পুলিশের নাম ব্যবহার করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় থানা পুলিশের নাম ব্যবহার করে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে ইজিবাইক চালকরা। মানববন্ধনে পুলিশের নাম নিয়ে হয়রানি, মানি না মানবো না- এমন স্লোগান দিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিক্ষোভকারীরা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে কলাপাড়া পৌরসভা প্রাঙ্গনে এ কর্মসূচি পালন করেন শতাধিক ইজি বাইক চালক।
তাদের অভিযোগ, থানায় কর্মরত পুলিশের রাত্রিকালীন দায়িত্ব পালনের নামে প্রতিদিন দুটি করে ইজিবাইক আটক করে নিয়ে যায় একটি সিন্ডিকেট। তবে যারা পুলিশের দিয়ে ইইজিবাইক নিয়ে যায়। তারা দৈনিক দুইটি ইজিবাইকের পরিবর্তে শতাধিক বাহন আটক করে চাঁদা আদায় করে। শুধু তাই নয়, টাকা দিয়েও রেহাই পাচ্ছেন না এই কর্মজীবীরা। তাই বাধ্য হয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।
বিক্ষোভকারী ইমন কালবেলাকে জানান, তিনি ধানখালী আশরাফ একাডেমী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী। দরিদ্র পিতার পাশে দাঁড়াতে প্রায় সময়ই বাবার পরিশ্রম লাঘোবে অটোরিকশা চালান তিনি। সোমবার সন্ধ্যায় তাকে পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে রাত্রিকালীন ডিউটিতে গাড়ি লাগবে বলে সাইফুলসহ আরও তিন যুবক তার ইজি বাইকটি
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় থানা পুলিশের নাম ব্যবহার করে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে ইজিবাইক চালকরা। মানববন্ধনে পুলিশের নাম নিয়ে হয়রানি, মানি না মানবো না- এমন স্লোগান দিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিক্ষোভকারীরা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে কলাপাড়া পৌরসভা প্রাঙ্গনে এ কর্মসূচি পালন করেন শতাধিক ইজি বাইক চালক।
তাদের অভিযোগ, থানায় কর্মরত পুলিশের রাত্রিকালীন দায়িত্ব পালনের নামে প্রতিদিন দুটি করে ইজিবাইক আটক করে নিয়ে যায় একটি সিন্ডিকেট। তবে যারা পুলিশের দিয়ে ইইজিবাইক নিয়ে যায়। তারা দৈনিক দুইটি ইজিবাইকের পরিবর্তে শতাধিক বাহন আটক করে চাঁদা আদায় করে। শুধু তাই নয়, টাকা দিয়েও রেহাই পাচ্ছেন না এই কর্মজীবীরা। তাই বাধ্য হয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।
বিক্ষোভকারী ইমন কালবেলাকে জানান, তিনি ধানখালী আশরাফ একাডেমী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী। দরিদ্র পিতার পাশে দাঁড়াতে প্রায় সময়ই বাবার পরিশ্রম লাঘোবে অটোরিকশা চালান তিনি। সোমবার সন্ধ্যায় তাকে পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে রাত্রিকালীন ডিউটিতে গাড়ি লাগবে বলে সাইফুলসহ আরও তিন যুবক তার ইজি বাইকটি আটক করে। এ সময় অসুস্থ মাকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার কথা বলেও রেহাই দেয়নি যুবকরা। পরে তাকে মারধর করে ইজি বাইকের চাবি ছিনিয়ে নিয়ে গেলে স্থানীয়রা ওই যুবকদের বাধা দেয়।
অপর ভুক্তভোগী আব্দুর রশিদ জানান, গাড়ি ভাড়া নিয়ে রাস্তায় চালাই, কিন্তু পুলিশের ডিউটিতে বিকেলে গাড়ি নিয়ে যায়। সারারাত ডিউটিতে গাড়ি নিয়ে ঘোরে থানা পুলিশ। এতে করে পরেরদিনও দুর্বল শরীর নিয়ে ঘুমাতে হয়। আর কিস্তির টাকা ধার করে দিতে হয়। কিন্তু থানা পুলিশ তাদের কাজে অটোরিকশা নিলেও ভাড়ার টাকা তো দূরে থাক, সারারাত এক কাপ চা-ও খাওয়ায় না। উল্টো পকেট থেকে টাকা খরচা করে মশার কয়েল কিনতে হয়। এটা এক ধরনের জুলুম।
বাদুরতলী এলাকার ভুক্তভোগী সোহাগ কালবেলাকে বলেন, পুলিশের জন্য প্রতিদিন শতাধিক গাড়ি আটক করে। গাড়ি দুইটা রেখে বাকিগুলো টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়। এটা এক ধরনের প্রকাশ্য চাঁদাবাজি। আমি ঈদের পর থেকে ১০০ করে দুইবার টাকা দিয়েছি। কিন্তু এরপরেও আমার গাড়ি থানা ডিউটিতে নিয়েছে। বিনিময়ে সারারাত কষ্ট করার পরেও একটা টাকাও দেয়নি থানা পুলিশ। এমনই অভিযোগ, ইজিবাইক চালক বাদল মিয়া, শফিকুল ইসলাম ও নুরুজ্জামানসহ আরো শতাধিক চালকের।
কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, আমি কলাপাড়া থানায় জয়েন করেছি মাত্র ৫ দিন। কেউ আমাকে অভিযোগ করেনি যে- পুলিশের নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
পুলিশের রাত্রী কালীন দায়িত্বে ইজিবাইক ব্যবহার করে ভাড়া না দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারিভাবে পুলিশের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। তাই চুরি ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপ্রীতকর ঘটনা এড়াতে আমরা ইজিবাইক ব্যবহার করে থাকি, এটা একটা সেবামূলক কাজ। তবে দুটির কথা বলে ইজি বাইক চালকদের কাছ থেকে হয়রানি করে চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া এটি কোনো চক্রের ষড়যন্ত্র কি-না তাও তদন্ত করে দেখা হবে।