পোস্ট-স্পিশিস সমাজতত্ত্ব এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ মানবিক উন্নয়ন

3 days ago 7

জৈব-প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ডিজিটাল বিবর্তনের এই যুগে আমরা এক নতুন সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে 'মানব' পরিচয়ের মৌলিক সংজ্ঞাই প্রশ্নের মুখে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের (4IR) ফলে বাস্তব, জৈবিক ও ডিজিটাল জগতের সীমারেখা ক্রমশ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে, যা আমাদের প্রথাগত সমাজ ও জীবনের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। এই সংকট ও সম্ভাবনার পটভূমিতে উদ্ভূত হয়েছে একটি নতুন তাত্ত্বিক ধারা—পোস্ট-স্পিশিস সমাজতত্ত্ব (Post-Species Sociology)।

এই পরিভাষাটি প্রথম প্রচার ও ব্যবহারের প্রেক্ষাপট খুঁজলে দেখা যাবে, সমাজতত্ত্বের প্রথাগত সীমার বাইরে গিয়েই কিছু অগ্রগামী চিন্তাবিদ এটি উপস্থাপন করেন। যদিও নির্দিষ্টভাবে কেউ এককভাবে এর জনক নন, তবে স্টিভ ফুলার, ডোননা হ্যারাওয়ে এবং ইউকুই হুইয়ের মতো চিন্তকদের লেখায় এর সূক্ষ্ম ছায়া প্রতিফলিত হয়। বিশেষত, স্টিভ ফুলারের গ্রন্থ "Humanity 2.0: What it Means to be Human Past, Present and Future" (২০১১) এই চর্চাকে তাত্ত্বিক ভিত্তি দেয়। এই পরিভাষাটি মূলত এমন এক সমাজের রূপরেখা বিবেচনায় আনে, যেখানে মানুষ ও অ-মানুষের মধ্যকার সীমারেখা প্রযুক্তিগতভাবে ভেঙে পড়ছে। এটি কেবল কোনো দূর ভবিষ্যতের কল্পনা নয়, বরং বর্তমান বাস্তবতাকে বিশ্লেষণের এক নতুন কাঠামো।

পোস্ট-স্পিশিস সমাজতত্ত্ব এমন একটি ধারা যেখানে জীববৈচিত্র্য, প্রযুক্তি এবং সমাজের আন্তঃসম্পর্ককে গভীরভাবে অন্বেষণ করা হয়। সমাজতত্ত্বের দীর্ঘ ইতিহাস মানব-কেন্দ্রিক বা নৃতাত্ত্বিক (anthropocentric) দৃষ্টিভঙ্গির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে সমাজ বলতে কেবল মানবজাতির পারস্পরিক সম্পর্ককেই বোঝানো হয়েছে। এই প্রথাগত দৃষ্টিভঙ্গিতে মানুষকেই সৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখা হয় এবং প্রকৃতি, প্রাণী ও প্রযুক্তিকে মানুষের সেবক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু পোস্ট-স্পিশিস সমাজতত্ত্ব এই মানব কেন্দ্রিকতাকে তীব্রভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এটি দেখায় যে আমরা কীভাবে 'মানব' ও 'অমানব' ধারণাগুলিকে নির্মাণ করি, এবং কীভাবে প্রযুক্তি এই নির্মাণে বৈপ্লবিক রূপান্তর ঘটাচ্ছে।

সময় এসেছে আমাদের সমাজবিজ্ঞান, নীতিনির্ধারণ এবং জনমতকে এই নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি করার, যেখানে মানুষ কেবল সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব নয়, বরং সহাবস্থানের এক বিবর্তনশীল অনুষঙ্গ। বাংলাদেশের সামনে দুটি পথ খোলা আছে: হয় বিদেশি প্রযুক্তির নিষ্ক্রিয় গ্রহীতা হয়ে এর সামাজিক পরিণতি মেনে নেওয়া, অথবা এই পরিবর্তনগুলোতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে, নিজেদের মূল্যবোধ ও প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলোকে রূপ দেওয়া।

