ফাল্গুন মাসে বোরো ও আউশ ধান চাষে করণীয়

নতুন পাতায় সেজে ঋতুরাজ বসন্ত আসছে প্রকৃতির মাঝে। শীতের পাতা ঝরানোর দিনগুলো পেছনে ফেলে ফাল্গুন মাস প্রকৃতির জীবনে নিয়ে আসে নানা রঙের ছোঁয়া। ঘন কুয়াশার চাদর সরিয়ে প্রকৃতিকে নতুনভাবে সাজাতে, বাতাসে ফুলের সুবাস ছড়িয়ে দিতে ফাল্গুন আসে নতুনভাবে নতুনরূপে। নতুন প্রাণের উদ্যমতা আর অনুপ্রেরণা প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের কৃষিকেও দোলা দিয়ে যায়। তাই ফাল্গুনের শুরুতেই জেনে নিতে হবে বোরো ও আউশ ধান চাষে করণীয় সম্পর্কে। বোরো ধান>> ধানের চারার বয়স ৫০-৫৫ দিন হলে বা কাইচ থোর আসার ৫-৭ দিন পূর্বে ইউরিয়া সারের শেষ কিস্তি উপরিপ্রয়োগ করতে হবে।>> সার দেওয়ার আগে জমির আগাছা পরিষ্কার করতে হবে এবং জমি থেকে পানি সরিয়ে দিতে হবে।>> বোরো ধানের জমিতে ভেজানো ও শুকানো পদ্ধতিতে সেচ প্রদান করতে হবে।>> সেচের নালা সংস্কার ও মেরামত করতে হবে।>> রাতের বেলায় যেন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন থাকে। তাই সে জন্য সেচের মেশিন রাতে চালু রাখতে হবে।>> ধানের কাইচ থোড় আসা থেকে শুরু করে ধানের দুধ আসা পর্যন্ত ক্ষেতে ৩-৪ ইঞ্চি পানি ধরে রাখতে হবে।>> পোকা দমনের জন্য নিয়মিত ক্ষেত পরিদর্শন করতে হবে এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে (আলোর ফাদ পেতে, পো

ফাল্গুন মাসে বোরো ও আউশ ধান চাষে করণীয়

নতুন পাতায় সেজে ঋতুরাজ বসন্ত আসছে প্রকৃতির মাঝে। শীতের পাতা ঝরানোর দিনগুলো পেছনে ফেলে ফাল্গুন মাস প্রকৃতির জীবনে নিয়ে আসে নানা রঙের ছোঁয়া। ঘন কুয়াশার চাদর সরিয়ে প্রকৃতিকে নতুনভাবে সাজাতে, বাতাসে ফুলের সুবাস ছড়িয়ে দিতে ফাল্গুন আসে নতুনভাবে নতুনরূপে।

নতুন প্রাণের উদ্যমতা আর অনুপ্রেরণা প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের কৃষিকেও দোলা দিয়ে যায়। তাই ফাল্গুনের শুরুতেই জেনে নিতে হবে বোরো ও আউশ ধান চাষে করণীয় সম্পর্কে।

বোরো ধান
>> ধানের চারার বয়স ৫০-৫৫ দিন হলে বা কাইচ থোর আসার ৫-৭ দিন পূর্বে ইউরিয়া সারের শেষ কিস্তি উপরিপ্রয়োগ করতে হবে।
>> সার দেওয়ার আগে জমির আগাছা পরিষ্কার করতে হবে এবং জমি থেকে পানি সরিয়ে দিতে হবে।
>> বোরো ধানের জমিতে ভেজানো ও শুকানো পদ্ধতিতে সেচ প্রদান করতে হবে।
>> সেচের নালা সংস্কার ও মেরামত করতে হবে।
>> রাতের বেলায় যেন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন থাকে। তাই সে জন্য সেচের মেশিন রাতে চালু রাখতে হবে।
>> ধানের কাইচ থোড় আসা থেকে শুরু করে ধানের দুধ আসা পর্যন্ত ক্ষেতে ৩-৪ ইঞ্চি পানি ধরে রাখতে হবে।
>> পোকা দমনের জন্য নিয়মিত ক্ষেত পরিদর্শন করতে হবে এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে (আলোর ফাদ পেতে, পোকা ধরার জাল ব্যবহার করে, ক্ষতিকর পোকার ডিমের গাদা নষ্ট করে, উপকারী পোকা সংরক্ষণ করে, ক্ষেতে ডাল-পালা পুতে পাখি বসার ব্যবস্থা করে) ধানক্ষেত বালাই মুক্ত রাখতে হবে।

এ সময় ধান ক্ষেতে উফরা, ব্লাস্ট, পাতাপোড়া ও টুংরো রোগ দেখা দেয়:
>> জমিতে উফরা রোগ দেখা দিলে যে কোনো কৃমিনাশক এমামেন্টিন বেনজয়েট যেমন- সানমেকটিন বা মিয়েনা ইত্যাদি প্রয়োগ করতে হবে।
>> ব্লাস্ট রোগ দেখা দিলে ইউরিয়া সারের উপরিপ্রয়োগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে এবং একরপ্রতি ১৬০ গ্রাম ট্রুপার বা জিল বা
নাটিভো ১০-১৫ দিনের ব্যবধানে দুবার প্রয়োগ করতে হবে।
>> জমিতে পাতাপোড়া রোগ হলে অতিরিক্ত ৫ কেজি। বিঘা হারে পটাশ সার উপরিপ্রয়োগ করতে হবে এবং জমির পানি শুকিয়ে ৭-১০ দিন পর আবার সেচ দিতে হবে।
>> টুংরো রোগ দমনের জন্য এর বাহক পোকা সবুজ পাতা ফড়িং দমন করতে হবে।

আউশ
এ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে উফশি আউশের বীজতলা তৈরি করতে হবে। আউশ চাষের জন্য সংরক্ষিত বীজ ভালোভাবে পরীক্ষা করতে হবে। প্রয়োজনে একটি রোদ দেওয়ার পর বীজগুলো ঠান্ডা করে বীজপাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে।

এসইউ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow