পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বাড়ছে ক্ষোভ

নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন ও নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশ নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্রমেই বাড়ছে ক্ষোভ। এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে-স্কেলের প্রত্যাশায় থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আছেন অনিশ্চয়তায়। সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে তাদের পেনশন ও অন্য আর্থিক সুবিধার বিষয়টি সরাসরি সংশ্লিষ্ট হওয়ায় তারাও সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন। সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হচ্ছে, নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর দ্রুতই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। তবে কমিশনের সুপারিশ কতটা বাস্তবায়ন হবে, নতুন বেতনকাঠামোতে কোন গ্রেডে কত টাকা নির্ধারণ করা হবে এবং তা কবে থেকে কার্যকর হবে- এসব বিষয়ে এখনো পরিষ্কার ধারণা না থাকায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। আরও পড়ুন নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে কী হচ্ছে? বিশেষ করে গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে পে-স্কেল নিয়ে নানা ধরনের তথ্য প্রকাশ হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে। এদিক

পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বাড়ছে ক্ষোভ

নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন ও নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশ নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্রমেই বাড়ছে ক্ষোভ। এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে-স্কেলের প্রত্যাশায় থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আছেন অনিশ্চয়তায়।

সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে তাদের পেনশন ও অন্য আর্থিক সুবিধার বিষয়টি সরাসরি সংশ্লিষ্ট হওয়ায় তারাও সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হচ্ছে, নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর দ্রুতই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। তবে কমিশনের সুপারিশ কতটা বাস্তবায়ন হবে, নতুন বেতনকাঠামোতে কোন গ্রেডে কত টাকা নির্ধারণ করা হবে এবং তা কবে থেকে কার্যকর হবে- এসব বিষয়ে এখনো পরিষ্কার ধারণা না থাকায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

বিশেষ করে গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে পে-স্কেল নিয়ে নানা ধরনের তথ্য প্রকাশ হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে। এদিকে বুধবার (১২ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সচিব কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে আলোচনা চললেও বৈঠকে অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার অংশ নেননি বলে জানা যায়।

এ ঘটনায় পে-স্কেল বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যদিও বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া মেলেনি।

নতুন পে-স্কেল নিয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সবচেয়ে উদ্বেগে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের অনেকের ধারণা, নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হলে পেনশন ও অন্য অবসরকালীন সুবিধাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু সরকার ঠিক কী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, তা পরিষ্কার না হওয়ায় তারা অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

নতুন বেতন কাঠামোর সম্ভাব্য হার, কার্যকরের তারিখ ও পেনশনের ওপর এর প্রভাব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা তথ্য ছড়াচ্ছে। এতে বাড়ছে বিভ্রান্তিও। সব মিলিয়ে নবম পে-স্কেল নিয়ে সরকারের কাজ এগোলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা দীর্ঘ হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।

কমিশনের বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ- সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সরকার শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

সরকার দ্রুত গেজেট প্রকাশের কথা বললেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চান, বিষয়টি আর দীর্ঘসূত্রতায় না নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত দেওয়া হোক। একই সঙ্গে নতুন বেতনকাঠামো কবে থেকে কার্যকর হবে, বেতন-ভাতা কীভাবে সমন্বয় করা হবে এবং পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে- এসব বিষয়ও গেজেটে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করার দাবি রয়েছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা গেলেও নবম জাতীয় পে-স্কেলের পাশাপাশি জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামো নিয়েও নতুন করে কাজ করছে সরকার। জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি করে সাত সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সরকারের কয়েকজন কর্মকর্তা জাগো নিউজের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে কেউ নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

আমরা নতুন পে-স্কেল চাই না। কারণ এমনিতেই জিনিসপত্রের দাম বেশি। শুনছি আমাদের বেতন বাড়লে জিনিসপত্রের দাম নাকি আরও বাড়বে। আর যেভাবে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের কথা বলা হচ্ছে, তাতে তো আমাদের বেতন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একজন উপসচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা নতুন পে-স্কেল চাই না। কারণ এমনিতেই জিনিসপত্রের দাম বেশি। শুনছি আমাদের বেতন বাড়লে জিনিসপত্রের দাম নাকি আরও বাড়বে। আর যেভাবে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের কথা বলা হচ্ছে, তাতে তো আমাদের বেতন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে সবাই সমালোচনা করেন। কিন্তু আমরা যে কীভাবে দিন কাটাচ্ছি কেউ সেটা দেখে না। খালি শুনি নতুন পে-স্কেল দিলে জিনিপত্রের দাম বাড়বে, মূল্যস্ফীতি বাড়বে। এখন কি সব জিনিসের দাম কম? জিনিসপত্রের দাম কি শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনের ওপর নির্ভর করে বাড়ে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘একটি সংবাদ দেখলাম নভেম্বরের আগে নাকি নতুন পে-স্কেলের গেজেট হবে না। কারণ আইএমএফ নাকি চাচ্ছে বিষয়টি অক্টোবর পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখতে। অক্টোবরে আইএমএফের বার্ষিক সভায় নাকি নতুন ঋণ কর্মসূচির আলোচনার সময় পে-স্কেলের আর্থিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা হবে এবং পরে নভেম্বরে সংস্থাটির আরেকটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে নতুন ঋণ কর্মসূচি ও পে-স্কেল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবে।’

আমরা একেক সময় একেক কথা শুনছি মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বাস্তবে কী হচ্ছে বুঝতে পারছি না। যতক্ষণ পর্যন্ত না গেজেট প্রকাশ হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত দুশ্চিন্তা যাচ্ছে না। তবে একটি বিষয় বুঝতে পারছি, সরকার যেহেতু ঘোষণা দিয়েছে নতুন পে-স্কেল আমরা পাবো। তবে কবে থেকে পাবো, সেটাই এখন মূল বিষয়।’

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তব্যে নতুন পে-স্কেলের ঘোষণা দিয়েছেন, সুতরাং সরকারকে নতুন পে-স্কেল দিতেই হবে। কোনোভাবেই সরকার এটা বাতিল করতে পারবে না। বাতিল করতে গেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ সৃষ্টি হতে পারে

শ্রম মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তব্যে নতুন পে-স্কেলের ঘোষণা দিয়েছেন, সুতরাং সরকারকে নতুন পে-স্কেল দিতেই হবে। কোনোভাবেই সরকার এটা বাতিল করতে পারবে না। বাতিল করতে গেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ সৃষ্টি হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘এটি যেহেতু কোনো একটি বিভাগ বা মন্ত্রণালয়ের ইস্যু নয়, তাই এই ইস্যুতে সব কর্মকর্তাই ঐক্যবদ্ধ থাকবে। নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সরকার যত দেরি করবে, ততই জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই সরকারের উচিত দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা।’


তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী বলেছেন নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ফলে নতুন পে-স্কেল নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা বেড়েছে। তবে গেজেটের আগে বেতন কত বাড়বে, কোন তারিখ থেকে কার্যকর হবে এবং বকেয়া বা এরিয়ার কীভাবে সমন্বয় করা হবে এসব পরিষ্কার হতে পারছি না। যতক্ষণ গেজেট না হচ্ছে আমরা কোনো কিছুতেই নিশ্চিত হতে পারছি না।’

২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছিল।

পরবর্তীসময়ে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, রাজস্ব আয়, মূল্যস্ফীতি, বাজেট ঘাটতি ও সরকারি ব্যয়ের সক্ষমতা বিবেচনায় কমিশনের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে না সরকার।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে নতুন একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ও সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়ার কথা।

সম্প্রতি জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি করে সাত সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কমিটির প্রধান দায়িত্ব হবে জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন করা। প্রয়োজনে নতুন সদস্যকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগও রাখা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। প্রয়োজন অনুযায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা দেবে।

আর্থিক চাপই বড় বাধা

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন সরকারের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরকারের ব্যয় বেড়েছে। প্রায় দ্বিগুণ দামে এলএনজি ও এলপিজি কিনতে হচ্ছে।

একই সঙ্গে ডিজেলেও ভর্তুকি দিতে হচ্ছে সরকারকে। পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ না থাকা, মূল্যস্ফীতির চাপ ও বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ডলারের দাম বাড়তির দিকে থাকায় সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় চাপ রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারকে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হতে পারে। তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার বিষয়টিও সরকারকে বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। ফলে একদিকে আর্থিক সক্ষমতা, অন্যদিকে চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা- দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য করেই চূড়ান্ত বেতন কাঠামো নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।

বেতন কাঠামো হবে, গেজেটেও বেশি সময় লাগবে না

সম্প্রতি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে।

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে নতুন ঋণ পাওয়া নিয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হবে কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের ঋণের সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামোর কোনো সম্পর্ক নেই। বেতন কাঠামো হবে এবং প্রজ্ঞাপন জারি করতেও বেশি সময় লাগবে না।

এমএএস/এএসএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow