ফাইনালের ৭ দিন পর নীরবতা ভেঙে আবেগমাখা চিঠিতে যা লিখলেন স্কালোনি
বিশ্বকাপের লড়াই শেষ হয়েছে এক সপ্তাহ আগে। যুক্তরাষ্ট্রে শিরোপা অক্ষুণ্ণ রাখার লড়াইয়ে স্পেনের কাছে হেরে গেছে আর্জেন্টিনা। সেই ক্ষত এখনো দগদগে। আর এমন এক সময়েই নিজ শহর পুখাতো ছাড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন ও বিষাদমাখা খোলা চিঠি লিখলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনি। মার্কার প্রতিবেদন। পুখাতোর শান্ত, নিঝুম রাস্তায় গত কয়েকটা দিন মানুষের ভালোবাসা আর সমবেদনায় ভিজেছেন স্কালোনি। কিন্তু বুকের ভেতর যে না-পাওয়ার যন্ত্রণা জমিয়ে রেখেছিলেন, তা আর চেপে রাখতে পারলেন না। ভক্তদের উদ্দেশ্যে ইনস্টাগ্রামে সোজা লিখে দিলেন, ‘আরেকটি বিশ্বকাপ আপনাদের এনে দিতে না পারার জন্য আমি দুঃখিত।’ পোস্ট করার সঙ্গেই সেটি ছড়িয়ে পড়ে। কোটি কোটি ভক্তের প্রতিক্রিয়া আর ভালোবাসায় প্লাবিত হয় কমেন্ট বক্স। চিঠিতে নিজের মনের ভেতরের দ্বন্দ্বর কথা খোলামেলাভাবেই তুলে ধরেছেন সান্তা ফের এই সন্তান। লিখেছেন, ‘দুঃখ আর আনন্দ এখন একসঙ্গে মিশে গেছে—একদিকে চোখের জল, অন্যদিকে এক চিলতে হাসি, বুকের ভেতর দারুণ যন্ত্রণা, অথচ এক অদ্ভুত স্থিরতা।’ শিষ্যদের নিয়ে বলতে গিয়েও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি স্কালোনি। জানান, স্ত্রীর সঙ্গে
বিশ্বকাপের লড়াই শেষ হয়েছে এক সপ্তাহ আগে। যুক্তরাষ্ট্রে শিরোপা অক্ষুণ্ণ রাখার লড়াইয়ে স্পেনের কাছে হেরে গেছে আর্জেন্টিনা। সেই ক্ষত এখনো দগদগে। আর এমন এক সময়েই নিজ শহর পুখাতো ছাড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন ও বিষাদমাখা খোলা চিঠি লিখলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনি। মার্কার প্রতিবেদন।
পুখাতোর শান্ত, নিঝুম রাস্তায় গত কয়েকটা দিন মানুষের ভালোবাসা আর সমবেদনায় ভিজেছেন স্কালোনি। কিন্তু বুকের ভেতর যে না-পাওয়ার যন্ত্রণা জমিয়ে রেখেছিলেন, তা আর চেপে রাখতে পারলেন না। ভক্তদের উদ্দেশ্যে ইনস্টাগ্রামে সোজা লিখে দিলেন, ‘আরেকটি বিশ্বকাপ আপনাদের এনে দিতে না পারার জন্য আমি দুঃখিত।’
পোস্ট করার সঙ্গেই সেটি ছড়িয়ে পড়ে। কোটি কোটি ভক্তের প্রতিক্রিয়া আর ভালোবাসায় প্লাবিত হয় কমেন্ট বক্স। চিঠিতে নিজের মনের ভেতরের দ্বন্দ্বর কথা খোলামেলাভাবেই তুলে ধরেছেন সান্তা ফের এই সন্তান। লিখেছেন, ‘দুঃখ আর আনন্দ এখন একসঙ্গে মিশে গেছে—একদিকে চোখের জল, অন্যদিকে এক চিলতে হাসি, বুকের ভেতর দারুণ যন্ত্রণা, অথচ এক অদ্ভুত স্থিরতা।’ শিষ্যদের নিয়ে বলতে গিয়েও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি স্কালোনি। জানান, স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময়ও তিনি খেলোয়াড়দের ‘আমার যোদ্ধা’ বলে সম্বোধন করেন।
টুর্নামেন্ট চলাকালীন সমালোচনা ও প্রতিকূলতার জবাবে একটু কড়া সুরেই লিখেছেন স্কালোনি। বিশেষ করে যারা দল নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন, তাদের উদ্দেশ্য করে বড় হাতের অক্ষরে লিখেছেন: ‘ঠান্ডা জলের তীব্র ঝাপটা সহ্য করতে হয়েছে (এমন মানুষদের কাছ থেকে, যারা আমাদের চেনেও না)।’ স্কালোনির মতে, সব সমালোচনা ও বাধা পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর এই সক্ষমতাই তাঁর কাছে ‘আসল ট্রফি’।
নিজের টেকনিক্যাল স্টাফ, এএফএ কর্মী এবং পর্দার আড়ালে কাজ করা প্রত্যেকটি মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্কালোনি। চিঠির শেষ টানেন এক চমৎকার বাক্যে, ‘যার একজন আর্জেন্টাইন বন্ধু আছে, তার কাছে একটি মহামূল্যবান ধন আছে।’
তবে আবেগঘন এই চিঠি নতুন করে উসকে দিয়েছে স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে শেষ হচ্ছে তাঁর চুক্তির মেয়াদ। পুখাতো ছাড়ার সময় ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু না বললেও, বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁর কণ্ঠে ছিল বিদায়ের সুর। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ডিসেম্বরের পর আর ডাগআউটে না-ও থাকতে পারেন। যদিও এএফএ সভাপতি চিকি তাপিয়ারা চান ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত স্কালোনির হাতেই থাকুক মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনার ভার।
পুখাতোর ধুলোবালি ছেড়ে স্কালোনি চলে গেছেন ঠিকই, কিন্তু আর্জেন্টিনা ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে রেখে গেছেন এক অনিশ্চিত প্রশ্নের মেঘ—ডিসেম্বরের পর কি আর নীল-সাদা বেঞ্চে দেখা যাবে এই রূপকথার কারিগরকে?
What's Your Reaction?