পোশাক খাত হুমকিতে পড়লে ক্ষতিগ্রস্ত হবে অর্থনীতি

19 hours ago 5

গ্যাস-স্বল্পতায় দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি শিল্পখাতে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। চাহিদার চেয়ে ৩০ শতাংশ কম গ্যাস পাচ্ছে শিল্পকারখানা। শিল্পের মধ্যে গ্যাসের ব্যবহার পোশাক খাতেই বেশি। এ খাতে গত দুই বছর ধরেই গ্যাস সংকট চলছে। তবে নতুন করে গ্যাস সংকট উৎপাদন কাঠামোকে করে দিয়েছে এলোমেলো। এই খবরের মাঝে আরেক খবর হচ্ছে, ফেব্রুয়ারি মাসে পোশাক রপ্তানির ক্রয় আদেশ (ইউডি) ৪২ শতাংশ কমেছে, যা গত ১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন।

ফেব্রুয়ারি মাসের অপ্রত্যাশিত এই ধস পোশাক শিল্পের স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিকে পুনরায় অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। এই পরিসংখ্যান অনেক বিশেষজ্ঞ এবং শিল্পমালিকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। মূলত গত আগস্ট মাসে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এর প্রভাব পড়ছে পোশাক শিল্পেও। তখন ঢাকার আশেপাশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোয় ব্যাপক শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। চলে অক্টোবর পর্যন্ত।

বিভিন্ন দাবিদাওয়াকে সামনে রেখে আন্দোলন করতে থাকে পোশাক শ্রমিকরা। আর এই শ্রমিক অসন্তোষের জেরে বন্ধ হতে থাকে কারখানাগুলো। মুখ ঘুরিয়ে নিতে থাকে অনেক বিদেশি ক্রেতা। যদিও নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সবাই আশা করছিল—তাঁর ইমেজকে কাজে লাগিয়ে পোশাকশিল্পে বড় একটি জাম্পিং আসবে। কিন্তু প্রত্যাশিত সেই জাম্পিং আসেনি। অস্থিরতার কারণে উলটো পোশাকশিল্প পড়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি এবং অব্যাহত শ্রমিক অসন্তোষের মতো কারণগুলো এর জন্য দায়ী ছিল।

দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান পোশাক খাত হুমকিতে পড়লে মালিক-শ্রমিক যেমন বিপদে পড়বে তেমনই সারা দেশের অর্থনীতিও ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই এ শিল্পের বহুমুখীকরণ ও সমৃদ্ধকরণে সরকার, উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার মেধা ও প্রজ্ঞার সমন্বয় ঘটিয়ে কৌশলগত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে, গত বছরে তৈরি পোশাক নিটওয়্যার ও টেক্সটাইল শিল্পের ১৪০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে ৯৪ হাজার কর্মী চাকরি হারিয়েছে। তাছাড়া এটি দেশের প্রধানতম বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের খাত হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও ব্যাহত হয়। বলা হয়ে থাকে তৈরি পোশাক শিল্প হচ্ছে—ক্রেতাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি একটি ব্যবসায়িক সম্পর্কের ফল। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানিতে যে সুনাম অর্জন করেছে এবং বিশ্বের দ্বিতীয় প্রধান রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে, এটা মূলত বিগত তিন দশকের ফল।

এই সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র বহুদিন ধরেই সক্রিয়। আগস্টে সরকার পতনের পর সৃষ্ট আন্দোলনেও এই ষড়যন্ত্রকারীরা ইন্ধন দেয়। অধিকার আদায়ের আন্দোলনে বিশৃঙ্খলা, হামলা-ভাঙচুর চালিয়ে শিল্পকে বিপর্যস্ত করে লাখ লাখ শ্রমিকের কর্মপরিধি সংকুচিত করাটাই ছিল তাদের লক্ষ্য। আর এর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারে ভাগ বসাতে চায়।

এর কারণ হচ্ছে, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাকপণ্যের খ্যাতি যে উচ্চতায় পৌঁছে গেছে তা অন্যান্য প্রতিযোগী দেশ—ভিয়েতনাম, ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও কম্বোডিয়ার পোশাক পণ্য পৌঁছাতে পারেনি। তাছাড়া পোশাকশিল্পে দীর্ঘ সময় ধরে বৈশ্বিক বাজারে শীর্ষ থাকা চীনের পর দ্বিতীয় অবস্থানটিই বাংলাদেশের। ফলে দেশি-বিদেশি অপশক্তি, যারা বাংলাদেশের বাজার ধরতে চায় তারা বিভিন্ন উপলক্ষ্য সৃষ্টি করে শ্রমিকদের ক্ষেপিয়ে তোলে। তাদের বোঝানো হয়, বাংলাদেশের শ্রমিকরা শোষিত, তাদের ঠকানো হচ্ছে। নিজেদের অধিকার তাদের নিজেদেরই আদায় করতে হবে।

এই কারণে শিল্প মালিকদের গত বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বারবার বলতে শোনা গেছে, ‘একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এই শিল্পকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। বিদেশি ক্রেতাদের বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা দিতে শ্রমিক অসন্তোষের পুরোনো নাটক মঞ্চস্থ করা হচ্ছে।’ বাংলাদেশে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির মাধ্যমে পোশাকশিল্প কারখানা বন্ধ রাখা গেলে নিশ্চিতভাবেই অনেক ক্রয়াদেশ এখান থেকে অন্য দেশে চলে যাবে। আর এসব ক্রয়াদেশ স্বভাবতই প্রতিযোগী দেশগুলোই পাবে।

পোশাক শিল্প ঘিরে একের পর দুঃসংবাদ এবং আশঙ্কার মাঝে সুখকর সংবাদও আছে। তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মার্কেট যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গত বছরের শেষ চার মাস—সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বরে বড় প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে গত বছরের ডিসেম্বরে রপ্তানি করেছে ৫৮ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক। এটি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ১৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি। নভেম্বর মাসেও আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি বেড়েছিল ৪১ শতাংশ।

একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ১৭-১৮ শতাংশের গন্তব্যও দেশটি। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে পোশাক রপ্তানি ০.৭৩ শতাংশ বেড়ে ৭৩৪ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এ ছাড়া রপ্তানির পরিমাণও বেড়েছে ৪.৮৬ শতাংশ। মার্কিন পোশাক আমদানির সর্বশেষ তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের দাম ৩.৮ থেকে ৭.৭ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর কারণে রপ্তানি প্রায় ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পরও আশানুরূপ পরিমাণে আয় বাড়েনি।

চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব ২০১৮ সাল থেকে চলমান রয়েছে। সে সময় ক্ষমতায় থাকাকালে চীনা পণ্য আমদানিতে শুল্ক বাড়িয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এবারও ক্ষমতায় বসেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উচ্চ শুল্কহার আরোপের কারণে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। উচ্চ শুল্কের এই খড়্গ চীনসহ উন্নত দেশগুলোর ওপর প্রয়োগ করায় এবং আমেরিকা-ইউক্রেন সম্পর্ক আকস্মিকভাবে এক নতুন দিকে মোড় নেওয়ায় সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশের।

ট্রাম্প যতই চীন বিরোধী হবেন ততই সুবিধা পাবে বাংলাদেশ। কারণ, চীনা পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো চীন থেকে ক্রয়াদেশ সরাবে। ফলে বাংলাদেশের সামনে বাড়তি ক্রয়াদেশ বা অর্ডার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এমনকি বিনিয়োগকারীরা চীন থেকে কারখানা সরিয়ে এখন অন্য দেশে নিতে আগ্রহী হতে পারেন। সেই বিনিয়োগও বাংলাদেশে আসতে পারে। অন্যদিকে মায়ানমারে চলমান রাজনৈতিক সংকট ও সংঘাত এবং পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে অনেক পশ্চিমা ক্রেতা সেখান থেকে তাঁদের পোশাক ক্রয়াদেশ সরিয়ে নিচ্ছেন। এটিও আমাদের দেশের পোশাক খাতের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করছে।

বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতের অগ্রযাত্রা প্রায় চার দশকের। তবে প্রথম দিকে যেনতেন ভাবে কারখানা গড়ে তোলা হয়েছিল। তখন কাজের মান নিয়েও অনেক প্রশ্ন ছিল। তাছাড়া, শ্রমিকের মজুরি, নিরাপত্তা, পৃথক গার্মেন্টেস ভিলেজ এবং প্রযুক্তি উন্নয়নের মতো বিষয়গুলো তেমন একটা গুরুত্ব পায়নি। তবে রানা-প্লাজা ট্র্যাজেডির পর তৎকালীন সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে বাংলাদেশের পোশাক ও বস্ত্র খাত। এর মধ্যে সর্বশেষ সংযোজন হলো পরিবেশবান্ধব কারখানা স্থাপন।

বিশ্বে পরিবেশবান্ধব শিল্প স্থাপনার শীর্ষে থাকা অর্ধেকই বাংলাদেশের পোশাক কারখানা। বিজিএমইএ’র তথ্যানুযায়ী, তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতে বর্তমানে লিড সনদ পাওয়া পরিবেশবান্ধব কারখানা রয়েছে ২১৮। তার মধ্যে লিড প্লাটিনাম সনদধারী ৮৪টি, গোল্ড ১২০টি, সিলভার ১০টি ও ৪টি কারখানা সার্টিফায়েড সনদ পেয়েছে। এর পাশাপাশি, বিশ্বের ১০০টি পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানার মধ্যে ৫৬টি অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি কারখানা বাংলাদেশের। এসব অর্জন জাতিকে বিশ্বজুড়ে গর্বের স্থানে নিয়ে গেছে। ফলে ‘মেড ইন বাংলাদেশ লেখা’ পোশাক সারা বিশ্বের নামিদামি ফ্যাশন হাউজগুলোতে বহু আগে থেকে স্থান করে নিয়ে এখন পর্যন্ত অবস্থান ধরে রেখেছে গৌরবের সাথে।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস বিশ্বে একজন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। নোবেল লরিয়েটদের ভেতরে এখন তিনিই সবচেয়ে সক্রিয়। তাছাড়া তাঁর রয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এবং বিশ্বের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক। তাঁর জনপ্রিয়তা ও ইমেজকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্যের অবাধ প্রবেশাধিকার (জিএসপি) সুবিধা পুনরুদ্ধারসহ ইউরোপে অব্যাহত শুল্কমুক্ত পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ আলোচনার ব্যাপারে সরকার উদ্যোগী হয়েছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ পরিবেশিত হয়েছে। তবে এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে পোশাকশিল্পের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে সবার আগে। কারণ, ক্রেতারা তাদের সোর্সিং গন্তব্য ঠিক করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টির ওপরে গুরুত্ব দেন, তা হলো দেশের ও শিল্পের স্থিতিশীলতা।

গ্যাস ও বিদ্যুতের স্বল্পতার কারণেও এই খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিল্প খাতে নিয়মিত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হলে অতিরিক্ত রপ্তানি আদেশ নিয়ে তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা রপ্তানিও করতে পারবে। সম্প্রতি শিল্পের জন্য গ্যাসের মূল্য দ্বিগুণেরও বেশি করার প্রস্তাবের উপরে গণশুনানি হয়েছে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করলে শিল্পের অস্তিত্ব নিশ্চিতভাবেই সংকটে পড়বে। তাই সরকারের উচিত হবে এই সিদ্ধান্ত থেকে দ্রুত সরে আসা। তার পরিবর্তে তারা সিস্টেম লস কমাতে উদ্যোগী হতে পারে।

এর পাশাপাশি, তৈরি পোশাকশিল্প তথা শিল্প খাতের উন্নতির জন্য ব্যাংকের সুদের হার ৮ থেকে ৯ শতাংশে নিয়ে আসতে পারে সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংক এইক্ষেত্রে নীতি সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের ব্যাংকগুলোয় সুদের হার বিনিয়োগবান্ধবে নিয়ে আসতে পারে। কারণ, অধিক সুদহারে বিনিয়োগে উদ্যোক্তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এ অবস্থা দেশের জন্য কোনো মঙ্গল বহন করে না।

পোশাক শিল্পের হাত ধরে দেশের অর্থনীতি অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। দেশের রপ্তানি আয়ের ৮২ থেকে ৮৪ শতাংশ আসে এই খাত থেকে। গত বছরে এসেছে ৩৮.৪৮ বিলিয়ন ডলার। দারিদ্র্যবিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের কর্মদক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই শিল্পের অবদান অনস্বীকার্য। পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নকেও ত্বরান্বিত করেছে এ খাত। দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান এই খাত হুমকিতে পড়লে মালিক-শ্রমিক যেমন বিপদে পড়বে তেমনই সারা দেশের অর্থনীতিও ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই এ শিল্পের বহুমুখীকরণ ও সমৃদ্ধকরণে সরকার, উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার মেধা ও প্রজ্ঞার সমন্বয় ঘটিয়ে কৌশলগত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

লেখক : কবি ও কলামিস্ট।

এইচআর/এএসএম

Read Entire Article