মানুষের শরীর ও মন এখন কেবল প্রাকৃতিক অনুক্রমে বিকশিত নয়; বরং কৃত্রিম উপাদান ও অ্যালগরিদমিক হস্তক্ষেপে তৈরি হচ্ছে নতুন এক অস্তিত্ব। জিন সম্পাদনা প্রযুক্তি (CRISPR), মস্তিষ্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কম্পিউটারের ইন্টারফেস (Brain-Computer Interface), কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং বায়ো-হ্যাকিংয়ের মতো উদ্ভাবনগুলো মানব অস্তিত্বের ধারণাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছে। এই নতুন সত্তাকেই বলা হচ্ছে সাইবর্গ মানব বা পোস্ট-হিউম্যান। সমাজতত্ত্বের প্রথাগত কাঠামো এই নতুন বাস্তবতাকে বোঝাতে অসমর্থ, কারণ এটি মানুষের অস্তিত্বকে জৈবিক ও স্থিতিশীল হিসেবে ধরে নেয়। তাই প্রয়োজন হয়েছে এমন এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গির, যা মানুষের সঙ্গে অ-মানুষের (যেমন: প্রযুক্তি, প্রাণী, পরিবেশ) সহ-বিবর্তনকে বিবেচনায় নেয়। এটি মানবকে একটি বিচ্ছিন্ন সত্তা হিসেবে দেখার পরিবর্তে 'অন্যান্যদের সঙ্গে বিকশিত হচ্ছে' এমন এক গতিশীল প্রক্রিয়া হিসেবে দেখে।

বাংলাদেশের মতো একটি দেশ, যেখানে ডিজিটাল বিভাজন এখনও একটি বাস্তবতা, সেখানে পোস্ট-স্পিশিস সমাজতত্ত্ব প্রথমে অনেকটা বিমূর্ত বা দুরূহ বলে মনে হতে পারে। কিন্তু গভীরভাবে দেখলে বোঝা যাবে, প্রযুক্তিগত অনুপ্রবেশ এবং সামাজিক রূপান্তরের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশও এই বৈশ্বিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠছে। দেশের বিভিন্ন খাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে—যেমন, ডিজিটাল শিক্ষা, টেলিমেডিসিন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রশাসন, এমনকি কৃষি খাতেও ড্রোন ও রোবোটিকসের ব্যবহার। এসবই সমাজে মানুষের ঐতিহ্যগত ভূমিকার ধারা পাল্টে দিচ্ছে। এই পরিবর্তনগুলো কেবল উন্নত দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজ ব্যবস্থায় পোস্ট-স্পিশিস ধারণার সূক্ষ্ম অনুরণন দেখা যায় যখন রোবোটিক কৃষিযন্ত্র মানুষের শ্রমের বিকল্প হয়ে ওঠে, বা স্বয়ংক্রিয় তথ্য বিশ্লেষণ কৃষকের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলে। রোবট-চালিত ট্রাক্টর, ড্রোন ব্যবহার করে শস্যক্ষেত্রের নজরদারি, এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক রোগ নির্ণয় পদ্ধতি কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনছে। এই পরিবর্তনগুলো কেবল উৎপাদন বৃদ্ধি করবে না, বরং গ্রামীণ সমাজের সামাজিক কাঠামো, শ্রমের ধরণ এবং অর্থনৈতিক শ্রেণিবিন্যাসের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে। প্রশ্ন হলো: রোবট যখন কৃষকের কাজ করবে, তখন ভূমিহীন কৃষকের ভবিষ্যৎ কী হবে? প্রযুক্তিগত জ্ঞানহীন কৃষক কি নতুন সমাজে প্রান্তিক হয়ে পড়বে? পোস্ট-স্পিশিস সমাজতত্ত্ব এই প্রশ্ন তোলে: কৃষক কি এখন আর শুধুই মানুষ থাকবে, নাকি রোবট-কৃষকের সহযোদ্ধা হয়ে এক নতুন সত্তা তৈরি করবে? এটি কেবল কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয় নয়, বরং কৃষকের সামাজিক অবস্থান এবং পরিচয়ের পরিবর্তনের বিষয়।

মেগাসিটি ঢাকার মতো শহরে পোস্ট-স্পিশিস বাস্তবতা আরও প্রকট। স্মার্ট সিটি পরিকল্পনা, স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা, এবং এআই-চালিত নজরদারি ব্যবস্থা শহুরে জীবনের গতিপ্রকৃতি পরিবর্তন করছে। এটি শহুরে দরিদ্র, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক এবং অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে? একইসঙ্গে, বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড, গার্মেন্টস শিল্প, বর্তমানে ব্যাপক অটোমেশনের ঝুঁকিতে রয়েছে। রোবট যখন সেলাই বা প্যাকেজিংয়ের কাজ করবে, তখন লাখ লাখ নারী শ্রমিকের ভবিষ্যৎ কী হবে? এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তন কর্মসংস্থান, মজুরি এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন আনবে, তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

পোস্ট-স্পিশিস সমাজতত্ত্বের আরেকটি দিক হলো প্রাণীর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক পুনরায় সংজ্ঞায়ন। বাংলাদেশে গবাদিপশু ও পোষা প্রাণীর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কেবল অর্থনৈতিক নয়, আবেগতাড়িত এবং সাংস্কৃতিকভাবে গাঁথা। এখন যদি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মাধ্যমে এই প্রাণীগুলোর আচরণ বা কর্মদক্ষতা পাল্টে দেওয়া হয়, তাহলে সম্পর্কের এই নির্মাণও ভেঙে পড়বে। ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিম মাংস তৈরির মতো প্রযুক্তি আমাদের খাদ্যব্যবস্থা এবং প্রাণীর প্রতি নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে গভীর প্রশ্ন তৈরি করছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন আসে: আমরা কি প্রস্তুত আছি আমাদের চারপাশের প্রাণিকুলের 'নেচার' বা স্বভাব কৃত্রিমভাবে বদলে দেওয়ার দায় নিতে? এই পরিবর্তনগুলো পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে গভীর নৈতিক বিতর্ক তৈরি হচ্ছে।

এছাড়া বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে পোস্ট-স্পিশিস বাস্তবতা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। অঙ্গ প্রতিস্থাপন, কৃত্রিম হৃদ্যন্ত্র, এবং অ্যালগরিদমিক রোগ নির্ণয়—এসব প্রযুক্তির প্রচলন কেবল চিকিৎসা নয়, মানব জীবনের ধারণাকেই রূপান্তর করছে। একসময় যে রোগ মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিত, এখন সেই রোগ নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সাহায্য করছে। এই প্রসঙ্গে একটি গভীর নৈতিক প্রশ্ন সামনে আসে: একটি মেশিন যখন মানুষের জীবনের সিদ্ধান্ত নেয়, তখন সেই জীবনের মানবিকতা কোথায় অবস্থান করে? মানুষের স্বাস্থ্য এবং জীবন এখন কেবল জীববিজ্ঞান দ্বারা নির্ধারিত নয়, বরং প্রযুক্তিগত সমাধান দ্বারাও প্রভাবিত হচ্ছে। একইসাথে, এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রবেশাধিকার সমাজের কোন অংশের হাতে থাকবে এবং এর ফলে স্বাস্থ্যসেবায় নতুন ধরনের বৈষম্য তৈরি হবে কি না, তাও আলোচনা করা জরুরি।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও নীতিনির্ধারক পরিমণ্ডলেও পোস্ট-স্পিশিস সমাজতত্ত্ব আলোচনার দাবিদার। উদাহরণস্বরূপ, ন্যাশনাল ডিজিটাল হেলথ স্ট্র্যাটেজি, কৃষি অটোমেশন নীতি কিংবা শিক্ষায় ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার—এসবই এমন বাস্তবতা তৈরি করছে যেখানে মানুষের কার্যকারিতা ক্রমাগত প্রযুক্তির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়াকে যদি কাঠামোগতভাবে মূল্যায়ন না করা হয়, তবে আমরা একটি ‘ডিজিটাল নব্য-উপনিবেশ’ এর দিকে ধাবিত হব। এই নব্য-উপনিবেশবাদে উন্নত দেশের প্রযুক্তি ও অ্যালগরিদম আমাদের সমাজের সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। আমাদের ডেটা বা তথ্য ভান্ডার বিদেশি কোম্পানির হাতে চলে গেলে তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। এই প্রযুক্তিগত প্রভাবকে কেবল উন্নয়নের চশমায় দেখলে চলবে না, বরং এর পেছনে লুকিয়ে থাকা ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামোকে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

এই সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন বাংলাদেশি প্রেক্ষাপটে পোস্ট-স্পিশিস সমাজতত্ত্বের গবেষণা, আলোচনাচক্র এবং শিক্ষাক্রম অন্তর্ভুক্তকরণ। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে "টেকনো-সোশ্যাল স্টাডিজ", "ডিজিটাল মানববিদ্যা" কিংবা "বায়োইথিক্স ও সমাজ" এর মতো কোর্স চালু করার মাধ্যমে একটি নব্য প্রজন্মকে গড়ে তোলা সম্ভব, যারা প্রযুক্তিকে কেবল দক্ষতার নয়, নৈতিকতার পরিপ্রেক্ষিতেও বিশ্লেষণ করতে পারবে। এই ধরনের শিক্ষা মানুষকে প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি তার নৈতিক ও সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করবে। এর জন্য একটি জাতীয় নীতি তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে ডেটা সার্বভৌমত্ব, ডিজিটাল অধিকার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ব্যবহারের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকবে।

সর্বোপরি, পোস্ট-স্পিশিস সমাজতত্ত্ব আমাদের শেখায় যে প্রযুক্তি কেবল বাহ্যিক উন্নয়ন নয়, বরং এক ধরনের অস্তিত্বগত রূপান্তরের ইঙ্গিত। বাংলাদেশের মতো সমাজ যেখানে এখনও ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং মানবিক মূল্যবোধ গভীরভাবে প্রোথিত, সেখানে এই রূপান্তর তীব্র সংঘর্ষ বা চূড়ান্ত রূপান্তর উভয়ের সম্ভাবনাই সৃষ্টি করতে পারে। এই দ্বৈত বাস্তবতাকে বুঝতে, মোকাবিলা করতে এবং নীতিগতভাবে সংহত করতে হলে আমাদের সমাজতাত্ত্বিক চিন্তার পরিধি প্রসারিত করতেই হবে।

ফলে, পোস্ট-স্পিশিস সমাজতত্ত্ব আর কেবল পশ্চিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে আলোচিত এক বিমূর্ত ধারণা নয়। বরং এটি হয়ে উঠছে বাংলাদেশের উন্নয়ন, প্রযুক্তি এবং নৈতিকতার সংযোগস্থলে এক অপরিহার্য তাত্ত্বিক হাতিয়ার। সময় এসেছে আমাদের সমাজবিজ্ঞান, নীতিনির্ধারণ এবং জনমতকে এই নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি করার, যেখানে মানুষ কেবল সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব নয়, বরং সহাবস্থানের এক বিবর্তনশীল অনুষঙ্গ। বাংলাদেশের সামনে দুটি পথ খোলা আছে: হয় বিদেশি প্রযুক্তির নিষ্ক্রিয় গ্রহীতা হয়ে এর সামাজিক পরিণতি মেনে নেওয়া, অথবা এই পরিবর্তনগুলোতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে, নিজেদের মূল্যবোধ ও প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলোকে রূপ দেওয়া।

লেখক: গবেষক ও উন্নয়নকর্মী।

এইচআর/এএসএম

Read Entire Article