পেট্রাপোল স্থলবন্দরে দালালদের দৌরাত্ম্য, প্রতারণার শিকার বাংলাদেশিরা
দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের পর্যটন ভিসা আবার চালু হয়েছে। চিকিৎসা, ভ্রমণসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে নতুন করে ভারতে আসতে শুরু করেছেন বাংলাদেশের নাগরিকরা। কিন্তু ভারতের বনগাঁর পেট্রাপোল স্থলবন্দরে এসে অনেকেই দালালদের হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে দুই দেশের যোগাযোগ ও ভিসা ব্যবস্থাতেও। পরে পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আবার বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের পর্যটন ভিসা চালু করা হয়। তবে ভিসা চালু হলেও পেট্রাপোল স্থলবন্দরে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ে নতুন করে অভিযোগ সামনে এসেছে। চিকিৎসার জন্য ভারতে এসে দালালের খপ্পরে দম্পতি ঢাকার বাসিন্দা ফারজানা শিরিন তার স্বামীর সঙ্গে চিকিৎসার জন্য ভারতের হায়দরাবাদ যাচ্ছিলেন। জটিল রোগের চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তারা বনগাঁর পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষ করে বাইরে বের হওয়ার পরই কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ঘিরে ধরেন বলে অভিযোগ। ফারজানা শিরিন জানান, প্রথমে ওই ব্যক্তিরা কলকা
দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের পর্যটন ভিসা আবার চালু হয়েছে। চিকিৎসা, ভ্রমণসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে নতুন করে ভারতে আসতে শুরু করেছেন বাংলাদেশের নাগরিকরা। কিন্তু ভারতের বনগাঁর পেট্রাপোল স্থলবন্দরে এসে অনেকেই দালালদের হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে দুই দেশের যোগাযোগ ও ভিসা ব্যবস্থাতেও। পরে পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আবার বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের পর্যটন ভিসা চালু করা হয়।
তবে ভিসা চালু হলেও পেট্রাপোল স্থলবন্দরে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ে নতুন করে অভিযোগ সামনে এসেছে।
চিকিৎসার জন্য ভারতে এসে দালালের খপ্পরে দম্পতি
ঢাকার বাসিন্দা ফারজানা শিরিন তার স্বামীর সঙ্গে চিকিৎসার জন্য ভারতের হায়দরাবাদ যাচ্ছিলেন। জটিল রোগের চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তারা বনগাঁর পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন।
ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষ করে বাইরে বের হওয়ার পরই কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ঘিরে ধরেন বলে অভিযোগ।
ফারজানা শিরিন জানান, প্রথমে ওই ব্যক্তিরা কলকাতায় যাওয়ার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা, কম খরচে ভালো হোটেল এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলেন।
এছাড়াও সঙ্গে থাকা বাংলাদেশি টাকা বা মার্কিন ডলার বেশি দামে ভারতীয় মুদ্রায় বদলে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
ফারজানার অভিযোগ, তারা এসব প্রস্তাবে রাজি না হলে দালালরা তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু করে। পরে তারা নিজেরাই গাড়ি বুক করে কলকাতায় যান এবং সেখান থেকে চিকিৎসার জন্য হায়দরাবাদে চলে যান।
‘ডলার থাকলে বেশি টাকা দেবো’
ফারজানা শিরিন জানান, পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন গেটের বাইরে বের হওয়ার পরই কয়েকজন ব্যক্তি তাদের নানা ধরনের প্রলোভন দেখাতে থাকেন।
তিনি বলেন, সঙ্গে ডলার থাকলে তা দিয়ে বেশি ভারতীয় মুদ্রা করে দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু তারা রাজি না হওয়ায় পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।
তিনি আরও জানান, দালালদের কথায় না গিয়ে তারা নিজেরাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে কলকাতায় পৌঁছান।
দালালদের প্রতারণার কথা স্বীকার মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রের
পেট্রাপোলের একটি মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রের কর্ণধার সঞ্জয় রায়চৌধুরীও দালালদের সক্রিয়তার কথা স্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, পর্যটন ভিসা চালুর পর বাংলাদেশি যাত্রীর সংখ্যা বাড়লে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
বাংলাদেশি যাত্রীরা অনেক সময় দালালদের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হন জানিয়ে তিনি বলেন, দালালরা এক ধরনের দাম বলে টাকা নেয়, পরে কম টাকা দেয়।
সঞ্জয় রায়চৌধুরীর দাবি, এক যাত্রীর কাছ থেকে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে ২১ হাজার টাকা কম দেওয়া হয়েছিল। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে কিছু টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, অনেক সময় ডলার বিনিময়ের ক্ষেত্রেও যাত্রীদের ভয় দেখিয়ে প্রতারণা করা হয়।
অভিযোগ জানাতে চান না অনেক যাত্রী
দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সঞ্জয় রায়চৌধুরী বলেন, অনেক যাত্রী প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করতে চান না। তাদের ধারণা, অভিযোগ করলে সময় লাগবে এবং আরও সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই অনেকে ক্ষতি মেনেই চলে যান।
তবে পেট্রাপোল স্থলবন্দরে কোনো ধরনের প্রতারণা বা হয়রানির শিকার হলে থানায় অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় দালাল চক্রের তৎপরতা বন্ধ করতে রাজ্য পুলিশ, বিএসএফ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে থাকে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতে যাতায়াত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেট্রাপোল স্থলবন্দরে নিরাপত্তা ও যাত্রী পরিষেবা আরও উন্নত করার দাবি উঠেছে। কারণ সীমান্ত পার হওয়ার শুরুতেই যেন যাত্রীরা হয়রানি বা প্রতারণার মুখে না পড়েন, সেটিই এখন বড় বিষয়।
ডিডি/এমএসএম
What's Your Reaction?