ফিফার ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পাওয়ার পথে আবাহনী
ঘরোয়া ফুটবলের ২০২৬-২৭ মৌসুমের খেলোয়াড় নিবন্ধন চলমান। শেষ হবে ৩ সেপ্টেম্বর। তিন প্রধানের মধ্যে মোহামেডান ঘর গুছিয়ে ফেলেছে এরই মধ্যে। তবে বিপাকে আছে চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস ও রানার্সআপ আবাহনী। দুই ক্লাবই আছে ফিফার ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞায়। বিদেশি খেলোয়াড় ও কোচদের বেতন-বকেয়া নিয়ে অভিযোগের পরই ফিফা ক্লাব দুটিকে দলবদলে নিষেধাজ্ঞা দেয়। একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা ছিল মোহামেডানের ওপরও। তবে সাদা-কালোরা অভিযোগকারী বিদেশি খেলোয়াড়ের সাথে সমঝোতা করে পারিশ্রমিকের একটা অংশ দিয়ে নিষেধাজ্ঞামুক্ত হয়েছে। এখন বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনী তাদের ওপর দেওয়া ফিফার ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞায় পড়া আবাহনীর জন্য ছিল দুর্ভাগ্যের। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ওই দিন বিকেলে ভাংচুর ও লুটপাট হয়েছিল দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী আকাশি-নীল ক্লাবে। ক্লাবটির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অনেকে মামলায় পড়েন, অনেকে গ্রেফতার হন এবং অনেকে আত্মগোপনে যান। ফলে ক্লাবটির ওই মৌসুমে অংশ নেওয়াই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। দলবদলের শেষ দিনে তারা খেলোয়াড় নিবন্ধন করেন। তবে বিদেশি খেলোয়াড়দের সাথে ক্লাবটি
ঘরোয়া ফুটবলের ২০২৬-২৭ মৌসুমের খেলোয়াড় নিবন্ধন চলমান। শেষ হবে ৩ সেপ্টেম্বর। তিন প্রধানের মধ্যে মোহামেডান ঘর গুছিয়ে ফেলেছে এরই মধ্যে। তবে বিপাকে আছে চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস ও রানার্সআপ আবাহনী। দুই ক্লাবই আছে ফিফার ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞায়। বিদেশি খেলোয়াড় ও কোচদের বেতন-বকেয়া নিয়ে অভিযোগের পরই ফিফা ক্লাব দুটিকে দলবদলে নিষেধাজ্ঞা দেয়।
একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা ছিল মোহামেডানের ওপরও। তবে সাদা-কালোরা অভিযোগকারী বিদেশি খেলোয়াড়ের সাথে সমঝোতা করে পারিশ্রমিকের একটা অংশ দিয়ে নিষেধাজ্ঞামুক্ত হয়েছে। এখন বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনী তাদের ওপর দেওয়া ফিফার ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।
ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞায় পড়া আবাহনীর জন্য ছিল দুর্ভাগ্যের। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ওই দিন বিকেলে ভাংচুর ও লুটপাট হয়েছিল দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী আকাশি-নীল ক্লাবে। ক্লাবটির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অনেকে মামলায় পড়েন, অনেকে গ্রেফতার হন এবং অনেকে আত্মগোপনে যান। ফলে ক্লাবটির ওই মৌসুমে অংশ নেওয়াই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। দলবদলের শেষ দিনে তারা খেলোয়াড় নিবন্ধন করেন।
তবে বিদেশি খেলোয়াড়দের সাথে ক্লাবটি চুক্তি যে করেছিল, অর্থ সংকটে একতরফাভাবে তাদের সাথে চুক্তি বাতিল করে। তাতেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ৬ বারের চ্যাম্পিয়নরা। ঘানার রিচমন্ড বোয়াকে, নামিবিয়ার কেনেডি আমুতেনিয়া ও সিরিয়ার মোয়ায়াদ আল খৌলি ফিফায় নালিশ করেছিলেন।
তার প্রেক্ষিতেই ফিফা আবাহনীর ওপর খেলোয়াড় নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে গত বছর ৩ নভেম্বর থেকে। ওই খেলোয়াড়দের অভিযোগ ছিল তারা ২০২৪-২৫ মৌসুমে চুক্তি করলেও আবাহনী তাদের বেতন দেয়নি। তিনজনের মোট পাওনার পরিমাণ ১ লাখ ৮০ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা সোয়া দুই কোটি টাকার কাছাকাছি।
আবাহনী এই সংকট কাটিয়ে ফিফার নিষেধাজ্ঞামুক্তির অপেক্ষায়। ক্লাবটির ফুটবল দলের ম্যানেজার সদ্যজিৎ দাস রুপু বৃহস্পতিবার বলছিলেন আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই তারা এই নিষেধাজ্ঞা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হতে পারবেন। তারপরই নতুন মৌসুমের দলবদলে অংশ নিতে পারবেন।
রুপু বলেন, তিন খেলোয়াড়ের মধ্যে একজন অভিযোগ তুলে নিয়েছেন। এখন অভিযোগ বাকি দুই জনের। এর মধ্যে একজনের পাওনা গতকাল রাতে দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, আজ ওই খেলোয়াড় তার অভিযোগ তুলে নেবেন। হয়তো রাতেই চিঠি পেয়ে যাবো। তৃতীয়জনের পাওনা দুই তিনদিনের মধ্যে দেওয়া হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা এই ঝামেলা থেকে মুক্ত হতে পারবো বলে আশা করছি।
নতুন মৌসুমে আবাহনী কেমন দল গড়ছে? গত মৌসুমের চেয়ে ভালো? সত্যজিৎ দাস রুপু বলেন, আসলে আমাদের মাথায় বোঝা হয়েছিল এই নিষেধাজ্ঞা। এটা থেকে মুক্ত হওয়া ছিল ক্লাবের প্রথম কাজ। কিছু কাজ তো গুছিয়ে রেখেছি। এখন সম্পূর্ণভাবে ফিফার নিষেধাজ্ঞামুক্ত হলে দলবদলে মনোনিবেশ করতে পারবো। নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আমাদের জন্য মর্যাদার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দেখেন যে খেলোয়াড়রা টাকা দাবি করে নিয়ে যাচ্ছেন, তাদের আমরা চিনিও না। আসলে আমাদের দায়িত্বশীলদের গাফলতির কারণেই এই ঝামেলায় পড়তে হয়েছে। এখন আমরা সব গুছিয়ে আনছি। আশা করি, ভালো একটা দল নিয়েই মাঠে নামতে পারবো।
আরআই/এমএমআর
What's Your Reaction?