পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার নিরাপদে করার ৯ উপায়

বর্তমান ডিজিটাল যুগে পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কফি শপ থেকে শুরু করে এয়ারপোর্ট, প্রায় সব জায়গাতেই এখন ফ্রি ওয়াইফাই পাওয়া যায়। তবে এই ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করার সময় কিছু ঝুঁকি থাকে। তা হতে পারে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, অথবা আপনার ডিভাইসে কোন ম্যালওয়ারের অনুপ্রবেশ। তাই, পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক নিরাপদে ব্যবহার করার জন্য আমাদের কিছু কৌশল জানা খুবই জরুরি। চলুন পাবলিক ওয়াই-ফাই ও নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সময় নিরাপদ থাকার ৯ পদ্ধতি জেনে নিই- সঠিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়া যেকোন পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করার আগে প্রথমেই নেটওয়ার্কের সঠিক নাম জেনে নিতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনে বিমানবন্দর, হোটেল, রেস্তোরাঁ বা পরিবহন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। কারণ, সাইবার অপরাধীরা বৈধ নেটওয়ার্কের নামের সঙ্গে মিল রেখে ভুয়া ওয়াই–ফাই নেটওয়ার্ক তৈরি করে ব্যবহারকারীদের ধোঁকা দিয়ে ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য চুরি করে থাকে। তাই নেটওয়ার্কের নাম নিয়ে সন্দেহ হলে কোনো নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এর পাশাপাশি স্মার্টফোন, ল্যাপট

পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার নিরাপদে করার ৯ উপায়

বর্তমান ডিজিটাল যুগে পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কফি শপ থেকে শুরু করে এয়ারপোর্ট, প্রায় সব জায়গাতেই এখন ফ্রি ওয়াইফাই পাওয়া যায়। তবে এই ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করার সময় কিছু ঝুঁকি থাকে। তা হতে পারে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, অথবা আপনার ডিভাইসে কোন ম্যালওয়ারের অনুপ্রবেশ। তাই, পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক নিরাপদে ব্যবহার করার জন্য আমাদের কিছু কৌশল জানা খুবই জরুরি।

চলুন পাবলিক ওয়াই-ফাই ও নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সময় নিরাপদ থাকার ৯ পদ্ধতি জেনে নিই-

সঠিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়া

যেকোন পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করার আগে প্রথমেই নেটওয়ার্কের সঠিক নাম জেনে নিতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনে বিমানবন্দর, হোটেল, রেস্তোরাঁ বা পরিবহন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। কারণ, সাইবার অপরাধীরা বৈধ নেটওয়ার্কের নামের সঙ্গে মিল রেখে ভুয়া ওয়াই–ফাই নেটওয়ার্ক তৈরি করে ব্যবহারকারীদের ধোঁকা দিয়ে ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য চুরি করে থাকে। তাই নেটওয়ার্কের নাম নিয়ে সন্দেহ হলে কোনো নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এর পাশাপাশি স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা ট্যাবলেট কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার অপশন বন্ধ রাখতে হবে। 

ভিপিএন ব্যবহার

পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সময় ভিপিএন (Virtual Private Network) ব্যবহার করলে অতিরিক্ত সুরক্ষা পাওয়া যায়। ভিপিএন আপনার যন্ত্র ও ইন্টারনেটের মধ্যে একটি এনক্রিপ্ট করা সংযোগ তৈরি করে। এটি ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি একটি সুরক্ষিত টানেলের মধ্যে দিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন। ফলে একই নেটওয়ার্কে থাকা অন্য ব্যক্তির পক্ষে আপনার ইন্টারনেট কার্যক্রম থেকে তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে যায়। তবে ভিপিএন ব্যবহার করলেই অনলাইনের সব ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি দূর হয় না। তাই ভিপিএন অ্যাপ ইনস্টল করার পর সেটি ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা আগেই পরীক্ষা করে নিতে হবে। 

সুরক্ষিত ওয়েবসাইট ব্যবহার

ইন্টারনেটে থাকা অবস্থায় কোনো ওয়েবসাইটে পাসওয়ার্ড বা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে সবসময় নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনি যে ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করছেন, সেটি https দিয়ে শুরু হয়েছে। https মানে হলো সাইটটি সিকিউর সকেটস লেয়ারস (SSL) ব্যবহার করে আপনার ডেটা এনক্রিপ্ট করছে। ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে একটি তালা (lock) চিহ্ন দেখেও আপনি সেই সাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন। 

তথ্য বিনিময়ে সতর্কতা

খুব বেশি প্রয়োজন না হলে পাবলিক ওয়াই–ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অনলাইন ব্যাংকিং বা আর্থিক লেনদেন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। পাসওয়ার্ড ম্যানেজার, অফিসের গোপনীয় সিস্টেম বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে ব্যবহার না করাই শ্রেয়।

ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে ফাইল শেয়ারের অপশন বন্ধ রাখা

পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সময় ফাইল শেয়ারের অপশন বন্ধ রাখতে হবে। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা ট্যাবলেট কম্পিউটারে ফাইল শেয়ারের অপশন চালু থাকলে তা দ্রুত বন্ধ করে দিতে হবে। এর ফলে একই নেটওয়ার্কে থাকা অন্য যন্ত্রগুলোর সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় যোগাযোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

কাজ শেষে ওয়াই–ফাই নেটওয়ার্কের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা

পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার শেষে অবশ্যই সংযোগটি আপনার ডিভাইসের ওয়্যারলেস সেটিংসের ওয়াই-ফাই অপশনে গিয়ে ফরগেট নেটওয়ার্ক নির্বাচন করে বিচ্ছিন্ন করে দিতে হবে। একই সঙ্গে কোনো অনলাইন অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করলে সেটি থেকে সাইন আউট করার পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় সংযোগের সুবিধা বন্ধ করতে হবে।

নিয়মিত সফটওয়্যার বা অ্যাপস আপডেট

সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে নিরাপত্তা ত্রুটিগুলো সমাধান করা হয়। তাই, আপনার ডিভাইসের অপারেটিং সিস্টেম, ব্রাউজার এবং অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশন সবসময় আপডেট রাখা উচিত।

অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার বা অ্যাপস ব্যবহার

অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার বা অ্যাপস আপনার ডিভাইসকে ম্যালওয়্যার এবং ভাইরাস থেকে রক্ষা করে। এটি আপনার ডিভাইসে নিয়মিত স্ক্যান করে ক্ষতিকর কিছু পেলে তা সরিয়ে দেয়। 

অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস নিয়ে সতর্ক থাকা 

অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস আপনার ডিভাইসের নিরাপত্তা দুর্বল করতে পারে। তাই, শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় অ্যাপস ইনস্টল করুন এবং নিয়মিতভাবে অব্যবহৃত অ্যাপস আনইনস্টল করুন। অ্যাপস ডাউনলোড করার আগে রিভিউ এবং রেটিং চেক করুন। এছাড়াও, অ্যাপসের পারমিশনগুলো ভালোভাবে দেখে নিন। সন্দেহজনক কিছু দেখলে সেই অ্যাপস ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকুন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow