পুরান ঢাকায় কাটেনি ঈদের ছুটির রেশ, অলিগলিতে নেই চিরচেনা কোলাহল
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ১১টা। পুরান ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা লক্ষ্মীবাজারের সুভাষ বসু অ্যাভিনিউ। সাধারণ দিনে যেখানে সকাল থেকেই মানুষের ভিড়, ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাক, রিকশার সারি ও যানজটের চিরচেনা দৃশ্য দেখা যায়, সেখানে এখন ভিন্ন এক চিত্র। সড়কের দুই পাশের অধিকাংশ দোকানের শাটার বন্ধ। লোকজনের উপস্থিতিও তুলনামূলক অনেক কম। শুধু সুভাষ বসু অ্যাভিনিউ নয়, লক্ষ্মীবাজারের অন্যান্য সড়কের পাশাপাশি সূত্রাপুর, বংশাল, ওয়ারী ও শাঁখারীবাজার ঘুরেও একই দৃশ্য দেখা গেছে। পুরো এলাকায় যেন এখনো ঈদুল আজহার ছুটির আমেজ চলছে। অলিগলিতে ফিরে আসেনি চিরচেনা ব্যবসার কোলাহল। ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষায়, পুরান ঢাকায় এখনো পুরোপুরি কাটেনি ‘ঈদ ভাইব’। ঈদের আগে যেভাবে ভিড় থাকে, এখন তার ছিটেফোঁটাও নেই। অনেক পরিবার এখনো গ্রামের বাড়িতে আছে। স্কুল-কলেজও পুরোপুরি শুরু হয়নি। তাই এলাকার পরিবেশ এখনো ছুটির মতোই লাগছে।- লক্ষ্মীবাজারের বাসিন্দা মো. আবদুল করিম ফাঁকা অলিগলি, নেই চেনা ব্যস্ততা পুরান ঢাকার সরু অলিগলিগুলো সাধারণত সকাল থেকেই কর্মচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে। তবে বর্তমানে অনেক সড়ক ও গলিতে মানুষের চলাচল কম। দোকানপাটের বড় অংশ
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ১১টা। পুরান ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা লক্ষ্মীবাজারের সুভাষ বসু অ্যাভিনিউ। সাধারণ দিনে যেখানে সকাল থেকেই মানুষের ভিড়, ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাক, রিকশার সারি ও যানজটের চিরচেনা দৃশ্য দেখা যায়, সেখানে এখন ভিন্ন এক চিত্র। সড়কের দুই পাশের অধিকাংশ দোকানের শাটার বন্ধ। লোকজনের উপস্থিতিও তুলনামূলক অনেক কম।
শুধু সুভাষ বসু অ্যাভিনিউ নয়, লক্ষ্মীবাজারের অন্যান্য সড়কের পাশাপাশি সূত্রাপুর, বংশাল, ওয়ারী ও শাঁখারীবাজার ঘুরেও একই দৃশ্য দেখা গেছে। পুরো এলাকায় যেন এখনো ঈদুল আজহার ছুটির আমেজ চলছে। অলিগলিতে ফিরে আসেনি চিরচেনা ব্যবসার কোলাহল। ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষায়, পুরান ঢাকায় এখনো পুরোপুরি কাটেনি ‘ঈদ ভাইব’।
ঈদের আগে যেভাবে ভিড় থাকে, এখন তার ছিটেফোঁটাও নেই। অনেক পরিবার এখনো গ্রামের বাড়িতে আছে। স্কুল-কলেজও পুরোপুরি শুরু হয়নি। তাই এলাকার পরিবেশ এখনো ছুটির মতোই লাগছে।- লক্ষ্মীবাজারের বাসিন্দা মো. আবদুল করিম
ফাঁকা অলিগলি, নেই চেনা ব্যস্ততা
পুরান ঢাকার সরু অলিগলিগুলো সাধারণত সকাল থেকেই কর্মচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে। তবে বর্তমানে অনেক সড়ক ও গলিতে মানুষের চলাচল কম। দোকানপাটের বড় অংশ এখনো বন্ধ। রিকশার সংখ্যাও তুলনামূলক কম দেখা গেছে।
লক্ষ্মীবাজারের বাসিন্দা মো. আবদুল করিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঈদের আগে যেভাবে ভিড় থাকে, এখন তার ছিটেফোঁটাও নেই। অনেক পরিবার এখনো গ্রামের বাড়িতে আছে। স্কুল-কলেজও পুরোপুরি শুরু হয়নি। তাই এলাকার পরিবেশ এখনো ছুটির মতোই লাগছে।’
ফাঁকা রাস্তায় চলছে শুধু দু-একটি রিকশা/ছবি: জাগো নিউজ
বেচাকেনা কম, খুলছে না দোকান
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের ছুটির পরও বাজার পুরোপুরি সচল না হওয়ার প্রধান কারণ ক্রেতা সংকট। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করেনি। ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আনাগোনাও কম।
লক্ষ্মীবাজারের স্টেশনারি ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাধারণ দিনে সকাল ৯টার মধ্যে দোকান খুলে ফেলি। কিন্তু এখন দুপুর পর্যন্তও অনেক দোকান বন্ধ থাকে। ক্রেতা নেই বললেই চলে। বিক্রিও অনেক কম।’
বংশালের কাপড় ব্যবসায়ী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের অনেক কর্মচারী ও দোকান মালিক গ্রামের বাড়িতে আছেন। সবাই এখনো ফেরেননি। তাই ব্যবসা আগের গতিতে ফিরতে সময় লাগবে।’
আরও পড়ুন
সন্ধ্যায় হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ হলে ধস নামবে ব্যবসায়
সন্ধ্যা ৭টায় দোকান বন্ধ নয়, সরকারকে বিকল্প ভাবতে হবে
অবিক্রীত ৩১ লাখ কোরবানিযোগ্য পশু খামারিদের ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’
এ নিয়ে কথা হলে ওয়ারী এলাকার ব্যবসায়ী মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ‘পুরান ঢাকার অর্থনীতি অনেকটাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের ওপর নির্ভরশীল। এলাকায় মানুষ কম থাকলে বেচাকেনাও কম হয়।’
ঈদ মেলায় দর্শনার্থীদের ভিড়
পুরান ঢাকায় ঈদ উপলক্ষে আয়োজিত কয়েকটি অস্থায়ী মেলা চলছে। এসব মেলায় শিশুদের খেলনা, কসমেটিকস, গৃহস্থালি সামগ্রী ও খাদ্যপণ্য বিক্রির পাশাপাশি বিভিন্ন বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
শাঁখারীবাজার এলাকায় আয়োজিত মেলায় পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ হোসেন বলেন, ‘পুরান ঢাকা সাধারণত সব সময় ব্যস্ত থাকে। কিন্তু এখন অনেক শান্ত লাগছে। মেলায় কিছুটা প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে।’
ঈদের ছুটি ঘিরে চলছে অস্থায়ী মেলা/ছবি: জাগো নিউজ
মেলায় অংশ নেওয়া সোহেল রানা জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে মানুষ বেশ ভালো সাড়া দিয়েছে। এখনো অনেক পরিবার ঢাকায় ফিরছে। তাই আমরা শুক্রবার পর্যন্ত মেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
মেলার আয়োজক মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘শিশুদের জন্য বিভিন্ন রাইড ও খেলনার ব্যবস্থা রয়েছে। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ভালো থাকে।’
পরিবার নিয়ে লক্ষ্মীবাজারের মেলায় ঘুরতে আসা গেন্ডারিয়ার বাসিন্দা নাসরিন আক্তার বলেন, ‘ঈদের পর বাচ্চাদের নিয়ে একটু বাইরে বের হই। পুরান ঢাকার এই মেলাগুলো পরিসরে ছোট হলেও পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর ভালো জায়গা।’
কলেজ শিক্ষার্থী তানভীর হাসান বলেন, ‘এখনো পুরো শহর স্বাভাবিক হয়নি। তবে মেলাগুলোতে এসে মনে হচ্ছে ঈদের আনন্দ কিছুটা ধরে রাখা গেছে।’
ঈদের ছুটিতে মানুষ বেশ ভালো সাড়া দিয়েছে। এখনো অনেক পরিবার ঢাকায় ফিরছে। তাই আমরা শুক্রবার পর্যন্ত মেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।- মেলায় অংশ নেওয়া সোহেল রানা
আদালতপাড়াও ফাঁকা
অধস্তন আদালতের বিচারকদের অবকাশকালীন ছুটি এবার নতুন নিয়মে দুই ধাপে ভাগ করা হয়েছে। চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের ফুলকোর্ট সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জুনের প্রথমার্ধে ১৫ দিন এবং ডিসেম্বরের শেষার্ধে ১৫ দিন অবকাশকালীন ছুটি ভোগ করবেন নিম্ন আদালতের বিচারকরা। এ বছর থেকেই নতুন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
