নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পাশাপাশি দুটি ঘরে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে একই পরিবারের ৯ সদস্য আহতের ঘটনায় নতুন মোড় নিচ্ছে। দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বাসায় থাকা ফ্রিজের কম্প্রেসারে শর্টসার্কিটের কথা জানানো হলেও প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের অভিযোগ তিতাসের গ্যাস লিকেজ থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এটিকে ভিন্ন খাতে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।
বিস্ফোরণে আহতদের মধ্যে ইমাম উদ্দিন নামে ১ মাস বয়সী এক শিশু এরইমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে। বাকিদের মধ্যেও ২-৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এদিকে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মূল ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও তারা বিষয়টি অস্বীকার করেছেন কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনাস্থল বাড়িটিতে কোনো গ্যাসলাইন সংযুক্ত পাওয়া যায়নি।
অপরদিকে ঘটনার দু’দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত তিতাস গ্যাস কিংবা ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি।
- আরও পড়ুন-
নারায়ণগঞ্জে ফ্রিজে শর্টসার্কিট থেকে আগুন, দগ্ধ ৯ - ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তীব্র যানজট
জানা গেছে, শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ৩টার সময় (নাসিক) ১নং ওয়ার্ডের রনি সিটি আবাসিক এলাকা সংলগ্ন জাকির খন্দকারের ভাড়া বাড়িতে বিস্ফোরণ হয়ে পাশাপাশি দুটি ঘরের একই পরিবারের ৯ সদস্য গুরতর আহত হন। ঘটনার পর সেই রাতে ওই বাড়ির অন্যান্য ভাড়াটিয়াসহ প্রতিবেশীরা দগ্ধদের তাৎক্ষণিক স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একদিন পর এক শিশুর মৃত্যু হয়।
আহতদের প্রতিবেশী তানভীর নামের এক যুবক বলেন, ‘সেই রাতে আমরা ঘুমানো অবস্থায় হঠাৎ একটা বিকট শব্দ হয়। জানতে পারি তারা ৯ জন দগ্ধ হয়েছে। তখন দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করি। ফায়ার সার্ভিস বলছে এটা নাকি ফ্রিজ বিস্ফোরণ, কিন্তু আমরা তো এখনো গ্যাসের গন্ধ পাচ্ছি। পুরো বাড়িতে গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে আছে। এটার সঠিক তদন্ত না করলে বোঝা যাবে না।’
সেলিম নামের আরেকজন জানান, ‘একই বাড়িতে এরআগে আরও দু’বার গ্যাস থেকে আগুন ধরেছে। এই ঘটনাও সেম। তবে ফায়ার সার্ভিস মূল ঘটনাকে ধামাচাপা দিয়ে ফ্রিজের কথা বলছে। আমরা এর সঠিক তদন্ত চাই। দুর্ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত বাড়ি মালিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেনি।’
মূল ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে আদমজী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. মিরণ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা তিতাসের গ্যাসের কোনো আলামত পাইনি। ঘটনাস্থল ওই বাড়িতে তিতাসের লাইনও যুক্ত দেখিনি। ঘটনাকে অন্য খাতে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলে, না এখনো হয়নি। তবে আমরা তদন্ত কমিটির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন স্যারদের সঙ্গে কথা বলছি।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, আমাদেরকে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণ হয়েছে। তারা এখনো কেনো তদন্ত কমিটি করেছে কি না, এটি আমার জানা নেই। তবে অন্যান্য ঘটনায় আমরা দেখেছি অতি দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন হয়ে থাকে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আরেফিন জাগো নিউজকে বলেন, ঘটনাস্থল আমি পরিদর্শন করে এসেছি, বিস্ফোরণ হওয়া বাসা তালাবদ্ধ থাকায় ভেতরে প্রবেশ করতে পারিনি। আমরা ঘটনাকে ভিন্ন খাতে কেন নিবো? এটা একটা অতি কষ্টের বিষয়, ৯টা মানুষ দগ্ধ। আমাদের কোনো কমতি নেই। মঙ্গলবার ডিসি স্যারের সঙ্গে এ বিষয়ে মিটিং রয়েছে। এটার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
নারায়ণগঞ্জ তিতাসের উপ-মহাব্যবস্থাপক মামুনুর রশীদ জাগো নিউজকে জানান, ওই বিস্ফোরণ আমাদের তিতাস গ্যাস থেকে হয়নি। আমাদের টিম এটি পরিদর্শন করে এসেছে। ঘটনা ঘটেছে ফ্রিজ থেকেই।
তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলে, না আমরা প্রাথমিকভাবে পরিদর্শন করেছি। এখনো তদন্ত কমিটি গঠন হয়নি।
মো. আকাশ/এফএ/জেআইএম