প্রস্রাবের রং দেখে কি শরীরের অবস্থা টের পাওয়া যায়? কখন ডাক্তারের কাছে যেতেই হবে

আমাদের শরীরের একটি প্রাকৃতিক ‘সিগন্যাল ল্যাম্প’ হলো প্রস্রাবের রং। আমরা অনেক সময় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিই না। অথচ প্রস্রাবের রঙের সামান্য পরিবর্তনও শরীরের ভেতরে চলতে থাকা নানা জটিলতা বা স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে। শরীরে পর্যাপ্ত পানি যাচ্ছে কি না, কিডনি বা লিভার ঠিকঠাক কাজ করছে কি না— এর প্রাথমিক ইঙ্গিত মিলতে পারে শুধু প্রস্রাবের রং দেখেই। ২০২৬ সালের ব্যস্ত জীবনযাত্রায় নিজের শরীরের এই ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সংকেতগুলো চিনে রাখা তাই আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। কখন প্রস্রাবের রং স্বাভাবিক, আর কখন তা বিপদের সতর্কবার্তা— জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত। প্রস্রাবের রঙ কোনটি স্বাভাবিক, কোনটি সতর্কতার ১. স্বচ্ছ বা একদম পানির মতো যদি প্রস্রাব একদম পানির মতো স্বচ্ছ হয়, তাহলে বুঝতে হবে আপনি প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পানি পান করছেন। এটি বড় কোনো সমস্যা না হলেও শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পানি পানের পরিমাণ সামান্য কমানো ভালো। ২. হালকা হলুদ বা খড়ের মতো রং এটাই সুস্থ শরীরের সবচেয়ে ভালো লক্ষণ। এর মানে হলো শরীর পর্যাপ্ত হাইড্রেটেড এবং কিডনি স্বাভাবিকভাবে

প্রস্রাবের রং দেখে কি শরীরের অবস্থা টের পাওয়া যায়? কখন ডাক্তারের কাছে যেতেই হবে
আমাদের শরীরের একটি প্রাকৃতিক ‘সিগন্যাল ল্যাম্প’ হলো প্রস্রাবের রং। আমরা অনেক সময় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিই না। অথচ প্রস্রাবের রঙের সামান্য পরিবর্তনও শরীরের ভেতরে চলতে থাকা নানা জটিলতা বা স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে। শরীরে পর্যাপ্ত পানি যাচ্ছে কি না, কিডনি বা লিভার ঠিকঠাক কাজ করছে কি না— এর প্রাথমিক ইঙ্গিত মিলতে পারে শুধু প্রস্রাবের রং দেখেই। ২০২৬ সালের ব্যস্ত জীবনযাত্রায় নিজের শরীরের এই ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সংকেতগুলো চিনে রাখা তাই আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। কখন প্রস্রাবের রং স্বাভাবিক, আর কখন তা বিপদের সতর্কবার্তা— জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত। প্রস্রাবের রঙ কোনটি স্বাভাবিক, কোনটি সতর্কতার ১. স্বচ্ছ বা একদম পানির মতো যদি প্রস্রাব একদম পানির মতো স্বচ্ছ হয়, তাহলে বুঝতে হবে আপনি প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পানি পান করছেন। এটি বড় কোনো সমস্যা না হলেও শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পানি পানের পরিমাণ সামান্য কমানো ভালো। ২. হালকা হলুদ বা খড়ের মতো রং এটাই সুস্থ শরীরের সবচেয়ে ভালো লক্ষণ। এর মানে হলো শরীর পর্যাপ্ত হাইড্রেটেড এবং কিডনি স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে। ৩. গাঢ় হলুদ বা অ্যাম্বারের মতো প্রস্রাব গাঢ় হলুদ হলে সেটি ডিহাইড্রেশনের ইঙ্গিত। শরীর তখন সংকেত দেয়, এখনই পানি দরকার। তবে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এমন রং হওয়া স্বাভাবিক। ৪. লালচে বা গোলাপি এই রং অত্যন্ত সতর্কতার বিষয়। আগের রাতে বিট, ব্লুবেরি বা এ ধরনের খাবার না খেয়ে থাকলে প্রস্রাবের লালচে বা গোলাপি রং রক্তপাতের ইঙ্গিত হতে পারে। এটি মূত্রনালির সংক্রমণ (UTI), কিডনিতে পাথর কিংবা প্রস্টেটজনিত সমস্যার লক্ষণও হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। ৫. কমলা রং অনেক সময় ভিটামিন সি বা কিছু অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের ফলে প্রস্রাব কমলা হতে পারে। তবে ওষুধ ছাড়াও যদি এই রং দেখা যায়, তাহলে তা লিভার বা পিত্তনালির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। ৬. নীল বা সবুজ এটি খুবই বিরল ঘটনা। সাধারণত খাবারে ব্যবহৃত কৃত্রিম রং বা কিছু বিশেষ ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় এমন হতে পারে। কিছু নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণেও প্রস্রাব নীলাভ বা সবুজ দেখাতে পারে। ৭. ফেনার মতো প্রস্রাব রঙের চেয়ে যদি প্রস্রাবে অস্বাভাবিক ফেনা বেশি দেখা যায়, তাহলে সেটি কিডনির গুরুতর সমস্যার সংকেত হতে পারে। এর মানে প্রস্রাবের সঙ্গে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন বেরিয়ে যাচ্ছে। কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন? নিম্নের যে কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি— ১. প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত দেখা গেলে ২. রঙ পরিবর্তনের সঙ্গে তলপেট বা পিঠে তীব্র ব্যথা হলে ৩. প্রস্রাবের রঙের পরিবর্তনের সঙ্গে জ্বর বা বমিভাব থাকলে ৪. প্রস্রাবের রং অস্বাভাবিক গাঢ় বা কালচে বাদামী হয়ে গেলে প্রস্রাবের রঙের দিকে নজর রাখা মানেই নিজের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখা। প্রতিদিন সাধারণভাবে ৩-৪ লিটার পানি পান করা জরুরি। আর রঙে বড় কোনো পরিবর্তন চোখে পড়লে অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। আপনার সামান্য সচেতনতাই আপনাকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow