পিকআপ-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষ, কেড়ে নিল বাবা-ছেলের প্রাণ

ময়মনসিংহের সদর উপজেলায় পিকআপ ভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একই পরিবারের আরও তিন সদস্য অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও মারাত্মক মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছেন। শনিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট আঞ্চলিক সড়কের আলালপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- হালুয়াঘাট উপজেলার বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) এবং তার চার বছর বয়সী ছেলে রোহান মিয়া। তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম পরিবার নিয়ে ময়মনসিংহ শহর থেকে অটোরিকশাযোগে নিজ বাড়ি হালুয়াঘাটে ফিরছিলেন। অটোরিকশাটিতে তার স্ত্রী রূপালী আক্তার, বড় ছেলে রাফি মিয়া (৮), ছোট ছেলে রোহান মিয়া (৪) এবং শ্যালিকা শেফালী আক্তার ছিলেন। পথিমধ্যে অটোরিকশাটি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আলালপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই জাহাঙ্গীর আলম ও তার চার বছরের শিশু সন্তান রোহান মিয়ার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলমের বড় ছেলে রাফি মিয়ার কপ

পিকআপ-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষ, কেড়ে নিল বাবা-ছেলের প্রাণ

ময়মনসিংহের সদর উপজেলায় পিকআপ ভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একই পরিবারের আরও তিন সদস্য অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও মারাত্মক মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছেন।

শনিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট আঞ্চলিক সড়কের আলালপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- হালুয়াঘাট উপজেলার বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) এবং তার চার বছর বয়সী ছেলে রোহান মিয়া। তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম পরিবার নিয়ে ময়মনসিংহ শহর থেকে অটোরিকশাযোগে নিজ বাড়ি হালুয়াঘাটে ফিরছিলেন। অটোরিকশাটিতে তার স্ত্রী রূপালী আক্তার, বড় ছেলে রাফি মিয়া (৮), ছোট ছেলে রোহান মিয়া (৪) এবং শ্যালিকা শেফালী আক্তার ছিলেন। পথিমধ্যে অটোরিকশাটি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আলালপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই জাহাঙ্গীর আলম ও তার চার বছরের শিশু সন্তান রোহান মিয়ার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলমের বড় ছেলে রাফি মিয়ার কপালে সামান্য আঘাত লাগে। পরে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরিবারের অন্য সদস্যরা শারীরিকভাবে গুরুতর আহত না হলেও চোখের সামনে স্বজনদের এমন মৃত্যুতে মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুটি মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল ও নিহতদের বাড়ির পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট সড়কে দীর্ঘদিন ধরেই বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল করছে। চালকদের অসচেতনতা, অতিরিক্ত গতি এবং ট্রাফিক নিয়ম অমান্য করার কারণে এই সড়কে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে নিয়মিত নজরদারি বৃদ্ধি, গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, পিকআপ ভ্যান ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানসহ এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow