ফকিরহাটে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ
টানা বৃষ্টির মধ্যে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাবে গত এক মাসে (২২ জুন থেকে ২২ জুলাই) ৪৬ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ তিন দিনেই শনাক্ত হয়েছেন ১৬ জন। তবে এ সময়ের প্রায় ১৫ দিন ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট না থাকায় পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত বহির্বিভাগে জ্বর, শরীরব্যথা ও ত্বকে র্যাশসহ ডেঙ্গুর বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে প্রায় শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। চলতি জুলাই মাসে ডেঙ্গুজনিত জটিলতায় ১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বুধবার পর্যন্ত হাসপাতালে তিনজন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) সুদেব হালদার জানান, ২২ জুন থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত ৪৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ের প্রায় ১৫ দিন পরীক্ষার কিট না থাকায় ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ ছিল। তিন দিন আগে কিট সরবরাহের পর পুনরায় পরীক্ষা শুরু হলে ওই তিন দিনেই ১৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। তিনি আরও জানান, উপজেলার ১৪টি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলেও সেসব তথ্য উপজেলা স্
টানা বৃষ্টির মধ্যে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাবে গত এক মাসে (২২ জুন থেকে ২২ জুলাই) ৪৬ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ তিন দিনেই শনাক্ত হয়েছেন ১৬ জন। তবে এ সময়ের প্রায় ১৫ দিন ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট না থাকায় পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত বহির্বিভাগে জ্বর, শরীরব্যথা ও ত্বকে র্যাশসহ ডেঙ্গুর বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে প্রায় শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। চলতি জুলাই মাসে ডেঙ্গুজনিত জটিলতায় ১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বুধবার পর্যন্ত হাসপাতালে তিনজন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন।
হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) সুদেব হালদার জানান, ২২ জুন থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত ৪৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ের প্রায় ১৫ দিন পরীক্ষার কিট না থাকায় ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ ছিল। তিন দিন আগে কিট সরবরাহের পর পুনরায় পরীক্ষা শুরু হলে ওই তিন দিনেই ১৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।
তিনি আরও জানান, উপজেলার ১৪টি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলেও সেসব তথ্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত নেই।
সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের একটি অংশ সংস্কারাধীন থাকায় ওয়ার্ড সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে ডেঙ্গু রোগীদের সাধারণ ওয়ার্ডেই অন্যান্য রোগীর সঙ্গে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তানভীর মাহমুদ অনিক বলেন, হঠাৎ করেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে বাহিরদিয়া ও ফকিরহাট সদর এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। প্রতিদিন বহির্বিভাগে গড়ে শতাধিক রোগী জ্বর, শরীরব্যথা ও র্যাশের উপসর্গ নিয়ে আসছেন। তবে অনেকেই ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে অনীহা প্রকাশ করেন। প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ জন রোগীর মধ্যে ডেঙ্গুর প্রবল উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রিনা বেগম বলেন, কয়েক দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। প্রথমে সাধারণ জ্বর ভেবে ওষুধ খেলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। বর্তমানে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রোকনুজ জামান বলেন, সরকারি হাসপাতালে এনএস-১ ডেঙ্গু পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ওষুধেরও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা এবং আশপাশে কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না।
What's Your Reaction?