পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বিষয়ে উদ্বিগ্ন ৩৫ নাগরিক

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিকে বরখেলাপ করে একজন অপাহাড়ী এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসী নন এমন একজন ব্যক্তিকে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পদায়নে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক। এছাড়া অবিলম্বে তাকে অন্য মন্ত্রণালয়ে পদায়নের দাবিও জানান তারা। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এসব দাবি জানান। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছেন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি। যার জন্য আমরা অভিবাদন জানাচ্ছি। এছাড়া নবগঠিত সরকারের মন্ত্রিসভায় রাঙ্গামাটি-২৯৯ আসন থেকে নির্বাচিত সাংসদ দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে গঠিত ও পরিচালিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী হিসেবে পদায়ন করায় আমরা সাধুবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমরা আশা করি তার নেতৃত্বে আগামীতে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিবাদমান সমস্যা ও সংকট নিরসন এবং পাহাড়ের অধিবাসীদের সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণে সক্ষম হবে। বিবৃতিতে বিশিষ্টজনেররা বলেন, আমরা

পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বিষয়ে উদ্বিগ্ন ৩৫ নাগরিক

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিকে বরখেলাপ করে একজন অপাহাড়ী এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসী নন এমন একজন ব্যক্তিকে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পদায়নে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক। এছাড়া অবিলম্বে তাকে অন্য মন্ত্রণালয়ে পদায়নের দাবিও জানান তারা।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এসব দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছেন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি। যার জন্য আমরা অভিবাদন জানাচ্ছি। এছাড়া নবগঠিত সরকারের মন্ত্রিসভায় রাঙ্গামাটি-২৯৯ আসন থেকে নির্বাচিত সাংসদ দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে গঠিত ও পরিচালিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী হিসেবে পদায়ন করায় আমরা সাধুবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমরা আশা করি তার নেতৃত্বে আগামীতে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিবাদমান সমস্যা ও সংকট নিরসন এবং পাহাড়ের অধিবাসীদের সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণে সক্ষম হবে।

বিবৃতিতে বিশিষ্টজনেররা বলেন, আমরা একইসঙ্গে অতীব উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠিত যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির (ঘ) খণ্ডের ১৯ ধারায় স্পষ্টভাবে বর্ণিত ‌‘উপজাতীয়দের মধ্য হইতে একজন মন্ত্রী নিয়োগ করিয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক একটি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হইবে’ কে অনুসরণ করে রাঙ্গামাটির সাংসদ দীপেন দেওয়ানকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করলেও চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) থেকে নির্বাচিত সাংসদ মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনকে একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ করে উক্ত ধারাকে ভঙ্গ করেছে নবনির্বাচিত সরকার।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মধ্য দিয়ে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মূল কাজ হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কিত বাংলাদেশ সরকারের সামগ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে পাহাড়ের অধিবাসীদের কার্যকরী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে নির্বাহী সংস্থা হিসেবে বিভিন্ন উদ্যোগ ও কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়া। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সরকারের কর্মকাণ্ডের মধ্যে পাহাড়ের আদিবাসীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাও এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। কাজেই এটা খুবই স্বাভাবিক যে, মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত নির্বাহী দায়িত্বে যতজনই থাকুক না কেন সবাই পাহাড়ি বা পাহাড়ের অধিবাসী পাহাড়ি নাগরিক হবেন। তাই পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরের এবং অপাহাড়ী একজনকে প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত করার মধ্য দিয়ে পার্বত্য চুক্তিকে চরমভাবে বরখেলাপ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আমরা এযাবৎকালে আরও লক্ষ্য করেছি যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিযুক্তির ক্ষেত্রে পাহাড়ের পাহাড়ি নাগরিকদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত নগণ্য। এক্ষেত্রে পার্বত্য চুক্তির মূল প্রস্তাবনা ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি উপজাতীয় অধ্যুষিত অঞ্চল’ হবে তার প্রতিফলনও আমরা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে খুঁজে পাইনি। অন্যদিকে বর্তমানে সরকারের নেতৃত্বে থাকা বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার ২ নম্বর দফার ‘সম্প্রীতিমূলক সমন্বিত রাষ্ট্রসত্তা (রেইনবো নেইশন)’ প্রতিষ্ঠার ধারণার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

এমতাবস্থায় আমরা নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে নিয়োজিত মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনকে অন্য মন্ত্রণালয়ে পদায়ন এবং উক্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিযুক্তির ক্ষেত্রে পাহাড়ি আদিবাসী নাগরিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

আরমান খান/এনএইচআর/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow