প্রেমের টানে হাজার মাইল পেরিয়ে ঘাটাইলে চীনা যুবক

ভাষা, সংস্কৃতি ও হাজার মাইলের দূরত্বকে হার মানিয়েছে ভালোবাসা। চীনা নাগরিক জংজিয়াং মামুসা (২৮) প্রেমের টানে সম্প্রতি টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ছুটে এসে মুসলিম রীতিতে বিয়ে সম্পন্ন করেছেন স্কুলছাত্রী মায়া আকতারের সঙ্গে। বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা জানান, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে ঘাটাইল উপজেলায় পাঁচটিকরি গ্রামে মায়া আকতারের বাবা আব্দুল মালেকের বাড়িতে আসেন চীনা নাগরিক জংজিয়াং মামুসা। পরে মুসলিম রীতি অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। পাসপোর্ট, ভিসা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্ত্রীকে চীন নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মামুসা। খবর পেয়ে দূরদূরান্ত থেকে লোকজন ছুটে আসছে মায়ার বাড়িতে।  সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার লোকেরপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল মালেকের নবম শ্রেণিপড়ুয়া মেয়ে মায়া আকতারের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘উইচ্যাট’-এর মাধ্যমে পরিচয় হয় চীনের গানসু প্রদেশের সানজিয়া টাউনশিপ গ্রামের জংজিয়াং মামুসার। অল্প সময়েই তাদের মধ্যে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। এরমধ্যে মায়ার বিয়ের কথাবার্তা চলতে থাকার বিষয়টি জানানো হয় মামুসাকে। পরে চীন থেকে গত ১৮ ফেব্

প্রেমের টানে হাজার মাইল পেরিয়ে ঘাটাইলে চীনা যুবক

ভাষা, সংস্কৃতি ও হাজার মাইলের দূরত্বকে হার মানিয়েছে ভালোবাসা। চীনা নাগরিক জংজিয়াং মামুসা (২৮) প্রেমের টানে সম্প্রতি টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ছুটে এসে মুসলিম রীতিতে বিয়ে সম্পন্ন করেছেন স্কুলছাত্রী মায়া আকতারের সঙ্গে। বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয়রা জানান, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে ঘাটাইল উপজেলায় পাঁচটিকরি গ্রামে মায়া আকতারের বাবা আব্দুল মালেকের বাড়িতে আসেন চীনা নাগরিক জংজিয়াং মামুসা। পরে মুসলিম রীতি অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। পাসপোর্ট, ভিসা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্ত্রীকে চীন নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মামুসা।

খবর পেয়ে দূরদূরান্ত থেকে লোকজন ছুটে আসছে মায়ার বাড়িতে। 

সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার লোকেরপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল মালেকের নবম শ্রেণিপড়ুয়া মেয়ে মায়া আকতারের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘উইচ্যাট’-এর মাধ্যমে পরিচয় হয় চীনের গানসু প্রদেশের সানজিয়া টাউনশিপ গ্রামের জংজিয়াং মামুসার। অল্প সময়েই তাদের মধ্যে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়।

এরমধ্যে মায়ার বিয়ের কথাবার্তা চলতে থাকার বিষয়টি জানানো হয় মামুসাকে। পরে চীন থেকে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচটিকরি গ্রামে চলে আসেন তিনি। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে কাজী ডেকে মুসলিম রীতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

এদিকে বিয়ের পর থেকে মামুসা স্ত্রী মায়াকে নিয়ে হাত ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে গ্রামের মেঠোপথ ও রাস্তাঘাট দিয়ে। খাচ্ছেন মাছ, মাংস, সবজিসহ সব ধরনের বাংলাদেশি খাবার।

চীনা যুবক মামুসা কালবেলাকে জানান, ১৫ দিন ধরে ভালোবাসার টানে বাংলাদেশে এসে বিয়েও করেছেন মায়াকে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্ত্রীকে চীন নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। বর্তমানে এক মাসের ভিসায় বাংলাদেশে অবস্থান করছেন তিনি।

মায়া আকতার জানান, উইচ্যাটের মাধ্যমে তাদের পরিচয়। বিয়ে হয়েছে তাদের। স্বামীর সঙ্গে চীনে যেতে ইচ্ছুক তিনিও।

স্থানীয়রা জানান, চীনা নাগরিক মামুসা পাঁচটিকরি আসার খবরে তারা দেখতে আসছেন। আশপাশের লোকজন ভিড় করছেন মালেকের বাড়িতে। এতে বিরাজ করছে কৌতূহল, সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্যের।

মায়ার বাবা আব্দুল মালেক জানান, প্রথমে বিষয়টি তিনি মেনে না নিলেও পরে নিয়তির কাছে ছেড়ে দিয়ে সব কিছু মেনে নিয়েছেন। মেয়েকে চীন পাঠাতেও রাজি তিনি। মেয়ের খুশিই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

লোকেরপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মোমেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রেমের টানে চীনা নাগরিকের ঘাটাইলে ছুটে এসে মায়া আকতারকে বিয়ে করার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল হক মিলন বলেন, বিদেশি নাগরিক বিয়ে করতে আসায় এলাকায় সাড়া পড়েছে, তবে সবকিছু আইনগত প্রক্রিয়া মেনেই সম্পন্ন করার দাবি করেছে পরিবার।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow