ফুটপাতে দোকান বসানো নিয়ে ছাত্রদল-যুবদল সংঘর্ষ, আহত ২০

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজ ছাত্রদল ও নিউমার্কেট থানা যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী রয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিউমার্কেটের বলাকা সিনেমা হলের সামনের ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে নিউমার্কেট থানা যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। নিউমার্কেট থানা-পুলিশের ভাষ্য, বলাকা সিনেমা হলের সামনের ফুটপাতে নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্য সচিব কে এম চঞ্চলের অনুসারী কয়েকজন দোকান বসান। সন্ধ্যায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে গিয়ে দোকান সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এ

ফুটপাতে দোকান বসানো নিয়ে ছাত্রদল-যুবদল সংঘর্ষ, আহত ২০

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজ ছাত্রদল ও নিউমার্কেট থানা যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী রয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিউমার্কেটের বলাকা সিনেমা হলের সামনের ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে নিউমার্কেট থানা যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

নিউমার্কেট থানা-পুলিশের ভাষ্য, বলাকা সিনেমা হলের সামনের ফুটপাতে নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্য সচিব কে এম চঞ্চলের অনুসারী কয়েকজন দোকান বসান। সন্ধ্যায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে গিয়ে দোকান সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়।

এর কিছুক্ষণ পর লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে একদল ব্যক্তি ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্য সচিব কে এম চঞ্চলের নেতৃত্বে ওই হামলা চালানো হয়। এতে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার ও মো. সুমন সিকদার, আহ্বায়ক সদস্য মো. সাগর খান ও মো. সায়মন ইসলাম, সদস্য মুসফিকুর রহিম, জিহাদুল ইসলাম, শাকিব হাসান ও ইমরান হোসেন।

ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক হাসান ফরাজি বলেন, সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না। তবে ঘটনায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। আহতদের কয়েকজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে সংঘর্ষের খবর ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিউমার্কেট এলাকায় জড়ো হন। পরে তারা প্রিয়াঙ্গন মার্কেটের কাছাকাছি বসুন্ধরা গলিতে কে এম চঞ্চলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ফের সংঘর্ষ বাধে। এতে আরও কয়েকজন আহত হন।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্য সচিব কে এম চঞ্চল। তিনি বলেন, সংঘর্ষের সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তাকে জড়িয়ে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।

কে এম চঞ্চলের দাবি, নিউমার্কেটের ফুটপাতে যুবদলের কয়েকজন কর্মী ব্যবসা করেন। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পরিচয় দিয়ে কিছু বহিরাগত ব্যক্তি তাদের মারধর করেছেন। পরে তার রাজনৈতিক কার্যালয়েও হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংঘর্ষের বিষয়ে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহসিন উদ্দিন বলেন, ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সংঘর্ষের পর নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত জানায়নি। সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow