পিতৃত্বের স্বপ্ন কি অধরা থেকে যাচ্ছে? জেনে নিন অন্তরালের ৩ কারণ

দীর্ঘদিন ধরে সমাজ বন্ধ্যাত্বকে কেবল নারীর স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখে আসলেও আধুনিক গবেষণা ভিন্ন কথা বলছে। ইউরোলজিস্ট এবং অ্যান্ড্রোলজিস্ট ড. সঞ্জয় প্রকাশ জে-এর মতে, বর্তমানে প্রায় অর্ধেক বন্ধ্যা দম্পতির ক্ষেত্রে পুরুষদের শারীরিক কারণ দায়ী থাকে। অনেক সময় পুরুষদের যৌন আকাঙ্ক্ষা বা সক্ষমতা স্বাভাবিক থাকলেও শুক্রাণু উৎপাদনে সমস্যা থাকতে পারে, কারণ যৌন সক্ষমতা এবং প্রজনন ক্ষমতা এক বিষয় নয়। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ কাজ করে: ১. জীবনধারা বা লাইফস্টাইল: আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাস প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, অপর্যাপ্ত ঘুম, স্থূলতা এবং দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার অভ্যাস শুক্রাণু উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে। এছাড়া ধূমপান, ভ্যাপিং, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং বডিবিল্ডিংয়ের জন্য অ্যানাবলিক স্টেরয়েডের ক্রমবর্ধমান অপব্যবহার প্রজনন ক্ষমতার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। এমনকি পরিবেশ দূষণ ও বিভিন্ন রাসায়নিকের প্রভাবও এক্ষেত্রে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২. শারীরিক অসুস্থতা ও মেডিকেল কন্ডিশন: বিভিন্ন রোগ বা শারীরিক অবস্থার ক

পিতৃত্বের স্বপ্ন কি অধরা থেকে যাচ্ছে? জেনে নিন অন্তরালের ৩ কারণ

দীর্ঘদিন ধরে সমাজ বন্ধ্যাত্বকে কেবল নারীর স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখে আসলেও আধুনিক গবেষণা ভিন্ন কথা বলছে।

ইউরোলজিস্ট এবং অ্যান্ড্রোলজিস্ট ড. সঞ্জয় প্রকাশ জে-এর মতে, বর্তমানে প্রায় অর্ধেক বন্ধ্যা দম্পতির ক্ষেত্রে পুরুষদের শারীরিক কারণ দায়ী থাকে। অনেক সময় পুরুষদের যৌন আকাঙ্ক্ষা বা সক্ষমতা স্বাভাবিক থাকলেও শুক্রাণু উৎপাদনে সমস্যা থাকতে পারে, কারণ যৌন সক্ষমতা এবং প্রজনন ক্ষমতা এক বিষয় নয়।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ কাজ করে:

১. জীবনধারা বা লাইফস্টাইল: আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাস প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, অপর্যাপ্ত ঘুম, স্থূলতা এবং দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার অভ্যাস শুক্রাণু উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে। এছাড়া ধূমপান, ভ্যাপিং, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং বডিবিল্ডিংয়ের জন্য অ্যানাবলিক স্টেরয়েডের ক্রমবর্ধমান অপব্যবহার প্রজনন ক্ষমতার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। এমনকি পরিবেশ দূষণ ও বিভিন্ন রাসায়নিকের প্রভাবও এক্ষেত্রে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২. শারীরিক অসুস্থতা ও মেডিকেল কন্ডিশন: বিভিন্ন রোগ বা শারীরিক অবস্থার কারণেও বন্ধ্যাত্ব হতে পারে। ‘ভ্যারিকোসিল’ (অণ্ডকোষের চারপাশের শিরা ফুলে যাওয়া) পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের অন্যতম সাধারণ কারণ, যা সঠিক চিকিৎসায় নিরাময়যোগ্য। এছাড়া ডায়াবেটিস, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, থাইরয়েড রোগ, অতীতে হওয়া মাম্পস বা যৌনবাহিত সংক্রমণ শুক্রাণুর গুণমান ও সংখ্যা কমিয়ে দিতে পারে। কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন থেরাপির ইতিহাস থাকলেও প্রজনন ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৩. জেনেটিক বা বংশগত কারণ: বর্তমানে বংশগত কারণেও অনেক পুরুষের শুক্রাণুর অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ছে। ক্রোমোজোমের অস্বাভাবিকতা বা 'ওয়াই-ক্রোমোজোম মাইক্রোডিলিশন'-এর মতো বংশগত সমস্যার কারণে বীর্যে শুক্রাণু একেবারে না থাকা (অ্যাজোস্পার্মিয়া) বা শুক্রাণুর সংখ্যা অত্যন্ত কম হতে পারে। যদিও এই রোগ নির্ণয় মানসিকভাবে কঠিন হতে পারে, তবে আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির সহায়তায় এখন অনেক পুরুষই পিতৃত্বের স্বাদ গ্রহণ করতে পারছেন।

কখন পরীক্ষা করানো প্রয়োজন?

যদি কোনো দম্পতি এক বছর নিয়মিত চেষ্টা করার পরও সন্তান ধারণে সক্ষম না হন, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যাদের বয়স ৩৫ বছরের বেশি, তাদের ক্ষেত্রে ছয় মাস পর থেকেই পরীক্ষা শুরু করা যেতে পারে। এছাড়া যাদের জননেন্দ্রিয়তে অস্ত্রোপচারের ইতিহাস, ক্যান্সার চিকিৎসা বা স্টেরয়েড ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আছে, তাদের দেরি না করে দ্রুত পরীক্ষা করানো জরুরি।

বিশেষজ্ঞের মতে, বিয়ের আগে বা নিয়মিত বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে প্রজনন স্বাস্থ্যের পরীক্ষা করানো বুদ্ধিমানের কাজ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow