পুতিনকে ‘পাগল’ বলায় ট্রাম্পকে ‘আবেগপ্রবণ’ বলল মস্কো

3 months ago 33

ইউক্রেনে ব্যাপক ও নির্মম ড্রোন হামলার পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘একেবারে পাগল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের এই তীব্র আক্রমণের জবাব দিয়েছে মস্কো।

সোমবার (২৬ মে) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ক্রেমলিন ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ‘অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ’ ও ‘আবেগগত চাপের ফল’ হিসেবে বিবেচনা করছে।

তবে ক্রেমলিন একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানায় ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার সূচনা করায় সহযোগিতার জন্য। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের আবেগীয় প্রতিক্রিয়াকে আমরা বুঝতে পারি, তবে আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু করার ক্ষেত্রে আমরা তার আন্তরিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞ।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, এই ধরনের মন্তব্য অবশ্যই ট্রাম্পের অতিরিক্ত আবেগের প্রতিফলন। তবে আমরা মার্কিনদের এবং ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞ যে তারা আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু করতে সহযোগিতা করেছেন।

এর আগে, পুতিনকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, আমি তার ওপর খুশি নই। যখন যুদ্ধ শেষ করার জন্য আলোচনা শুরু হয়েছিল এবং তা মাঝামাঝি পর্যায়ে ছিল, তখন পুতিন কিয়েভ ও অন্যান্য শহরে ড্রোন হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। এটা আমার ভালো লাগেনি।

যদি এই ধরনের হামলা আবার হয়, তবে তিনি রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। যদিও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকের কথাও ট্রাম্প তিরস্কার করেছেন।

প্রসঙ্গত, ট্রাম্পের এই মন্তব্য মূলত রাশিয়ার ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক তীব্র বিমান হামলার প্রেক্ষিতে করা। তিনি বলেন, পুতিন অকারণে সাধারণ মানুষ হত্যা করছেন এবং ইউক্রেনের পুরো অঞ্চল দখলের চেষ্টা করছেন। এই বক্তব্য তিনি তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেন।

তবে মস্কো ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ’ হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত তিন রাত ধরে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে প্রবল বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। 

কিয়েভের দাবি, শনিবার রাতে রাশিয়া ৩৬৭টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। যদিও রবিবার থেকে হামলার মাত্রা কিছুটা কমে আসলেও ইউক্রেনজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

Read Entire Article