পেঁয়াজের দামে ধস, কৃষকদের পক্ষে সরকারের দ্বারস্থ সালথার ইউএনও

পেঁয়াজের বাজারদর উৎপাদন খরচের নিচে নেমে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার হাজারো কৃষক। টানা লোকসান, ন্যায্যমূল্যের অভাব ও সংরক্ষণ সংকটের মধ্যে কৃষকদের দুর্দশা তুলে ধরে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে লিখিত প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন। প্রতিবেদনে উৎপাদন ব্যয়, বাজারে মূল্যপতন, সংরক্ষণ সংকট এবং কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে সংকট উত্তরণে একাধিক সুপারিশও করা হয়েছে। এর আগে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষোভে উৎপাদিত পেঁয়াজ ডোবা ও পানিতে ফেলে দেন সালথার কয়েকজন কৃষক। ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এরপরই কৃষকদের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন। রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, সালথার অর্থনীতির বড় একটি অংশ পেঁয়াজ চাষের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে, যাতে কৃষকদের জন্য কার্যকর নীতিগত সিদ্ধান্ত ন

পেঁয়াজের দামে ধস, কৃষকদের পক্ষে সরকারের দ্বারস্থ সালথার ইউএনও

পেঁয়াজের বাজারদর উৎপাদন খরচের নিচে নেমে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার হাজারো কৃষক। টানা লোকসান, ন্যায্যমূল্যের অভাব ও সংরক্ষণ সংকটের মধ্যে কৃষকদের দুর্দশা তুলে ধরে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে লিখিত প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন।

প্রতিবেদনে উৎপাদন ব্যয়, বাজারে মূল্যপতন, সংরক্ষণ সংকট এবং কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে সংকট উত্তরণে একাধিক সুপারিশও করা হয়েছে।

এর আগে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষোভে উৎপাদিত পেঁয়াজ ডোবা ও পানিতে ফেলে দেন সালথার কয়েকজন কৃষক। ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এরপরই কৃষকদের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, সালথার অর্থনীতির বড় একটি অংশ পেঁয়াজ চাষের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে, যাতে কৃষকদের জন্য কার্যকর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।

তিনি জানান, প্রতিবেদনের সঙ্গে বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি, জমির লিজ, পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যয়সহ পেঁয়াজ উৎপাদনের পূর্ণাঙ্গ ব্যয় বিবরণী সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি উন্নতমানের বীজ সরবরাহ, পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ, আধুনিক কোল্ডস্টোরেজ ও সংরক্ষণাগার নির্মাণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক কৃষিযন্ত্র সরবরাহের সুপারিশ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সালথার প্রায় ১৪ হাজার ৯৫০ হেক্টর আবাদযোগ্য জমির মধ্যে ১২ হাজার ৫৮৫ হেক্টরে পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ১২৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। অথচ বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২২ থেকে ২৩ টাকায়। বিপরীতে উৎপাদন ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ টাকা ১৫ পয়সা। ফলে প্রতি কেজিতে কৃষকদের গড়ে প্রায় ২ টাকা ৬৫ পয়সা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

কৃষকদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগারের অভাবে মৌসুমেই বাধ্য হয়ে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করলেও উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না। এতে ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়েও চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

তাদের দাবি, সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহ, বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ, প্রতি মণে ‘ধলতা’র নামে অতিরিক্ত দুই কেজি পেঁয়াজ নেওয়ার প্রথা বন্ধ এবং আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সালথাসহ ফরিদপুরের পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকায় কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যেমন তাদের জীবনমানের উন্নয়ন হবে, অন্যদিকে দেশের পেঁয়াজ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং আমদানিনির্ভরতা কমবে। এতে কৃষকদের মধ্যে পেঁয়াজ চাষে নতুন করে আগ্রহও সৃষ্টি হবে।

ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, কৃষক বাঁচলে কৃষি বাঁচবে। তাই তাদের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে সরকারের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। আশা করছি, সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। এতে সালথার হাজার হাজার পেঁয়াজ চাষি উপকৃত হবেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow