ফাইনালের মারামারি নিয়ে আয়ালার দুঃখপ্রকাশ, প্রত্যাখ্যান দানি ওলমোর
বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দের মধ্যেও ফাইনালের শেষ মুহূর্তের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো ভুলতে পারছেন না স্পেনের মিডফিল্ডার দানি ওলমো। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে স্পষ্ট ভাষায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, মাঠে নিজের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আচরণ দিয়েও উদাহরণ হয়ে থাকতে চান, যাতে তার পরিবার, জন্মস্থান তেরাসা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তার জন্য গর্ব করতে পারে। ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন দানি ওলমো। ইউরো, নেশনস লিগের পর এবার বিশ্বকাপও জিতে জাতীয় দলের হয়ে তিন বছরের মধ্যে সব বড় শিরোপা জয়ের স্বাদ পেলেন তিনি। বিশ্বকাপ জয়ের মূল রহস্য কী ছিল, এমন প্রশ্নের জবাবে ওলমো বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল দলগত ঐক্য। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে দল সবসময় বড় ছিল। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, সবাই একটি পরিবারের মতো ছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের সেরা দলগুলোর মধ্যে পার্থক্য খুবই সামান্য। তবে একই ফুটবল দর্শনে বিশ্বাস এবং সবাই মিলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাই স্পেনকে আলাদা করেছে।’ বিশ্বকাপে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ওলমো বলেন, ‘বিশ্বকাপ একজন ফুটবলারের জীবনের সবচেয়ে ব
বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দের মধ্যেও ফাইনালের শেষ মুহূর্তের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো ভুলতে পারছেন না স্পেনের মিডফিল্ডার দানি ওলমো। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে স্পষ্ট ভাষায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।
একই সঙ্গে জানিয়েছেন, মাঠে নিজের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আচরণ দিয়েও উদাহরণ হয়ে থাকতে চান, যাতে তার পরিবার, জন্মস্থান তেরাসা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তার জন্য গর্ব করতে পারে।
২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন দানি ওলমো। ইউরো, নেশনস লিগের পর এবার বিশ্বকাপও জিতে জাতীয় দলের হয়ে তিন বছরের মধ্যে সব বড় শিরোপা জয়ের স্বাদ পেলেন তিনি।
বিশ্বকাপ জয়ের মূল রহস্য কী ছিল, এমন প্রশ্নের জবাবে ওলমো বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল দলগত ঐক্য। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে দল সবসময় বড় ছিল। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, সবাই একটি পরিবারের মতো ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের সেরা দলগুলোর মধ্যে পার্থক্য খুবই সামান্য। তবে একই ফুটবল দর্শনে বিশ্বাস এবং সবাই মিলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাই স্পেনকে আলাদা করেছে।’
বিশ্বকাপে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ওলমো বলেন, ‘বিশ্বকাপ একজন ফুটবলারের জীবনের সবচেয়ে বড় মঞ্চ। আমি শুরু থেকেই বিশ্বাস করতাম, আমরা শিরোপা জিততে পারবো। শুধু মুখে বলিনি, সত্যিই বিশ্বাস করেছিলাম।’
দীর্ঘ ও কঠিন মৌসুমের পরও কীভাবে এত ফিট ছিলেন, এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি কঠোর পরিশ্রমের ওপরই জোর দেন। তার ভাষায়, ‘শুধু মাঠের অনুশীলন নয়, পুষ্টি, বিশ্রাম, পুনরুদ্ধার, মানসিক প্রস্তুতি ও ম্যাচ বিশ্লেষণ এসবই উন্নতির মূল চাবিকাঠি। আসল উন্নতি হয় তখনই, যখন কেউ আপনাকে দেখছে না।’
পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করা প্রসঙ্গে ওলমো বলেন, দুই প্রান্তেই স্পেন ছিল সেরা দল, আর সেটিই বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম ভিত্তি। ৪৮ দলের বিশ্বকাপ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটি ছিল অত্যন্ত কঠিন একটি আসর। অনেক বড় দল গ্রুপ পর্বই পেরোতে পারেনি। তার মতে, কেপ ভার্দে ছিল সবচেয়ে বড় চমক। এছাড়া মিশর, প্যারাগুয়ে ও নরওয়ের পারফরম্যান্সও তাকে মুগ্ধ করেছে।’
জাতীয় দলের হয়ে সব বড় শিরোপা জয়ের পর এবার লক্ষ্য কী? জবাবে ওলমো বলেন, ‘প্রতি মৌসুমেই আমার লক্ষ্য একই বার্সেলোনা ও স্পেনের হয়ে সব শিরোপা জয় করা।’
বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশির পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং পরে রবার্তো আয়ালার অনুশোচনার বক্তব্য নিয়েও মুখ খুলেছেন ওলমো। তিনি বলেন, ‘যদি কেউ বলে যে সে অনুতপ্ত, কিন্তু একই সঙ্গে ঘুষিকে ন্যায্য বলে ব্যাখ্যা করে, তাহলে সে আসলে অনুতপ্ত নয়। কারণ তিনি মিথ্যা বলছেন। আমি তাকে কিছুই বলিনি। তাই তার কাছে আমার কোনো ক্ষমা চাওয়ারও প্রয়োজন নেই।’
ওলমোর মতে, একজন মানুষের পরিচয় তার ভুলে নয়, বরং সেই ভুল স্বীকার করার সাহস, বিনয় ও সততার মধ্যেই ফুটে ওঠে। শেষে ফুটবলারদের সামাজিক দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন স্পেনের এই তারকা, ‘যখন আমার সন্তান, পরিবার কিংবা তেরাসার মানুষ আমাকে খেলা দেখতে বসবে, আমি চাই তারা আমার প্রতিযোগিতার মানসিকতা, জয়ের ধরন এবং সবচেয়ে বেশি আমার আচরণ নিয়ে গর্ব করুক। কারণ ফুটবলাররা নতুন প্রজন্মের কাছে আদর্শ, আর সেটি অনেক বড় দায়িত্ব।’
তিনি যোগ করেন, সব বিতর্কের বাইরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো — স্পেন কঠোর পরিশ্রমের ফল হিসেবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে, আর পুরো বিশ্ব সেই অর্জনের সাক্ষী হয়েছে।
আরআর/আইএন
What's Your Reaction?