প্যাথলজি রিপোর্টে স্বাক্ষর বিষয়ক ডিজি হেলথের নির্দেশনা বৈষম্যমূলক ও অযৌক্তিক

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি হেলথের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) কর্তৃক গত ৫/১/২০১৬ এবং ৭/১/২০২৬ (সংশোধিত) তারিখে জারিকৃত প্যাথলজি ল্যাব সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা (স্মারক নংঃ অধি/হাসঃ/নির্দেশনা/২০২৫/১৫) এর ৫ নম্বর ইস্যুতে বলা হয়েছে- “রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকগণকে বিএমডিসি রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্রাজুয়েট হতে হবে । ” এই নির্দেশনাটি বৈষম্যমূলক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অযৌক্তিক এবং বিজ্ঞানভিত্তিক ল্যাবরেটরি বাস্তবতার পরিপন্থী বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্ট (BACB)। এই বিষয়ে তারা এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানায়। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে কেন এই নির্দেশনা বৈষম্যমূলক ও অযৌক্তিক সারা সাংবাদিকদের সামনে ব্যাখ্যা করেন। স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিশেষায়িত ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ল্যাবরেটরিগুলোতে Histopathologist, Hematologist, Microbiologist, Clinical Pathologist Medical / Clinical Biochemist গণ তাঁদের নিজ নিজ বিশেষজ্ঞ ক্ষেত্র অনুযায়ী পরীক্ষার রিপোর্টে স্বাক্ষর করে আসছেন। এটি একটি দীর্ঘদিনের প্রতিষ

প্যাথলজি রিপোর্টে স্বাক্ষর বিষয়ক ডিজি হেলথের নির্দেশনা বৈষম্যমূলক ও অযৌক্তিক

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি হেলথের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) কর্তৃক গত ৫/১/২০১৬ এবং ৭/১/২০২৬ (সংশোধিত) তারিখে জারিকৃত প্যাথলজি ল্যাব সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা (স্মারক নংঃ অধি/হাসঃ/নির্দেশনা/২০২৫/১৫) এর ৫ নম্বর ইস্যুতে বলা হয়েছে-

“রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকগণকে বিএমডিসি রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্রাজুয়েট হতে হবে । ”

এই নির্দেশনাটি বৈষম্যমূলক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অযৌক্তিক এবং বিজ্ঞানভিত্তিক ল্যাবরেটরি বাস্তবতার পরিপন্থী বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্ট (BACB)। এই বিষয়ে তারা এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানায়।

গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে কেন এই নির্দেশনা বৈষম্যমূলক ও অযৌক্তিক সারা সাংবাদিকদের সামনে ব্যাখ্যা করেন। স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিশেষায়িত ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ল্যাবরেটরিগুলোতে Histopathologist, Hematologist, Microbiologist, Clinical Pathologist Medical / Clinical Biochemist গণ তাঁদের নিজ নিজ বিশেষজ্ঞ ক্ষেত্র অনুযায়ী পরীক্ষার রিপোর্টে স্বাক্ষর করে আসছেন। এটি একটি দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত জাতীয় চর্চা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পেশাগত মানদণ্ড। ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য এমনকি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও শ্রীলংকায় চিকিৎসকদের পাশাপাশি বায়োকেমিস্ট ও ল্যাব বিশেষজ্ঞরা রিপোর্টে স্বাক্ষর করে থাকেন।অনেক ক্ষেত্রে মেডিকেল গ্রাজুয়েটদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদানকারী শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

কিন্তু উক্ত নির্দেশনার মাধ্যমে এই দক্ষ ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের কার্যত অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে যা সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক ও পেশাগত মর্যাদাহানিকর।

আমরা অত্যন্ত দুঃখ ও উদ্বেগের সঙ্গে বলতে চাই যে, এই নির্দেশনার কারণে হাজারো ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টসহ অন্যান্য ল্যাবভিত্তিক বিশেষজ্ঞ পেশাজীবী ডায়াগনস্টিক সেক্টরে তাঁদের পরিশ্রম, দক্ষতা ও ন্যায্য পেশাগত ভূমিকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এটি শুধু পেশাগত মর্যাদার ওপর আঘাত নয়, বরং দেশের ডায়াগনস্টিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুতর হুমকি।

হঠাৎ করে শুধুমাত্র BMDC রেজিস্টার্ড চিকিৎসক দিয়ে রিপোর্ট স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করলে-

১। ল্যাবে রিপোর্ট স্বাক্ষরকারীর মারাত্মক সংকট তৈরি হবে।

২। হাজার হাজার ল্যাব কার্যত অচল হয়ে পড়বে

৩। রিপোর্ট ডেলিভারিতে মারাত্মক বিলম্ব হবে

৪। অল্পসংখ্যক প্যাথলজিস্ট দিয়ে এই ঘাটতি পূরণ অসম্ভব রোগীর জীবন, মৃত্যু ঝুঁকিতে পড়বে

৫। ডায়াগনস্টিক সেবার মান ও নির্ভুলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আইন ও নীতিগত বাস্তবতা:

বিদ্যমান স্বাস্থ্য আইন—বিশেষ করে প্রাইভেট ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৮২ এবং এর সংশোধনীতে-ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের রিপোর্টে স্বাক্ষরের অধিকার বাতিল করে শুধুমাত্র চিকিৎসকদের জন্য তা নির্ধারণ করার কোনো সুস্পষ্ট বিধান নেই ।

২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের সুপারিশমালা ৭(৪)-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিগণ। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী-যোগ্যতা নির্ধারিত হয় competency, training ও experience দিয়ে, ডিগ্রির নাম দিয়ে নয় ।এই নির্দেশনা ISO 15189, CAP, WHO guideline-এর সাথে সাংঘর্ষিক ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইন, ২০১৪ ( ২০১৪ সনের ১০ নং আইন ) ১৪-এ বাংলাদেশ সরকার আইন করেই মলিকুউলার বায়োলজি ল্যাবরেটরিতে বায়োকেমিস্টদের স্বীকৃতি দিয়েছে ।

সংবাদ সম্মেলনায় সংশ্লিষ্ট নেতৃত্ববৃন্দ বলেন, পেশাগত বৈষম্য পরিহার করে রোগী নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যখাতের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

অতএব, আমরা জোরালো ভাবে দাবি জানাচ্ছি- আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উক্ত নির্দেশনার ৫ নম্বর ধারা বাতিল অথবা সংশোধন করে অন্যান্য বিশেষায়িত প্যাথলজিস্টদের পাশাপাশি নন-মেডিকেল ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের রিপোর্টে স্বাক্ষরের সুযোগ রেখে একটি বাস্তবসম্মত ও ন্যায়সঙ্গত নির্দেশনা জারি করতে হবে।

আমরা স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করছি—এই আত্মঘাতী, বৈষম্যমূলক ও বাস্তবতাবিবর্জিত নির্দেশনা অবিলম্বে প্রত্যাহার না করা হলে দেশের স্বাস্থ্য খাত বিশেষ করে ডায়াগনস্টিক ল্যাব ব্যবস্থা, চিকিৎসা সিদ্ধান্ত এবং সর্বোপরি জনগণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা এক অপূরণীয় সংকটের মুখোমুখি হবে, যার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow