ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ডামাডোল বাজছে জোরেশোরে। ইশতেহার, প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন প্রার্থীরা। এমনই একজন প্রার্থী আরমানুল হক। তিনি ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক।
আরমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন স্বতন্ত্র প্যানেল ‘বিনির্মাণ পর্ষদ’ থেকে সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে। নির্বাচনের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন জাগো নিউজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক হাসান আলী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কোনো কাজ যেন ডিপার্টমেন্ট থেকে হল, হল থেকে রেজিস্ট্রার বিল্ডিং, দৌড়ের ওপর থাকতে না হয় সেটার জন্য কাজ করবো। কাজগুলো ওয়ান টেবল সার্ভিসের মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করবো
জাগো নিউজ: ডাকসু নির্বাচনে এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটারদের সাড়া পাচ্ছেন কেমন?
আরমান: বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে শিক্ষার্থীদের অধিকারের জন্য সব সময় রাজপথে ছিলাম। একজন, দুজন, তিনজন চারজন নিয়েও আমরা দাঁড়িয়েছি। সে জায়গা থেকে শিক্ষার্থীরা আমাকে আগে থেকেই চিনতো। এখন আবার তাদের কাছে যাচ্ছি, তাদের কাছে ভোট চাচ্ছি। তাদের মূল্যবান ভোট যেন আমাকে দিয়ে, এত বছর ধরে অধিকার আদায়ের জন্য যে লড়াই করেছি তা বাস্তবায়ন করার সুযোগটা দেয়।
জাগো নিউজ: নির্বাচিত হল শিক্ষার্থীদের নিয়ে আপনার কী ধরনের পরিকল্পনা আছে?
আরমান: আমি একদম প্রথম বর্ষের শুরুতেই বুঝতে পারি, কীভাবে একটা মাথা গোঁজার জায়গার সংকট তৈরি করে রাখা হয়। শিক্ষার্থীদের যেভাবে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, সে জায়গা থেকে প্রথম বর্ষ থেকেই বৈধ সিটের বিষয়টা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবো। যদিও সেটা সময়সাপেক্ষ, কিন্তু সাময়িক সমাধান হিসেবে আবাসন ভাতার ব্যবস্থা করে হলেও আমরা সেটা এক্সিকিউট করার চেষ্টা করবো।
যৌন নিপীড়ন সেল গঠন করে সেটা ফাংশনাল করবো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী, কর্মচারী, শিক্ষক যদি কোনো ধরনের নিপীড়নের শিকার হন, সেটা যেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরেই দ্রুততম সময়ে সমাধান করা হয়
- আরও পড়ুন
- আমরা কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবো: আল সাদী ভূঁইয়া
- নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীদের বেসিক চাহিদাগুলো পূরণের চেষ্টা করবো
- ৫৪ বছরে ৯ ভিপি পেয়েছে জাবি, একজন হত্যাকাণ্ডের শিকার
এর বাইরে একটা রোডম্যাপ তৈরির চেষ্টা করবো, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেন একনেকের যে বাজেটটা আছে সেটা দিয়ে দ্রুত তারা রোডম্যাপটা তৈরি করে। সেক্ষেত্রে এজিএস পদে যদি জিতে আসি তাহলে আমি অবশ্যই সেটা প্রশাসনকে প্রেশারাইজ করতে পারবো যেন দ্রুত সময়ে তারা এটি করতে পারেন। এর বাইরে শিক্ষক মূল্যায়নের ব্যবস্থা করবো। শিক্ষকদের এক ধরনের জবাবদিহির মধ্যে নিয়ে আসা, শিক্ষার্থীরা যেন শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে পারে।
জাগো নিউজ: শিক্ষার্থীদের খাবার, পুষ্টিহীনতার যে সমস্যা সেটি সমাধানে কোনো পরিকল্পনা আছে?
আরমান: ক্যান্টিনগুলোর খাবারের মান খুবই খারাপ। দেখা যায় আমরা সর্বোচ্চ ১৮শ ক্যালরি পাই দিনে। কিন্তু ২২শ ক্যালরি পর্যন্ত প্রয়োজন হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেন পর্যাপ্ত ক্যালরিটা পায় খাবারের মধ্যে এবং খাবারের যে ক্যান্টিনগুলো সেগুলো যেন প্রশাসনিক তদারকিতে নিয়ে আসা যায়। যদি দরকার পড়ে কোনো কোনো হলে হয়তো সেটা ভর্তুকি দিয়েও চালানো যেতে পারে। প্রশাসন যেন এটা নিয়ে ব্যবসা না করে।
জাগো নিউজ: প্রশাসনিক জটিলতা, পরিবহন সুবিধা নিয়ে আপনার চিন্তা কী?
আরমান: রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের অচলায়তন ঠিক করার জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছি। সে জায়গা থেকে রেজিস্ট্রার বিল্ডিং যেন অটোমেশন পদ্ধতিতে চলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কোনো কাজ যেন ডিপার্টমেন্ট থেকে হল, হল থেকে রেজিস্ট্রার বিল্ডিং, দৌড়ের ওপর থাকতে না হয় সেটার জন্য কাজ করবো। কাজগুলো ওয়ান টেবল সার্ভিসের মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করবো। ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেমের অনেক ঝামেলা অনেকেই নিতে পারে না। বাস বাড়িয়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বাস সার্ভিস যেন চালু থাকে, যেন শিক্ষার্থীরা এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিসসহ অন্য কাজ বা আড্ডা পড়াশোনা, আলোচনায় অংশ নিতে পারে সেজন্য আমরা কাজ করবো।
জাগো নিউজ: নারী শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো বিশেষ কাজ করার আগ্রহ আছে?
আরমান: যৌন নিপীড়ন সেল গঠন করে সেটা ফাংশনাল করবো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী, কর্মচারী, শিক্ষক যদি কোনো ধরনের নিপীড়নের শিকার হন, সেটা যেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরেই দ্রুততম সময়ে সমাধান করা হয়। সন্ত্রাসবিরোধী সেল গঠন করবো যেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী বা কোনো সংগঠন যদি সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে তাহলে সেটা যেন বিচারের আওতায় আনা যায়।
জাগো নিউজ: আপনি তো একটি সংগঠনের পজিশন হোল্ড করেন। কিন্তু স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন কেন?
আরমান: ডাকসু নির্বাচনটা আসলে খুবই ট্যাকটিক্যাল একটা বিষয়। এখানে প্যানেল অনেকে অনেকভাবে দিচ্ছে। আমরা রাজনৈতিকভাবে কোনো দলের সঙ্গে জোটে নেই। ২০১৯ সালেও আলাদা দাঁড়িয়েছিলাম। সেই জায়গা থেকে আমরা ২০২৫ সালে এসেও আলাদা দাঁড়িয়েছি। আমরা যেহেতু পলিটিক্যালি কোনো দলের সঙ্গে জোটে নেই, সে জায়গা থেকে প্যানেলে যাওয়া মানে জোটে যাওয়া। আমার পরিচয়ে আমি দাঁড়াচ্ছি, ছাত্র ফেডারেশন ঢাবির আহ্বায়ক, আমি এই পরিচয়েই লড়াইটা করছি।
জাগো নিউজ: শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বিশেষ করে ভোটারদের উদ্দেশ্যে আপনার কিছু বলার আছে?
আরমান: ভোটারদের বলবো, দেখেন আপনাদের একেকটা ভোট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার পদে আরও ২৫ জন আছেন। এখন ২৫ জনের মধ্যে কাকে আপনি বেছে নেবেন? আপনি এমন কাউকে বেছে নেবেন যে আপনার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই করে আসছে। আপনার অধিকার আদায়ের জন্য যে সাহস করে দাঁড়িয়েছিল এবং ভবিষ্যতেও কাজ করবে। সে কমিটেড আপনার প্রতি, শিক্ষার্থীদের প্রতি। আপনি ভোটের সময় অবশ্যই ভেবে চিনতে দেবেন। কাজ করার সুযোগ দেবেন ওই লড়াকু ব্যক্তিদের যারা কঠিন সময়ে আপনাদের পাশে ছিল।
এমএইচএ/এএসএ/এমএফএ/জিকেএস