প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ইসলাম গ্রহণ ও বিয়ের সিদ্ধান্তে বাধা দেওয়া যাবে না: এলাহাবাদ হাই কোর্ট

ভারতের উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদ হাই কোর্ট প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, ধর্মীয় বিশ্বাস ও পছন্দের মানুষকে বিয়ে করার অধিকার নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন। আদালত বলেছেন, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক নারী নিজের ইচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে পছন্দের ব্যক্তিকে বিয়ে করতে চাইলে তার বাবা বা অন্য কেউ তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। সম্প্রতি দেওয়া এক আদেশে বিচারপতি সন্দীপ জৈন বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের ধর্ম, বিয়ে এবং বাসস্থান বেছে নেওয়ার স্বাধীন সিদ্ধান্তে বাধা দেওয়া তাদের সংবিধান-স্বীকৃত মর্যাদা, গোপনীয়তা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারের লঙ্ঘন। দুই প্রাপ্তবয়স্ক বোনের করা এক মামলার শুনানিতে এই পর্যবেক্ষণ দেন বিচারপতি। একই সঙ্গে তাদের আগামী ৬ আগস্ট আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার আবেদনকারী ২০ বছর বয়সী দিব্যা ভাটিয়া এবং ৩৫ বছর বয়সী অংশু ভাটিয়া অভিযোগ করেন, হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ এবং নিজেদের পছন্দের মানুষকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তাদের বাবা বেআইনিভাবে তাদের আটকে রেখেছেন। আদালত বলেন, আবেদনকারী দুই নারীই প্রাপ্তবয়স্ক। ফলে নিজেদের ধর্ম, বিয়ে, বসবাস এবং ভবিষ্যৎ জীবন

প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ইসলাম গ্রহণ ও বিয়ের সিদ্ধান্তে বাধা দেওয়া যাবে না: এলাহাবাদ হাই কোর্ট
ভারতের উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদ হাই কোর্ট প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, ধর্মীয় বিশ্বাস ও পছন্দের মানুষকে বিয়ে করার অধিকার নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন। আদালত বলেছেন, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক নারী নিজের ইচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে পছন্দের ব্যক্তিকে বিয়ে করতে চাইলে তার বাবা বা অন্য কেউ তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। সম্প্রতি দেওয়া এক আদেশে বিচারপতি সন্দীপ জৈন বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের ধর্ম, বিয়ে এবং বাসস্থান বেছে নেওয়ার স্বাধীন সিদ্ধান্তে বাধা দেওয়া তাদের সংবিধান-স্বীকৃত মর্যাদা, গোপনীয়তা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারের লঙ্ঘন। দুই প্রাপ্তবয়স্ক বোনের করা এক মামলার শুনানিতে এই পর্যবেক্ষণ দেন বিচারপতি। একই সঙ্গে তাদের আগামী ৬ আগস্ট আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার আবেদনকারী ২০ বছর বয়সী দিব্যা ভাটিয়া এবং ৩৫ বছর বয়সী অংশু ভাটিয়া অভিযোগ করেন, হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ এবং নিজেদের পছন্দের মানুষকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তাদের বাবা বেআইনিভাবে তাদের আটকে রেখেছেন। আদালত বলেন, আবেদনকারী দুই নারীই প্রাপ্তবয়স্ক। ফলে নিজেদের ধর্ম, বিয়ে, বসবাস এবং ভবিষ্যৎ জীবন সম্পর্কে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ আইনগত অধিকার তাদের রয়েছে। গত ৩১ জুলাই দেওয়া আদেশে আদালত বলেন, "যদি অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে তাদের বাবা বা অন্য কারও হস্তক্ষেপ সংবিধান-সুরক্ষিত মর্যাদা, গোপনীয়তা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারের ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।" আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, নথিপত্র থেকে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, দুই নারী স্বেচ্ছায় হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বিয়ে করতে চান। তবে তারা স্বাধীনভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, নাকি বেআইনিভাবে আটক বা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছেন, তা নিশ্চিত করাই আদালতের প্রধান দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন বিচারপতি। এ কারণে আগামী ৬ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে, যাতে বিচারপতি সরাসরি তাদের বক্তব্য শুনে বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারেন। আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছেন, নির্ধারিত দিনে দুই নারীকে আদালতে হাজির করা না হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত হলফনামা জমা দিতে হবে। সেখানে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণ, তাদের আদালতে হাজির করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে নির্দেশ বাস্তবায়নে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। সূত্র: দ্য হিন্দুস্তান টাইমস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow