‘ফার্মগেট কেলেঙ্কারিতে’ ফাঁসলেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট, হারাতে পারেন পদ
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসাকে ঘিরে আলোচিত ‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারি নতুন মোড় নিয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে অভিশংসন কমিটি গঠনের পথে হাঁটছে দেশটির পার্লামেন্ট। এতে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন রামাফোসা এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হলে তার প্রেসিডেন্ট পদও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার দক্ষিণ আফ্রিকার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জানায়, স্পিকার শিগগিরই একটি বিশেষ কমিটি গঠন করবেন, যারা প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা করবে। গত সপ্তাহে দেশটির সাংবিধানিক আদালত রায় দেয়, চার বছর আগে ‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারি নিয়ে তদন্ত আটকে দিতে পার্লামেন্ট যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। এরপরই নতুন করে অভিশংসন প্রক্রিয়া সামনে আসে। দক্ষিণ আফ্রিকায় ফার্মগেট কেলেঙ্কারি, যা ফালা ফালা কেলেঙ্কারি নামেও পরিচিত। এই কেলেঙ্কারির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রামাফোসার মালিকানাধীন খামারবাড়ি ‘ফালা ফালা’। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই খামারবাড়ির একটি সোফার ভেতরে লুকিয়ে রাখা প্রায় ৪০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হওয়ার
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসাকে ঘিরে আলোচিত ‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারি নতুন মোড় নিয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে অভিশংসন কমিটি গঠনের পথে হাঁটছে দেশটির পার্লামেন্ট। এতে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন রামাফোসা এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হলে তার প্রেসিডেন্ট পদও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার দক্ষিণ আফ্রিকার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জানায়, স্পিকার শিগগিরই একটি বিশেষ কমিটি গঠন করবেন, যারা প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা করবে।
গত সপ্তাহে দেশটির সাংবিধানিক আদালত রায় দেয়, চার বছর আগে ‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারি নিয়ে তদন্ত আটকে দিতে পার্লামেন্ট যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। এরপরই নতুন করে অভিশংসন প্রক্রিয়া সামনে আসে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ফার্মগেট কেলেঙ্কারি, যা ফালা ফালা কেলেঙ্কারি নামেও পরিচিত। এই কেলেঙ্কারির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রামাফোসার মালিকানাধীন খামারবাড়ি ‘ফালা ফালা’। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই খামারবাড়ির একটি সোফার ভেতরে লুকিয়ে রাখা প্রায় ৪০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।
এরপর থেকেই প্রশ্ন ওঠে—এই বিপুল অর্থ কোথা থেকে এলো, কেন তা ব্যাংকে না রেখে আসবাবের ভেতরে রাখা হয়েছিল এবং অর্থের হিসাব যথাযথভাবে দেওয়া হয়েছিল কি না।
দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে ক্ষমতায় আসা রামাফোসা শুরু থেকেই সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তবে একটি প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক অসদাচরণের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। যদিও প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তিনি ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আইনিভাবে লড়াই করবেন।
সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রামাফোসা স্পষ্ট করে বলেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না। তবে একইসঙ্গে আদালতের রায়কে সম্মান জানানোর কথাও বলেন তিনি।
পার্লামেন্টে গঠিত হতে যাওয়া অভিশংসন কমিটি আগামী কয়েক মাস ধরে বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। তদন্ত শেষে তারা আনুষ্ঠানিক অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার সুপারিশ করবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
রামাফোসার দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি) ইতোমধ্যে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি বৈঠক ডেকেছে। দলটির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির বৈঠকে কেলেঙ্কারি নিয়ে করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন দলের মুখপাত্র।
প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছে বিরোধী দল ইকোনমিক ফ্রিডম ফাইটার্স (ইএফএফ) ও আফ্রিকান ট্রান্সফর্মেশন মুভমেন্ট (এটিএম)। ইএফএফ ইতোমধ্যে রামাফোসার পদত্যাগ দাবি করেছে।
তবে দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিশংসন কমিটির পর্যবেক্ষণ নেতিবাচক হলেও পার্লামেন্টে ভোটাভুটিতে রামাফোসা টিকে যেতে পারেন। কারণ, প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও এএনসি এখনো ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন ধরে রেখেছে।
What's Your Reaction?