পাবিপ্রবিতে কবি মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকার স্মরণে সেমিনার অনুষ্ঠিত
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম নারী কবি মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকার স্মরণে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় সেমিনারটি বিশ্ববিদ্যালয়েরে ২য় গ্যালারী শুরু হয়ে দুপুর ১টায় শেষ হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মো. শামীম। মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা ১৯০৬ সালে পাবনা জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার কাব্যগ্রন্থ হলো পশারিণী, মন ও মৃত্তিকা এবং অরণ্যের সুর। উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মো. শামীম বলেন, 'আমরা আজ স্মরণ করছি বাংলা সাহিত্যের এক বিশিষ্ট কবি, প্রাবন্ধিক, নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং পাবনার গৌরবময় সন্তান মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকাকে। কোনো জাতির অগ্রযাত্রা কেবল রাজনৈতিক ইতিহাসের মাধ্যমে নির্ধারিত হয় না; সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং জ্ঞানচর্চাও সেই যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। একজন সাহিত্যিক তার সময়কে ধারণ করেন, সমাজের মনস্তত্ত্বকে প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চিন্তার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা ছিলেন তেমনই এ
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম নারী কবি মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকার স্মরণে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় সেমিনারটি বিশ্ববিদ্যালয়েরে ২য় গ্যালারী শুরু হয়ে দুপুর ১টায় শেষ হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মো. শামীম। মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা ১৯০৬ সালে পাবনা জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার কাব্যগ্রন্থ হলো পশারিণী, মন ও মৃত্তিকা এবং অরণ্যের সুর।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মো. শামীম বলেন, 'আমরা আজ স্মরণ করছি বাংলা সাহিত্যের এক বিশিষ্ট কবি, প্রাবন্ধিক, নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং পাবনার গৌরবময় সন্তান মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকাকে। কোনো জাতির অগ্রযাত্রা কেবল রাজনৈতিক ইতিহাসের মাধ্যমে নির্ধারিত হয় না; সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং জ্ঞানচর্চাও সেই যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। একজন সাহিত্যিক তার সময়কে ধারণ করেন, সমাজের মনস্তত্ত্বকে প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চিন্তার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা ছিলেন তেমনই একজন সাহিত্যিক, যিনি তার সময়কে অতিক্রম করে আজও আমাদের কাছে প্রাসঙ্গিক।'
বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মীর হুমায়ূন কবীরের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. গিয়াস শামীম, স্বাগত বক্তা ছিলেন পাবিপ্রবি’র বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আবদুল আলীম, প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তানভীর হায়দার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জোবায়ের আব্দুল্লাহ। আলোচক ছিলেন পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. রুহুল আমীন এবং বাংলা একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা মামুন সিদ্দিকী।
আলোচকরা মাহমুদা খাতুনের জীবন, দর্শন, সাহিত্য সাধনা, কৃতী, তার অবদান, নারী জাগরণ, জীবনবোধ, সমাজ, নারীর শিক্ষা, প্রেম ও প্রকৃতি প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মো. শামীম সেমিনারে বলেন, 'মাহমুদা খাতুন বাংলা সাহিত্যে মুসলিম নারী লেখকদের অগ্রপথিকদের অন্যতম। তার কবিতায় মানবতা, দেশপ্রেম, নৈতিকতা, সৌন্দর্যবোধ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের এক অপূর্ব সমন্বয় দেখা যায়। তার সাহিত্যকর্ম আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সাহিত্য কেবল আবেগের প্রকাশ নয়; এটি সমাজকে দেখার এবং সমাজকে বদলে দেওয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও প্রশাসক হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, স্থানীয় ইতিহাস ও স্থানীয় কৃতী ব্যক্তিত্বদের নিয়ে গবেষণা জাতীয় জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের অনেক বিশিষ্ট সাহিত্যিকের জীবন ও কর্ম নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা হয়নি। মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তার সাহিত্যকর্ম নিয়ে আরও গভীর গবেষণা, পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ, রচনাসমগ্র প্রকাশ এবং ডিজিটাল সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
আজকের এই সেমিনার তাই কেবল একটি স্মরণানুষ্ঠান নয়; এটি গবেষণার নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আমরা বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ডিজিটাল যোগাযোগের বিস্ময়কর অগ্রগতি আমাদের জীবনকে পরিবর্তন করছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের মধ্যেও মানবিক মূল্যবোধের প্রয়োজন কমে যায়নি; বরং আরও বেড়েছে।
বিজ্ঞান আমাদের শক্তি দেয়, 'প্রযুক্তি আমাদের সক্ষমতা বাড়ায়, কিন্তু সাহিত্য আমাদের মানুষ হতে শেখায়। সাহিত্য মানুষের কল্পনাশক্তি, সহমর্মিতা এবং নৈতিক চেতনাকে বিকশিত করে। একটি উন্নত জাতি গঠনের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশও অপরিহার্য। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এই সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্বাস করে। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু দক্ষ পেশাজীবী নয়, বরং মানবিক, দায়িত্বশীল এবং সাংস্কৃতিকভাবে সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক। সেই লক্ষ্য অর্জনে সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার বিকল্প নেই।'
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিভাগের শিক্ষক মুহাম্মদ নুরুন্নবী।
What's Your Reaction?