করে। সেদিনই পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি দাবি করেছিলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অবিচার করেছে আইসিসি। ১লা ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকারের এক্স হ্যান্ডলে বিশ্বকাপের ভারত-ম্যাচ বয়কটের ঘোষণাও দেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত থেকে এক চুলও সরা যাবে না বলে ৪ ফেব্রুয়ারি সাফ জানিয়ে দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। মূলত বাংলাদেশের সমর্থনে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তান খেলতে যাবে না বলে উল্লেখ করেছেন শেহবাজ।
এরপর তাহলে আবার নতুন করে বৈঠকের উদ্দেশ্য কী? পিসিবি ও আইসিসির সভায় বিসিবি সভাপতির সশরীর থাকার কারণ হিসেবে একটাই ‘ক্লু’ পাওয়া যাচ্ছে এখন পর্যন্ত। যেহেতু পাকিস্তান বলেছে, বাংলাদেশের ভারতে না খেলার সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েই পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এ নিয়ে পরবর্তী যেকোনো সিদ্ধান্তে বাংলাদেশকে পাশে রাখতে চায় আইসিসি ও পিসিবি।
What's Your Reaction?