ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত হলো ‘চর্যাগীতি সন্ধ্যা’। গত ২৭ আগস্ট বুধবার প্যারিসে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠন ফ্রান্স কৃতি। ১৯২৫ সালে প্রখ্যাত ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ প্যারিসে চর্যাপদ নিয়ে গবেষণা শুরু করেছিলেন। সেই ঘটনার এক শ বছর পর একই শহরে অনুষ্ঠিত হলো চর্যাপদের এই সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের অনুষ্ঠান।
বাংলাদেশের ভাবসাধক চর্যাপদের গানের সুরকার, শিল্পী ও প্রশিক্ষক সাধিকা সৃজনী তানিয়া তার নিজস্ব রাগাশ্রয়ী সুরে গেয়ে শোনান প্রাচীন বৌদ্ধ সাধকদের গান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন গবেষক ও লোকসংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ সাইমন জাকারিয়া। তাদের সমন্বিত পরিবেশনা প্যারিসের সুধীমহলকে বিমোহিত করে।
বাংলাদেশী ও ফরাসি দর্শকদের উপস্থিতিতে ভরে উঠেছিলো ‘চর্যাগীতি সন্ধ্যা’। অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন এহসানুল হক, প্রফেসর ফিলিপ বেনোইট, প্রফেসর থিবাউট ডি হুবার্ট, অবারভিলিয়ে শহরের ভাষা ও সভ্যতা বিষয়ক সম্মানিত সভাপতি কার্লোস সমেডো, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও শিক্ষক হাসনাত জাহান, কবি ও ছড়াকার লোকমান আহমেদ আপন, পুঁথিশিল্পী কাব্য কামরুল, কণ্ঠশিল্পী ইসরাত ফ্লোরা প্রমুখ। এ ছাড়াও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী বাঙালি এবং ফরাসি দর্শকও এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন।
ফ্রান্স কৃতির পক্ষে জেরেমি কদ্রন, নীনা ক্লাভো, জোয়াসীম জানান বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার উদ্দেশে তাদের এ আয়োজন। তারা বলেন, ‘আমরা চাই বাংলা সাহিত্যের এই প্রাচীন রত্ন শুধু বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে আন্তর্জাতিক পরিসরে ছড়িয়ে দিতে। প্যারিসে শতবর্ষ পর চর্যাপদের প্রতিধ্বনি সেই স্বপ্নেরই প্রতিফলন।’
আরএমডি