প্রান্তিক মানুষের উন্নয়ন ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয় : শরীফুল আলম

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, প্রান্তিক, নিম্ন আয়ের ও খেটে খাওয়া মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। শহরমুখী উন্নয়নের পাশাপাশি, গ্রামীণ ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে না পারলে দেশের উন্নয়ন টেকসই হবে না। রোববার (২৪ মে) দুপুরে ভাষাসৈনিক এম. শামছুল হক মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন আয়োজিত নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে টিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  মো. শরিফুল আলম বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে অনেক সরকার এসেছে, কিন্তু প্রান্তিক ও শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ খুব বেশি দেখা যায়নি। সমাজের উচ্চবিত্ত ও শহরকেন্দ্রিক উন্নয়নের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অথচ গ্রামের সাধারণ মানুষ, দিনমজুর, শ্রমজীবী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন নিশ্চিত না হলে দেশের সার্বিক অগ্রগতি অর্জন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আমরা যদি তৃণমূলের মানুষকে উন্নয়নের মূল স্রোতে যুক্ত করতে না পারি, তাহলে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নও পূরণ হবে না। মানবসম্পদ, মানবতা ও নৈতিকতার বিকাশ ঘটাতে হলে প্রান্তিক মানুষ

প্রান্তিক মানুষের উন্নয়ন ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয় : শরীফুল আলম
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, প্রান্তিক, নিম্ন আয়ের ও খেটে খাওয়া মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। শহরমুখী উন্নয়নের পাশাপাশি, গ্রামীণ ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে না পারলে দেশের উন্নয়ন টেকসই হবে না। রোববার (২৪ মে) দুপুরে ভাষাসৈনিক এম. শামছুল হক মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন আয়োজিত নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে টিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  মো. শরিফুল আলম বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে অনেক সরকার এসেছে, কিন্তু প্রান্তিক ও শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ খুব বেশি দেখা যায়নি। সমাজের উচ্চবিত্ত ও শহরকেন্দ্রিক উন্নয়নের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অথচ গ্রামের সাধারণ মানুষ, দিনমজুর, শ্রমজীবী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন নিশ্চিত না হলে দেশের সার্বিক অগ্রগতি অর্জন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আমরা যদি তৃণমূলের মানুষকে উন্নয়নের মূল স্রোতে যুক্ত করতে না পারি, তাহলে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নও পূরণ হবে না। মানবসম্পদ, মানবতা ও নৈতিকতার বিকাশ ঘটাতে হলে প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নির্বাচনে জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে সরকারকে নির্বাচিত করেছে, সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। গরিব, অসহায় ও খেটে খাওয়া মানুষের জন্য নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র নয় দিনের মাথায় কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে ৪০ লাখ পরিবার এই সুবিধা পাবে। কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে অসহায় মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ‘হেলথ কার্ড’ কর্মসূচির প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। অনুষ্ঠানে ৬৬৯ পরিবারের মাঝে টিন বিতরণ কার্যক্রমকে ‘অত্যন্ত মহতী উদ্যোগ’ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে সিটি করপোরেশনের বড় বড় বাজেট থাকলেও প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ খুব বেশি দেখা যায়নি। বরং নানা অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ ছিল। এখন মানুষের কল্যাণে বাস্তবমুখী কাজ করার চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের দুর্নীতি, লুটপাট ও বিদেশে অর্থ পাচারের কারণে দেশের অর্থনীতিতে সংকট তৈরি হয়েছে। তবে সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং বিভিন্ন খাতে সাশ্রয়ী ব্যয় নিশ্চিত করে ময়মনসিংহের উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া হবে। টিন পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন নগরের বস্তি এলাকার বাসিন্দা আমিরুন নেছা। মন্ত্রী বলেন, আমার ঘরের টিনের চাল দীর্ঘদিন ধরে চুইয়ে পানি পড়ছিল। বৃষ্টি হলেই অনেক কষ্টে দিন কাটাতে হতো। অনেক দিন পর হলেও সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারি সহায়তায় নতুন টিন পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। এখন আর বৃষ্টির সময় সেই দুর্ভোগ পোহাতে হবে না। এতদিন আমাদের খোঁজ নেওয়ার মতো কেউ ছিল না, আজ সরকারি সহায়তা পেয়ে মনে হচ্ছে আমাদের কষ্টের কথা কেউ অন্তত ভেবেছে। এ সময় সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দা ওয়াহিদ, মুক্তাগাছা আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ, সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আল মজীদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে নগরের বিভিন্ন বস্তি ও নিম্ন আয়ের এলাকায় বসবাসকারী ৬৬৯টি পরিবারের মাঝে ঘর মেরামতের জন্য টিন বিতরণ করা হয়।  

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow