মারিয়াম সর্বজয়া শানু আজাদ, শিল্পী জিনাত সানু স্বাগতার মেয়ে। দুমাস আগে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে জন্মেছে। সম্প্রতি মায়ের সঙ্গে ফিরেছে মাতৃভূমিতে। কিন্তু পাসপোর্ট ছাড়াই কীভাবে বাংলাদেশে এলো সর্বজয়া?
২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে প্রেমিক হাসান আজাদকে বিয়ে করেন স্বাগতা। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ছিল তাদের প্রথম বিবাহবার্ষিকী। ঢাকার একটি কনভেনশন সেন্টারে বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে একটি পুনর্মিলনীর আয়োজন করেছিল এই দম্পতি। উপস্থিত অতিথি-স্বজনদের তখনই তারা জানান, মা হতে যাচ্ছেন স্বাগতা।
অধিকতর নিরাপদ মাতৃত্বের প্রত্যাশায় ব্যাংককে গিয়েছিলেন স্বাগতা ও হাসান। সেখানকার একটি হাসপাতালে জন্ম নেয় সর্বজয়া। সেখান থেকেই জাগো নিউজকে মেয়ের জন্মের সুখবর জানিয়েছিলেন স্বাগতা। সম্প্রতি মেয়েকে নিয়ে দেশে ফিরেছেন অভিনেত্রী। শুরু হয়েছে নিজ দেশে নতুন মায়ের নতুন এক জীবন। কেমন কাটছে তার? জানতে চাইলে জাগো নিউজকে স্বাগতা বলেন, ‘আগে মন যা চাইতো, তাই করতাম। স্বামী কিছু বলতো না। এখন দায়িত্ব বেড়ে গেছে। সর্বজয়াকে সময় দিতে হয়। ওর জন্মের আগে নতুন করে গানের স্কুলটা শুরু করে গিয়েছিলাম। এখন সেখানে নিয়মিত ক্লাস চলছে। সেখানেও সময় দিতে হচ্ছে, এ ছাড়া আমাদের ব্যবসায়িক কাজেও কিছুটা সময় দিতে হয়।’
পাসপোর্ট ছাড়া কীভাবে দেশে ঢুকলো সর্বজয়া? বাবা ব্রিটিশ, মা বাংলাদেশি, কী হবে ওর জাতীয়তা? জানতে চাইলে স্বাগতা বলেন, ‘নবজাতক শিশুর পাসপোর্ট প্রয়োজন হয় না। ওকে ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে দেশে এনেছি। মা-বাবার কল্যাণে সে দুই দেশেরই নাগরিক হবে।’
দেশে ফিরে আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন স্বাগতা। সম্প্রতি একটি দেশি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেছেন তিনি। স্বাগতা বলেন, ‘বেবি হলে সাধারণত ছয় মাস কেউ কাজ করে না। আমিও করতে চাইছিলাম না। তারা খুব করে অনুরোধ করলো, বললো সব ব্যবস্থা রাখবে, কোনো অসুবিধা হবে না। তাই রাজি হয়ে গেলাম। যখন শুট ছিল, সর্বজয়া কাছে ছিল না। তা ছাড়া সবসময় আমার কাছে ছিল।’
শিশুশিল্পী হিসেবে ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতায় ছড়াগান বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছিলেন স্বাগতা। ২০০৫ সালে ‘ইউ গট দ্য লুক’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে ছোটপর্দায় আসেন তিনি। ২০০৭ সালে মান্নার বিপরীতে ‘শত্রু শত্রু খেলা’ সিনেমা দিয়ে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। এ ছাড়া ‘মহাকাল’ নামে একটি ব্যান্ডদলের সদস্য তিনি। অভিনেত্রীকে সবশেষ দেখা গেছে ‘দেয়ালের দেশ' সিনেমায়।
এমআই/আরএমডি/এএসএম