ফরিদপুরে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৩০

19 hours ago 8

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ইয়াবা বিক্রিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

বুধবার (২ এপ্রিল) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার আলগী ইউনিয়নের শাহমুল্লুকদী গ্রামে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের বেলায়েত মুন্সির ছেলে আরিফ মুন্সি দীর্ঘদিন যাবত ইয়াবা সেবন ও বিক্রি করে আসছেন। রমজানের মধ্যে মনিরুল মোল্লা আরিফ মুন্সিকে ইয়াবা বিক্রি ও সেবন করতে নিষেধ করেন। এর জের ধরে ঈদের দিন (সোমবার) রাত ৯টার দিকে মনিরুল বাজার থেকে ফেরার পথে ইয়াবা বিক্রেতা আরিফ, রুবেল, ইমরান, বেলায়েত, শাখাওয়াতসহ আরও কয়েকজন সংঘবদ্ধভাবে মনিরুল মোল্লাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনার জের ধরে বুধবার বিকেলে মনিরুল মোল্লার বাবা আব্দুল আজিজ টুকু মোল্লা ও আরিফ মুন্সি দলের শাফি মোল্লার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় চলে এ সংঘর্ষ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ব্যাপারে মনিরুল মোল্লার বাবা আব্দুল আজিজ টুকু মোল্লা বলেন, শাফি মোল্লার ছেলে আরিফ মুন্সি ইয়াবা বিক্রি করে। আমার ছেলে মনিরুল মোল্লা ইয়াবা বিক্রি করতে বাধা দিলে ঈদের দিন রাতে তাকে কুপিয়ে জখম করে। বুধবার তারা আমাদের ওপর আবারো হামলা চালায়। পরে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে মারামারি হয়। এ ঘটনায় আমার দলের ১০-১৫ জন লোক আহত হয়েছে।

এ ব্যাপারে শাফি মোল্লা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে টুকু মোল্লার সঙ্গে আমাদের বিরোধ চলে আসছিল। তারা মাঝে মধ্যেই আমাদের লোকজনকে মারধর করে। বুধবার তারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। পরে আমরাও পাল্টা হামলা চালিয়েছি। এতে আমার পক্ষের অন্তত ১৫-১৬ জন আহত হয়।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফ হোসেন বলেন, পুর্ব শক্রতার জের ধরে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় কোনো পক্ষ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এন কে বি নয়ন/এফএ/এএসএম

Read Entire Article