ফাইনালের গোলদাতা তোরেসকে পেতে পিএসজির প্রস্তাব, ফিরিয়ে দিল বার্সা

ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একমাত্র জয়সূচক গোল করে স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানো ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেসকে দলে ভেড়ানোর লড়াই এবার আরও জমে উঠেছে। প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) প্রথম প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে বার্সেলোনা। ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা ২৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের জন্য ৪০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সেই অঙ্কে রাজি হয়নি কাতালান ক্লাবটি। তবে এখানেই আলোচনা থেমে যাচ্ছে না। বার্সেলোনার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুই ক্লাবের মধ্যে আলোচনা এখনো চলছে। অর্থাৎ প্রথম প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেও ফেরানকে নিয়ে পিএসজির আগ্রহ যে শেষ হয়ে যায়নি, সেটি স্পষ্ট। বার্সেলোনার একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘বার্সা ও পিএসজির মধ্যে আলোচনা চলছে।’ ফেরান তোরেসও আগ্রহী পিএসজিতে যেতে বার্সেলোনা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও খেলোয়াড়ের নিজের অবস্থানই এখন এই দলবদলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক। বিভিন্ন স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ফেরান তোরেস ইতোমধ্যেই পিএসজিতে যাওয়ার ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছেন। প্রাক-মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি নিশ্চয়তা দেননি ফেরান। তিনি বলেছিলেন, বার্সেলোনার সঙ্

ফাইনালের গোলদাতা তোরেসকে পেতে পিএসজির প্রস্তাব, ফিরিয়ে দিল বার্সা

ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একমাত্র জয়সূচক গোল করে স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানো ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেসকে দলে ভেড়ানোর লড়াই এবার আরও জমে উঠেছে। প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) প্রথম প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে বার্সেলোনা। ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা ২৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের জন্য ৪০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সেই অঙ্কে রাজি হয়নি কাতালান ক্লাবটি।

তবে এখানেই আলোচনা থেমে যাচ্ছে না। বার্সেলোনার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুই ক্লাবের মধ্যে আলোচনা এখনো চলছে। অর্থাৎ প্রথম প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেও ফেরানকে নিয়ে পিএসজির আগ্রহ যে শেষ হয়ে যায়নি, সেটি স্পষ্ট। বার্সেলোনার একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘বার্সা ও পিএসজির মধ্যে আলোচনা চলছে।’

ফেরান তোরেসও আগ্রহী পিএসজিতে যেতে

বার্সেলোনা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও খেলোয়াড়ের নিজের অবস্থানই এখন এই দলবদলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক। বিভিন্ন স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ফেরান তোরেস ইতোমধ্যেই পিএসজিতে যাওয়ার ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছেন।

প্রাক-মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি নিশ্চয়তা দেননি ফেরান। তিনি বলেছিলেন, বার্সেলোনার সঙ্গে তার চুক্তি আছে, তবে ফুটবলে কখন কী হয়, তা বলা কঠিন। এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, বার্সেলোনায় থাকাটা এখন আর তার জন্য একমাত্র সম্ভাবনা নয়।

ফেরান তোরেসের বাজারমূল্য ও চাহিদা হঠাৎ করে বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ অবশ্যই তার সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সাফল্য। স্পেনের হয়ে এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে গোল করে দলকে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। বিশ্বকাপের সেই পারফরম্যান্সের পর থেকেই ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজরে ফেরান আরও জোরালোভাবে আসে।

বার্সেলোনায় ফেরান যোগ দিয়েছিলেন ২০২১ সালে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে ৫৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে। গত দুই মৌসুমে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ৯৪ বার মাঠে নেমে করেছেন ৪০ গোল।

হ্যান্সি ফ্লিকের অধীনে অবশ্য তাকে নিয়মিত প্রথম পছন্দের স্ট্রাইকার হিসেবে দেখা হয়নি। রবার্ট লেওয়ানডস্কির বিকল্প হিসেবেই বেশির ভাগ সময় ব্যবহার করা হয়েছে তাকে। তবে সেই পরিস্থিতিই এখন বদলে যাচ্ছে।

নতুন মৌসুমের আগে বার্সেলোনার আক্রমণভাগে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিনের স্ট্রাইকার লেওয়ানডস্কি এখন শিকাগো ফায়ারে যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে ইংলিশ ফরোয়ার্ড মার্কাস রাশফোর্ডও তার লোনের মেয়াদ শেষ করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফিরে গেছেন। ফলে আক্রমণভাগে নতুন করে ভারসাম্য তৈরি করতে হচ্ছে বার্সাকে।

এই পরিস্থিতিতে ফেরানকে বিক্রি করে দেওয়া কতটা যৌক্তিক হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ লেওয়ানডস্কির বিদায়ের পর দলে একজন অভিজ্ঞ আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে ফেরানের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। তার ওপর তিনি মাত্রই বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ফিরেছেন।

বিকল্প খুঁজছে বার্সাও

অবশ্য ফেরানকে বিক্রি করলে বার্সেলোনা যে খালি হাতে থাকবে, এমন নয়। আর্জেন্টিনার তারকা স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজকে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ থেকে আনার চেষ্টা এখনো চলছে। তবে সেই চুক্তি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

এরই মধ্যে বার্সেলোনার আক্রমণভাগে কারিম আদেয়েমি ও অ্যান্থোনি গর্ডনের মতো খেলোয়াড়ও যোগ দিয়েছেন। ফলে ফেরানের ভবিষ্যৎ নিয়ে বার্সার সিদ্ধান্ত শুধু অর্থনৈতিক নয়, পুরো আক্রমণভাগের পরিকল্পনার সঙ্গেও জড়িত।

৪০ মিলিয়ন ইউরোতেই কেন ‘না’?

পিএসজির ৪০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব বার্সেলোনার কাছে যথেষ্ট মনে হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, কাতালান ক্লাবটি ফেরানকে ছাড়তে হলে আরও বেশি অর্থ প্রত্যাশা করছে। অর্থাৎ পিএসজিকে এখন দ্বিতীয় প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় বসতে হতে পারে।

আর এখানেই দলবদলের লড়াইটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে- পিএসজি কি বার্সার চাওয়া অর্থ দিতে রাজি হবে, নাকি ফেরানকে নিয়ে আলোচনা থেমে যাবে?

একদিকে খেলোয়াড় নিজে প্যারিসে যাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী, অন্যদিকে বার্সেলোনা ৪০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে। ফলে এখন সবকিছু নির্ভর করছে দুই ক্লাবের দর-কষাকষির ওপর।

আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow