পানি ছাড়লো ভারত, বন্যার শঙ্কায় পাকিস্তানে ঘরছাড়া দেড় লাখ মানুষ

3 days ago 2

ভারত পানি ছাড়ার পর সুতলেজ ও রাভি নদীর পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে পাকিস্তানে। এরই মধ্যে প্রায় দেড় লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পাকিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) জানিয়েছে, সতর্কতা জারি হওয়ার পর পাঞ্জাবের প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ) ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে মানুষজনকে সরিয়ে নেওয়া শুরু করে। এর আওতায় বাহাওয়ালনগর, কাসুর, ওকারা, পাকপত্তন, বাহাওয়ালপুর ও ভেহারি জেলার হাজার হাজার মানুষকে স্থানান্তর করা হয়। এরই মধ্যে শত শত গ্রাম খালি করে দেওয়া হয়েছে।

এনডিএমএ জানিয়েছে, প্রাথমিক সতর্কবার্তার পর প্রায় ৪০ হাজার মানুষ নিজেরাই নিরাপদ স্থানে চলে গিয়েছিলেন। এখন জরুরি সেবা দল মোতায়েন রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। জনগণকে নদী, খাল ও নিচু এলাকা থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন>>

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরীফ নির্দেশ দিয়েছেন যেন আটকে পড়া মানুষদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। মসজিদে মসজিদে মাইকিং করে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি গবাদিপশুর জন্যও ত্রাণকেন্দ্রে আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

নদীগুলোর পরিস্থিতি

এনডিএমএ জানায়, সুতলেজ নদীর কিছু অংশে খুব উচ্চমাত্রার বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রাভি নদীর পানিও ক্রমাগত বাড়ছে। অন্যদিকে সিন্ধু নদীতে সুক্কুর অঞ্চলে মাঝারি এবং কালাবাঘ, চাশমা, গুড্ডু ও কোটরিতে স্বল্পমাত্রার বন্যা দেখা দিয়েছে। চেনাব নদীতে সামান্য বন্যা পরিস্থিতি রয়েছে, তবে ঝিলম, কাবুল ও নারি নদীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক।

টারবেলা বাঁধ প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে, মঙ্গলাও ধারণক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। খানপুর, রাওয়াল ও সিমলি বাঁধেও পানির স্তর বাড়ছে।

ভারতের সতর্কবার্তা ও চুক্তি বিতর্ক

গত সপ্তাহে ভারত দু’বার পাকিস্তানকে সতর্ক করে পানি ছাড়ার কথা জানিয়েছে। মাধোপুর হেডওয়ার্কস দিয়ে রাভিতে পানি ছাড়ার পর পাঞ্জাবের দক্ষিণাঞ্চলে প্লাবন দেখা দেয়। যদিও এই সতর্কবার্তা এসেছে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে, সিন্ধু পানিচুক্তির আওতায় নয়।

ভারত পাহেলগামে হামলার জেরে গত এপ্রিল মাসে একতরফাভাবে সিন্ধু পানিচুক্তি (আইডব্লিউটি) স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে। পাকিস্তান বলছে, ভারতের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।

সূত্র: জিও নিউজ
কেএএ/

Read Entire Article