এরই অংশ হিসেবে পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে অবস্থিত ঢাকার আদালতপাড়ায়ও ছুটির প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি ছুটি ও অবকাশকালীন ছুটি মিলিয়ে আদালতপাড়ার স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য অনেকটাই কমে গেছে। বছরের অন্যান্য সময় যেখানে আদালত চত্বরে বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, মামলার পক্ষভুক্ত ব্যক্তি ও বিভিন্ন সেবাগ্রহীতাদের পদচারণায় পরিবেশ মুখর থাকে, সেখানে বর্তমানে তুলনামূলক নির্জন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
ঈদ ও অবকাশকালীন ছুটি মিলিয়ে আদালতপাড়ার কর্মচাঞ্চল্য অনেকটাই কমে গেছে/ছবি: জাগো নিউজ
জরুরি প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হাতেগোনা কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনজীবী আদালতে আসছেন। অধিকাংশ এজলাসে বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আদালত চত্বরের বড় অংশই দিনের বেশিরভাগ সময় ফাঁকা দেখা যায়। আদালতে লোকসমাগম কমে যাওয়ায় চত্বরে থাকা ক্যানটিন, চায়ের দোকান, ফটোকপি ও স্টেশনারি দোকানসহ আশপাশের অনেক ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ রয়েছে। যেসব দোকান খোলা রয়েছে, সেগুলোতেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ক্রেতার উপস্থিতি খুবই কম।
তবে এই ছুটির মধ্যেও আলোচিত শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম চলমান থাকায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। মামলাটির দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। ফলে শুনানির দিনগুলোতে বিচারক, রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবী, পুলিশ সদস্য এবং আদালতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত উপস্থিত থাকছেন।
আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক কার্যকর হলে নতুন চাপে পড়তে পারে রপ্তানি খাত
কেন ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না রপ্তানি খাত?
পরোক্ষ করে ভর করে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটের ছক
এছাড়া মামলাটি ব্যাপক জনআগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকায় শুনানির সময় আদালতকক্ষে ও আদালত প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। অন্যান্য আদালত ও এজলাস তুলনামূলক ফাঁকা থাকলেও শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের আশপাশে বিচার কার্যক্রমকে ঘিরে কিছুটা কর্মচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে অবকাশকালীন ছুটিতে যখন পুরান ঢাকার আদালতপাড়ার অধিকাংশ অংশে নীরবতা বিরাজ করছে, তখন রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম ঘিরে একটি ট্রাইব্যুনালেই সীমিত পরিসরে সচল রয়েছে আদালতের পরিবেশ। অন্যদিকে আদালতকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যও কার্যত বন্ধ রয়েছে।
সড়কের পাশের অধিকাংশ দোকানের শাটার নামানো/ছবি: জাগো নিউজ
ধীরে ধীরে ফিরবে চেনা রূপ
স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, আগামী সপ্তাহে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুরোপুরি চালু হলে পুরান ঢাকার স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসবে। তখন আবারও রিকশার ঘণ্টা, ক্রেতাদের ভিড় আর ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততায় মুখর হয়ে উঠবে এলাকার ঐতিহ্যবাহী গলিগুলো।
তবে আপাতত পুরান ঢাকার অলিগলিতে এখনো ঈদের ছুটির রেশ স্পষ্ট। বন্ধ দোকান, ফাঁকা রাস্তা আর চলমান ঈদ মেলাগুলো যেন জানিয়ে দিচ্ছে- পুরোনো শহরে এখনো শেষ হয়নি ঈদের আমেজ।
এমডিএএ/একিউএফ
What's Your Reaction?