প্যাকেজ মেন্যুতে দিনমজুরের ক্ষুধা মেটান সংগ্রামী মুন্নি

মধ্যদুপুর, সূর্য তখন মাথার ঠিক ওপরে। রাজধানীর নিউমার্কেটের ১ নম্বর গেটের অদূরে রাস্তার আইল্যান্ডে ঢকে রাখা বিভিন্ন পদের খাবার ডেকচি ও প্লেটে সাজিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় বসে ছিলেন এক তরুণী। পাশে দাঁড়িয়ে ছোট্ট একটি শিশু তাকে খাবার সাজাতে সহায়তা করছিল। চারপাশ ফাঁকা। দূরে নীলক্ষেত বাসস্ট্যান্ডের সামনে বাসের হেলপারদের যাত্রী ডাকতে দেখা যায়। পবিত্র ঈদুল আজহার চতুর্থ দিনে এ দৃশ্য চোখে পড়লে কৌতূহলবশত সামনে এগিয়ে তার নাম, ব্যবসার ধরন এবং কী কী খাবার বিক্রি করছেন তা জানতে চাই। গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় পেলে তিনি জানান, তার নাম মুন্নি আক্তার। গত এক বছর ধরে রাস্তার আইল্যান্ডে বাসা থেকে রান্না করে আনা দুপুরের খাবার বিক্রি করছেন । রিকশাচালক ও দিনমজুরসহ নিম্ন আয়ের মানুষই তার নিয়মিত ক্রেতা। মুন্নি জানান, প্যাকেজ হিসেবে খাবার বিক্রি করেন তিনি। এক নম্বর প্যাকেজে রয়েছে ভাত, গরু অথবা মুরগির মাংস, ভর্তা অথবা ভাজি এবং ডাল। এর দাম ১০০ টাকা। দ্বিতীয় প্যাকেজে রয়েছে ভাত, ছোট মাছের তরকারি, ভর্তা বা ভাজি ও ডাল । এর দাম ৭০ টাকা। সাধারণত প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন ক্রেতার কাছে খাবার বিক্রি করেন তিনি। রোববার (৩১ মে) ঈদের চতুর্থ

প্যাকেজ মেন্যুতে দিনমজুরের ক্ষুধা মেটান সংগ্রামী মুন্নি

মধ্যদুপুর, সূর্য তখন মাথার ঠিক ওপরে। রাজধানীর নিউমার্কেটের ১ নম্বর গেটের অদূরে রাস্তার আইল্যান্ডে ঢকে রাখা বিভিন্ন পদের খাবার ডেকচি ও প্লেটে সাজিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় বসে ছিলেন এক তরুণী। পাশে দাঁড়িয়ে ছোট্ট একটি শিশু তাকে খাবার সাজাতে সহায়তা করছিল। চারপাশ ফাঁকা। দূরে নীলক্ষেত বাসস্ট্যান্ডের সামনে বাসের হেলপারদের যাত্রী ডাকতে দেখা যায়।

পবিত্র ঈদুল আজহার চতুর্থ দিনে এ দৃশ্য চোখে পড়লে কৌতূহলবশত সামনে এগিয়ে তার নাম, ব্যবসার ধরন এবং কী কী খাবার বিক্রি করছেন তা জানতে চাই।

গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় পেলে তিনি জানান, তার নাম মুন্নি আক্তার। গত এক বছর ধরে রাস্তার আইল্যান্ডে বাসা থেকে রান্না করে আনা দুপুরের খাবার বিক্রি করছেন । রিকশাচালক ও দিনমজুরসহ নিম্ন আয়ের মানুষই তার নিয়মিত ক্রেতা।

jagonews24.com

মুন্নি জানান, প্যাকেজ হিসেবে খাবার বিক্রি করেন তিনি। এক নম্বর প্যাকেজে রয়েছে ভাত, গরু অথবা মুরগির মাংস, ভর্তা অথবা ভাজি এবং ডাল। এর দাম ১০০ টাকা। দ্বিতীয় প্যাকেজে রয়েছে ভাত, ছোট মাছের তরকারি, ভর্তা বা ভাজি ও ডাল । এর দাম ৭০ টাকা।

সাধারণত প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন ক্রেতার কাছে খাবার বিক্রি করেন তিনি। রোববার (৩১ মে) ঈদের চতুর্থ দিনে তিনি রান্না করেছেন পাঁচ কেজি চালের ভাত, মুরগির মাংস, গরুর মাথার মাংসের ভুনা, ডাল ভর্তা এবং পাতলা ডাল।

jagonews24.com

দুপুর ১২টায় খাবার সাজিয়ে বসলেও দুপুর ১টা পর্যন্ত কোনো ক্রেতা আসেনি তার দোকানে। খাবার বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে কি না জানতে চাইলে মুন্নি বলেন, নিয়মিত ক্রেতাদের অনেকেই ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে গেছেন। গতকাল কেউ কেউ ফিরে এসেছেন। তাছাড়া, রিকশাচালকসহ নিম্ন আয়ের মানুষেরা দুপুরের খাবার একটু দেরি করেই খেয়ে থাকেন। সাধারণত দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তারা খেতে আসেন।

মুন্নি জানান, তার স্বামী একজন রিকশাচালক। তিনি এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জননী। স্বামী কিছুটা অসুস্থ থাকায় সব সময় রিকশা চালাতে পারেন না। স্বামীর সামান্য আয় দিয়ে সংসার চলে না বলেই তিনি গত এক বছর ধরে বাসায় রান্না করে ফুটপাতে খাবার বিক্রি করছেন।

এমইউ/এএমএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow