পেস্টের রাসায়নিক এড়াতে চান? দাঁতের সুরক্ষায় ফিরুন মিসওয়াকে
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই ব্রাশে খানিকটা টুথপেস্ট লাগিয়ে নেওয়া আমাদের রোজকার অভ্যাস। বিজ্ঞাপন দেখে আমরা ভাবি, পেস্টের ওই সাদা বা রঙিন ফেনা আমাদের দাঁতকে একদম হিরের মতো চকচকে করে দিচ্ছে। কিন্তু কখনো কি পেস্টের টিউবের পেছনের উপাদানের তালিকাটা মন দিয়ে পড়েছেন? এসএলএস, ট্রাইক্লোসান, কিংবা কৃত্রিম সুইটনারের মতো একগাদা খটমটে রাসায়নিকের নাম চোখে পড়বে। আজকাল সচেতন মানুষ যখন খাবারে অর্গানিক খুঁজছেন, তখন প্রতিদিন সকালে মুখে এই কেমিক্যালের ফেনা মাখা কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে খোদ পশ্চিমা বিশ্বেই। তাহলে উপায়? সমাধান কিন্তু আমাদের চেনা ঐতিহ্যের ভেতরেই আছে। আধুনিক ইংরেজি গণমাধ্যম এবং ডেন্টাল জার্নালগুলো এখন জোর দিয়ে বলছে, দাঁতের সুরক্ষায় রাসায়নিকের সেরা বিকল্প হতে পারে প্রাকৃতিক ‘মিসওয়াক’। আধুনিক টুথপেস্টের রাসায়নিক বনাম মিসওয়াকের প্রাকৃতিক গুণ আধুনিক টুথপেস্ট ও ব্রাশ প্রাকৃতিক মিসওয়াক এসএলএস (ক্ষতিকর ফেনা তৈরি করে) কোনো কৃত্রিম রাসায়নিক নেই প্লাস্টিকের ব্রাশ (পরিবেশ দূষণ) ১০০% পরিবেশবান্ধব ও অর্গানিক কৃত্রিম সুগন্ধি ও সুইটনা
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই ব্রাশে খানিকটা টুথপেস্ট লাগিয়ে নেওয়া আমাদের রোজকার অভ্যাস। বিজ্ঞাপন দেখে আমরা ভাবি, পেস্টের ওই সাদা বা রঙিন ফেনা আমাদের দাঁতকে একদম হিরের মতো চকচকে করে দিচ্ছে। কিন্তু কখনো কি পেস্টের টিউবের পেছনের উপাদানের তালিকাটা মন দিয়ে পড়েছেন? এসএলএস, ট্রাইক্লোসান, কিংবা কৃত্রিম সুইটনারের মতো একগাদা খটমটে রাসায়নিকের নাম চোখে পড়বে।
আজকাল সচেতন মানুষ যখন খাবারে অর্গানিক খুঁজছেন, তখন প্রতিদিন সকালে মুখে এই কেমিক্যালের ফেনা মাখা কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে খোদ পশ্চিমা বিশ্বেই।
তাহলে উপায়? সমাধান কিন্তু আমাদের চেনা ঐতিহ্যের ভেতরেই আছে। আধুনিক ইংরেজি গণমাধ্যম এবং ডেন্টাল জার্নালগুলো এখন জোর দিয়ে বলছে, দাঁতের সুরক্ষায় রাসায়নিকের সেরা বিকল্প হতে পারে প্রাকৃতিক ‘মিসওয়াক’। আধুনিক টুথপেস্টের রাসায়নিক বনাম মিসওয়াকের প্রাকৃতিক গুণ
| আধুনিক টুথপেস্ট ও ব্রাশ | প্রাকৃতিক মিসওয়াক |
| এসএলএস (ক্ষতিকর ফেনা তৈরি করে) | কোনো কৃত্রিম রাসায়নিক নেই |
| প্লাস্টিকের ব্রাশ (পরিবেশ দূষণ) | ১০০% পরিবেশবান্ধব ও অর্গানিক |
| কৃত্রিম সুগন্ধি ও সুইটনার থাকে | প্রাকৃতিকভাবেই দুর্গন্ধনাশক |
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিজ্ঞানের চোখে মিসওয়া
বিশ্বখ্যাত ডেন্টাল প্ল্যাটফর্ম ডাইমেন শনস অব ডেন্টাল হাইজিন-এ প্রকাশিত ‘দ্য মিসওয়াক কামব্যাক’ আর্টিকেলে দেখানো হয়েছে, কীভাবে বিশ্বজুড়ে মানুষ প্লাস্টিক ও রাসায়নিকমুক্ত লাইফস্টাইলের অংশ হিসেবে আবার মিসওয়াকে ফিরছে। এটি শুধু ধর্মীয় বা ঐতিহ্যগত অভ্যাস নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে নিখাদ বিজ্ঞান।
মার্কিন সরকারের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন-এর গবেষণা বলছে, মিসওয়াক বা পিলু গাছের ডাল দাঁতের সুরক্ষায় একই সাথে ‘মেকানিক্যাল’ ও ‘কেমিক্যাল’ দুই ভাবেই কাজ করে। অর্থাৎ, এর আঁশগুলো যেমন ব্রাশের মতো দাঁতের কোণায় জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করে, তেমনি এর রস প্রাকৃতিকভাবে মুখের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। এমনকি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও ওরাল হাইজিনের জন্য মিসওয়াককে একটি কার্যকর ও নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
কেন টুথপেস্ট ছেড়ে মিসওয়াকে ফিরবেন?
ওরাল কেয়ার বিশেষজ্ঞদের পোর্টাল সিনল-এর একটি তুলনামূলক প্রতিবেদনে টুথপেস্টের রাসায়নিক এড়াতে মিসওয়াক ব্যবহারের কয়েকটি চমৎকার কারণ তুলে ধরা হয়েছে:
- কেমিক্যালের ঝামেলা মুক্তি: টুথপেস্টে ফেনা তৈরি করতে ‘সোডিয়াম লরিল সালফেট’ বা এসএলএস ব্যবহার করা হয়, যা অনেকের মুখে ঘা তৈরি করে। মিসওয়াকে এই ধরনের কোনো ক্ষতিকর উপাদান নেই।
- প্রাকৃতিক ফ্লুরাইড ও ক্যালসিয়াম: মিসওয়াকের রসে প্রাকৃতিকভাবেই সঠিক পরিমাণে ফ্লুরাইড, ক্যালসিয়াম এবং সিলিকা থাকে। এগুলো দাঁতের এনামেল শক্ত করে এবং প্রাকৃতিকভাবে দাঁত সাদা করতে সাহায্য করে।মুখের দুর্গন্ধ দূর করা: মিসওয়াকে থাকা প্রাকৃতিক এসেনশিয়াল অয়েল মুখের ভেতরের লালা বা স্যালাইভার কার্যকারিতা বাড়ায়, যা দীর্ঘ সময় মুখকে ফ্রেশ রাখে এবং দুর্গন্ধ দূর করে।
- মাড়ির সুরক্ষা: এর অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ মাড়ির রক্ত পড়া এবং ইনফেকশন বন্ধে দারুণ কার্যকরী। খাঁটি বাঙালি অভ্যাসে মিসওয়াকের মেলবন্ধনআমাদের দাদী-নানীদের আমলে নিম বা পিলু গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করার রেওয়াজ ছিল। ব্যস্ত নাগরিক জীবনে আমরা তা ভুলে প্লাস্টিকের ব্রাশ আর কেমিক্যালের টিউব লুফে নিয়েছি। কিন্তু এখন সময় এসেছে একটু সচেতন হওয়ার। বাজারে বা সুপারশপগুলোতে এখন খুব সহজেই রিইউজেবল ভ্যাকুয়াম প্যাকেজিংয়ে তাজা মিসওয়াক পাওয়া যায়।
সকালের তাড়াহুড়োয় টুথপেস্ট ব্যবহার করলেও, রাতে ঘুমানোর আগে কিংবা অলস দুপুরের অবসরে মিসওয়াক করার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। এতে দাঁত যেমন কেমিক্যালের হাত থেকে বাঁচবে, তেমনি প্লাস্টিকের ব্রাশের ব্যবহার কমিয়ে আপনি প্রকৃতির প্রতিও কিছুটা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।কেমিক্যালের কৃত্রিম ঝকঝকে হাসির চেয়ে প্রকৃতির ছোঁয়ায় দাঁত সুস্থ রাখাটাই কি বেশি বুদ্ধিমানের কাজ নয়?
What's Your Reaction?