পুশ-ইনের নতুন করিডোর ময়মনসিংহ-শেরপুর সীমান্ত?

আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এড়ানোর সহজ উপায় পুশ-ইন ভারতের ‘অবৈধ অভিবাসী’ ইস্যুতে বাড়ছে পুশ-ইন পুশ-ইন রোধে এক কাতারে বিজিবি-স্থানীয়রা গভীর রাত। সীমান্তের ওপারে পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসে অন্ধকার। চারদিকে নিস্তব্ধতা। হঠাৎ দূরে ভেসে আসে মানুষের চিৎকার, কান্না কিংবা অস্বাভাবিক কোলাহল। ঘুম ভেঙে যায় সীমান্তের মানুষের। জানালার ফাঁক দিয়ে তারা তাকিয়ে থাকে সীমান্তের দিকে। তাদের আশঙ্কা, আবারও কি শুরু হলো ‘পুশ-ইন’? ময়মনসিংহ ও শেরপুর সীমান্তজুড়ে এমন উদ্বেগ এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে পাঠানোর অভিযোগ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ঘন জঙ্গল, ছড়া, কৃষিজমি ও বনাঞ্চল ব্যবহার করে কথিত বাংলাদেশি নাগরিক, রোহিঙ্গা এবং অন্যান্য ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা বাড়ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট সূত্র। ‘বৈধ প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব যাচাই, প্রশাসনিক সমন্বয়, আইনি প্রক্রিয়া এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ প্রয়োজন হয়। কিন্তু পুশ-ইনের মাধ্যমে এসব প্রক্

পুশ-ইনের নতুন করিডোর ময়মনসিংহ-শেরপুর সীমান্ত?
  • আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এড়ানোর সহজ উপায় পুশ-ইন
  • ভারতের ‘অবৈধ অভিবাসী’ ইস্যুতে বাড়ছে পুশ-ইন
  • পুশ-ইন রোধে এক কাতারে বিজিবি-স্থানীয়রা

গভীর রাত। সীমান্তের ওপারে পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসে অন্ধকার। চারদিকে নিস্তব্ধতা। হঠাৎ দূরে ভেসে আসে মানুষের চিৎকার, কান্না কিংবা অস্বাভাবিক কোলাহল। ঘুম ভেঙে যায় সীমান্তের মানুষের। জানালার ফাঁক দিয়ে তারা তাকিয়ে থাকে সীমান্তের দিকে। তাদের আশঙ্কা, আবারও কি শুরু হলো ‘পুশ-ইন’?

ময়মনসিংহ ও শেরপুর সীমান্তজুড়ে এমন উদ্বেগ এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে পাঠানোর অভিযোগ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ঘন জঙ্গল, ছড়া, কৃষিজমি ও বনাঞ্চল ব্যবহার করে কথিত বাংলাদেশি নাগরিক, রোহিঙ্গা এবং অন্যান্য ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা বাড়ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট সূত্র।

‘বৈধ প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব যাচাই, প্রশাসনিক সমন্বয়, আইনি প্রক্রিয়া এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ প্রয়োজন হয়। কিন্তু পুশ-ইনের মাধ্যমে এসব প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।’

বিজিবি সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাসে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) দায়িত্বাধীন বিভিন্ন সীমান্তের নাকুগাঁও, ডালু, গোবিন্দপুর-কড়ইতলী ও সূর্যপুর-মুন্সিপাড়া পয়েন্টে একাধিক পুশ-ইন ও অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ মে নাকুগাঁও, ২৪ মে হালুয়াঘাটের কড়ইতলী, ৪ জুন ঝিনাইগাতীর ডালু ও ৮ জুন ধোবাউড়া সীমান্তের ঘটনা উল্লেখযোগ্য। এসব ঘটনায় বিজিবির টহল ও জিরো লাইনে কঠোর অবস্থানের কারণে অধিকাংশ চেষ্টা সীমান্তের ওপারেই প্রতিহত হয় এবং অনুপ্রবেশকারীরা ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

কেন বাড়ছে পুশ-ইন?

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আটক কথিত বাংলাদেশি নাগরিকদের আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে। একই সঙ্গে ভারতে অবস্থানরত কিছু রোহিঙ্গাকেও বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

‘দেশরক্ষার প্রশ্নে এখানে কোনো দল-মত নেই। বিজিবি যখন টহল দেয়, তখন স্থানীয়রাও তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে। সন্দেহজনক কাউকে দেখলে দ্রুত খবর দেওয়া হয়।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক এক সীমান্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘বৈধ প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব যাচাই, প্রশাসনিক সমন্বয়, আইনি প্রক্রিয়া এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ প্রয়োজন হয়। কিন্তু পুশ-ইনের মাধ্যমে এসব প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।’

তার মতে, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ‘অবৈধ অভিবাসী’ ইস্যুটি যত বেশি আলোচনায় আসছে, সীমান্তে ততই বাড়ছে চাপ।

ময়মনসিংহ-শেরপুর সীমান্ত কি নতুন করিডোর?

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, শেরপুর ও ময়মনসিংহ সীমান্তের কয়েকটি এলাকা বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ করিডোরে পরিণত হয়েছে। শেরপুরের নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত সীমান্ত অঞ্চল এখন নিরাপত্তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সীমান্তের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে ৮টি বিওপির মাধ্যমে নজরদারি চালাচ্ছে বিজিবি। তবে পাহাড়ি জঙ্গল, জনবিরল এলাকা ও দুর্গম সীমান্তপথকে কাজে লাগিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। ফলে সীমান্তের প্রতিটি বিওপিই এখন বাড়তি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও সীমান্তের মেইন পিলার ১১১৬ এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই সংবেদনশীল। খোলা মাঠ, পাহাড়ি টিলা ও জনবিরল সীমান্ত অঞ্চল এ পথকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

রামচন্দ্রকুড়া বিওপির অধীন পানিহাটা সীমান্তের ১১১৮ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকাও এখন আলোচনায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, গভীর রাতে এখানে প্রায়ই সন্দেহজনক চলাচল দেখা যায়।

‘সীমান্তের দায়িত্ব শুধু বিজিবির নয়, আমাদেরও। কারণ এই এলাকার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে প্রথম ক্ষতিগ্রস্ত হবো আমরা। তাই অনেক সময় গ্রামের মানুষও রাত জেগে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।’

ঝিনাইগাতীর নকশি সীমান্তের ঘন জঙ্গল ও দুর্গম পাহাড়ও অনুপ্রবেশের জন্য সুবিধাজনক বলে মনে করেন নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার গাজীরভিটা ইউনিয়নের সূর্যপুর সীমান্ত, বিশেষ করে ১১২৮ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি নজরদারির মধ্যে রয়েছে। একইভাবে ধোবাউড়ার মুন্সিপাড়া সীমান্তও নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

কারা হচ্ছেন পুশ-ইনের শিকার?

সীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, পুশ-ইনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের বড় অংশই বাংলাদেশি শ্রমিক। জীবিকার সন্ধানে কয়েক বছর আগে তারা অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন। দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই, ব্যাঙ্গালোর ও হায়দরাবাদের মতো শহরে নির্মাণশ্রমিক, গৃহকর্মী কিংবা কারখানার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন তারা। এছাড়া নারী, শিশু এবং রোহিঙ্গারাও এই প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুশ-ইনের নতুন করিডোর ময়মনসিংহ-শেরপুর সীমান্ত?

সীমান্ত পাহারায় স্থানীয়রাও

ময়মনসিংহ ও শেরপুর সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে পুশ-ইনের আশঙ্কা বাড়ার পর সীমান্ত এলাকায় বিজিবির পাশাপাশি সাধারণ মানুষও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। রাত গভীর হলে অনেক গ্রামেই স্থানীয়রা সীমান্তের পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখেন। কোথাও সন্দেহজনক চলাচলের খবর পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে বিজিবিকে অবহিত করা হয়।

হালুয়াঘাটের সূর্যপুর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘সীমান্ত আমাদের ঘরের পাশেই। দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমরা কখনো উদাসীন থাকতে পারি না। রাতে কোনো সন্দেহজনক নড়াচড়া দেখলে সঙ্গে সঙ্গে বিজিবিকে জানাই। প্রয়োজন হলে আমরাও এগিয়ে যাই।’

নালিতাবাড়ীর পানিহাটা এলাকার কৃষক মালেক সরকার বলেন, ‘সীমান্তের দায়িত্ব শুধু বিজিবির নয়, আমাদেরও। কারণ এই এলাকার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে প্রথম ক্ষতিগ্রস্ত হবো আমরা। তাই অনেক সময় গ্রামের মানুষও রাত জেগে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।’

ঝিনাইগাতীর নকশি সীমান্তের বাসিন্দা সবুজ মিয়া বলেন, ‘দেশরক্ষার প্রশ্নে এখানে কোনো দল-মত নেই। বিজিবি যখন টহল দেয়, তখন স্থানীয়রাও তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে। সন্দেহজনক কাউকে দেখলে দ্রুত খবর দেওয়া হয়।’

স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্ত এলাকায় পুশ-ইনের চেষ্টা বা অনুপ্রবেশের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেই অনেক গ্রামে সতর্কতা বেড়ে যায়। সীমান্তসংলগ্ন জনপদে বিজিবি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানও আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিজিবি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণের এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কারণ দুর্গম পাহাড়, জঙ্গল ও ছড়াবেষ্টিত অনেক এলাকায় স্থানীয়দের তথ্যই অনেক সময় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করে।

সীমান্তবাসীদের ভাষায়, দেশের সীমানা রক্ষার দায়িত্ব শুধু অস্ত্রধারীদের নয়, সীমান্তে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিকেরও। ফলে পুশ-ইনের আশঙ্কা দেখা দিলেই অনেক এলাকায় বিজিবি ও সাধারণ মানুষকে একই কাতারে দেখা যায়। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে এই জনসম্পৃক্ততাকে ইতিবাচক বলেই মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

সীমান্তের দুই পাশে সক্রিয় দালাল সিন্ডিকেট

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্রের দাবি, সীমান্তের দুই পাশেই সক্রিয় রয়েছে মানবপাচারকারী ও দালাল চক্র। এসব চক্র অবৈধ পারাপার, আশ্রয় ও পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত। ভারতের অংশের দালালরা লোকজনকে সীমান্ত পর্যন্ত নিয়ে আসে। এরপর বাংলাদেশের অংশের সহযোগীরা তাদের ভেতরের এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করে।

মানবাধিকার নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ

জাতিসংঘের কর্মকর্তা সাজাদুল করিম বলেন, কোনো ব্যক্তির জাতীয়তা, আইনি অবস্থান ও পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই না করে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতি ও স্বীকৃত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার পরিপন্থি।

তার মতে, প্রত্যেক মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং রাষ্ট্রসমূহ এ অধিকার উপেক্ষা করতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, নারী, শিশু ও প্রবীণদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে সংবেদনশীল, কারণ তারা নিরাপত্তাহীনতা, মানসিক আঘাত ও শোষণের ঝুঁকিতে বেশি থাকে। পুশ-ইনের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে প্রকৃত বাংলাদেশি, রাষ্ট্রহীন ব্যক্তি কিংবা অন্য দেশের নাগরিক থাকতে পারেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এ ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা শুধু মানবাধিকার নয়, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও মানবিক নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের বিষয় হতে পারে।

কঠোর অবস্থানে বিজিবি

৩৯ বিজিবি লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজিদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘ময়মনসিংহ ও শেরপুর সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানবপাচার এবং পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অপারেশনাল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। কোনোভাবেই বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে দেওয়া হবে না। তাছাড়া সীমান্তের কয়েকটি এলাকায় এরই মধ্যে আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে।’

পাশাপাশি সীমান্ত পরিস্থিতির খোঁজখবর রেখে বিজিবিকে সহযোগিতা করতে সীমান্তবর্তী জনসাধারণ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের আহ্বান জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, যখনই পুশ-ইনের চেষ্টা শনাক্ত হচ্ছে, তখনই বিজিবি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। প্রয়োজন হলে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।

সীমান্তের পাহাড়-জঙ্গলের আড়ালে কি নতুন সংকট?

আনন্দ মোহন কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মনজুরুল হক বলেন, ‘দুই দেশের সমঝোতার ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় থার্মাল ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস, ড্রোন নজরদারি ও স্মার্ট বর্ডার ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।’

ময়মনসিংহ ও শেরপুর সীমান্তের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বলছে পুশ-ইন এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এটি সীমান্ত নিরাপত্তা, মানবাধিকার, জননিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

সীমান্তের অন্ধকার পাহাড়ি পথ, ঘন জঙ্গল আর ছড়ার আড়ালে যখন পুশ-ইনের আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে, তখন শুধু বিজিবিই নয়, জেগে উঠছে সীমান্তের জনপদও। নির্ঘুম রাত কাটছে হাজারো মানুষের। দেশের সীমানা রক্ষার প্রশ্নে সীমান্তে আজ যেন এক কাতারে দাঁড়িয়ে আছে বিজিবি ও সাধারণ জনগণ। আর সেই সম্মিলিত সতর্কতাই এখন ময়মনসিংহ-শেরপুর সীমান্তের সবচেয়ে বড় শক্তি।

এফএ/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow