ফুটবল খেলা দেখতে নিষেধ করায় স্ত্রীকে মারধর, স্বামী গ্রেফতার

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচ দেখতে যেতে নিষেধ করায় লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে এক গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে ভুক্তভোগীর মামলায় অভিযুক্ত স্বামী জহিরুলকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে স্ত্রী মামলা করেছেন। ওই মামলায় আটক জহিরুলকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (১৯ জুলাই) লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপাড়া ওয়াপদা টেক এলাকায়। বিশ্বকাপ খেলা দেখতে বারণ করায় এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জহির তার স্ত্রীর হাত পায়ে জখম করেছে। পরে ঘটনার ভিডিও সোমবার (২০ জুলাই) ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। নেটিজেনরা পাষন্ড স্বামীর শাস্তি দাবি করেছেন। সোমবার রাতে ভিডিওটি নজরে আসলে রামগঞ্জ থানা পুলিশ জহিরুলকে আটক করে। জহিরুল ওই এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। ভিডিওতে দেখা যায়, মরিয়মের আর্তনাদ শুনে কেউ একজন মোবাইলের ক্যামেরায় ভিডিও চালু করে ত

ফুটবল খেলা দেখতে নিষেধ করায় স্ত্রীকে মারধর, স্বামী গ্রেফতার

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচ দেখতে যেতে নিষেধ করায় লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে এক গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে ভুক্তভোগীর মামলায় অভিযুক্ত স্বামী জহিরুলকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে স্ত্রী মামলা করেছেন। ওই মামলায় আটক জহিরুলকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (১৯ জুলাই) লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপাড়া ওয়াপদা টেক এলাকায়। বিশ্বকাপ খেলা দেখতে বারণ করায় এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জহির তার স্ত্রীর হাত পায়ে জখম করেছে। পরে ঘটনার ভিডিও সোমবার (২০ জুলাই) ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। নেটিজেনরা পাষন্ড স্বামীর শাস্তি দাবি করেছেন।

সোমবার রাতে ভিডিওটি নজরে আসলে রামগঞ্জ থানা পুলিশ জহিরুলকে আটক করে। জহিরুল ওই এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।

ভিডিওতে দেখা যায়, মরিয়মের আর্তনাদ শুনে কেউ একজন মোবাইলের ক্যামেরায় ভিডিও চালু করে তাদের ঘরে যায়। ঘরে ঢুকতেই দেখা যায় মরিয়ম আর্তনাদ করছে। আর বলছে, ওহ বাবা, বাবা, তুই আমার বাবা। আমারে তুমি আইনছো কেন? ওহ মারে। ওহ আল্লাহরে। আর তার স্বামী নির্দয়ভাবে বলছে, তুই আমারে ঢাকা থেকে আনলি কেন। প্রতিত্তোরে মরিয়মও বলেছে, আমারে তুমি আইনছো কেন'। সেই মুহুর্তে জহিরুল বলে উঠে 'তুই আঁরে মোহরানা শিখাছ'। আর মরিয়ম যন্ত্রণায় চিৎকার করে কান্না করছিল। এসময় ফুলে উঠা তার হাতে প্রতিটি আঘাতের চিহ্ন ছুঁয়ে ছুঁয়ে কান্না করছিল মরিয়ম। একপর্যায়ে জহিরুল বলছিল, খেলাধুলা মানুষের জীবনে নাই, আইজ লাস্ট খেলা আই চাইতে যাইয়াম, তুই আঁরে যাই কইছত, আঁর যেতে শত্রু তুই হেতের লগে কথা কস, তোরে ডাক দিই। কিন্তু বেদম পিটুনির আঘাতে চিৎকার ও কান্না থামেনি অভাগা মরিয়মের।

এসময় যিনি ভিডিও ধারণ করছিলেন তিনি জহিরুলকে বলে উঠলেন ‘এইডা কি, সবতো কালা করি হালাইছোস, ইরে। তুই আইছোস কি কাজে? তুই ইজ্ঞারে এরুম কইচ্ছোস কিল্লাই।’

সূত্র জানায়, মরিয়মের বাড়ি চট্টগ্রামে। প্রায় দুই বছর আগে জহিরুল তাকে বিয়ে করে রামগঞ্জের বাড়িতে নিয়ে আসে। কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপাড়া ওয়াপদা টেক এলাকায় ঘর করে তারা সংসার শুরু করে। তাদের সংসারে পাঁচ মাস বয়সি একটি সন্তানও রয়েছে। প্রায়ই তিনি মরিয়মকে কারণে অকারণে নির্যাতন করতো। জহিরুল ‘মাদকসেবী’। মাদক সেবন করেই সে তার স্ত্রীকে বেদম পিটিয়েছে। হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে তার হাত-পায়ে ভাঙা জখম হয়েছে। পরে সে পালিয়ে যায়।

মরিয়মের দাবি, ঘরে পাঁচ মাস বয়সি সন্তানকে নিয়ে মরিয়ম একা। তাই জহিরুলকে খেলা দেখতে যেতে তিনি নিষেধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে তাকে আহত করে।

পারভেজ হোসেন ও হাসানুর জামান নামে স্থানীয় দুইজন বাসিন্দা জানায়, ঘটনাটি মর্মান্তিক। ভিডিওটি দেখে বুকটা আঁতকে উঠেছে। পাষণ্ড যুবকের উপযুক্ত শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।

কাজল কায়েস/এসজেডএইচ/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow