ফুটবল বিশ্বকাপে আলো ছড়াতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প, বাধা রাজনীতি?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেবেছিলেন ফুটবল বিশ্বকাপের মতো বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরের কেন্দ্রে থাকার সুযোগ তিনি হারাবেন। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র যখন ২০২৬ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হওয়ার অধিকার পায়, তখন তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, আমি তখন এখানে থাকবো না, কারণ প্রেসিডেন্টের মেয়াদসীমা তাকে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করবে। কিন্তু রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউজে ফিরে এসে ট্রাম্প যেন অতিরিক্ত সময় পেয়ে যান। ফলে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের বিশাল আয়োজনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি নিশ্চিত করার সুযোগ পেয়েছেন। বিশ্বব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রে নিজেকে রাখতে সবসময়ই আগ্রহী ট্রাম্প সেই সুযোগ হাতছাড়া করেননি। তিনি নিজের ওভাল অফিসে বিশ্বকাপ ট্রফির ঝকঝকে প্রতিরূপ প্রদর্শন করেছেন, ফুটবলের শীর্ষ কর্মকর্তা ইনফান্তিনোকে নিজের বৈশ্বিক ‘এসমএজিএ’ পরিমণ্ডলের অংশে পরিণত করেছেন এবং গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত ফিফা ক্লাব টুর্নামেন্টে চেলসি এফসিকে ট্রফি দেওয়ার পর দলের সঙ্গে এমনভাবে উদযাপন করেছেন যেন তিনিই ম্যাচজয়ী গোলটি করেছেন। তবে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপ ট্রাম্পের ফুটবলপ্রে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেবেছিলেন ফুটবল বিশ্বকাপের মতো বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরের কেন্দ্রে থাকার সুযোগ তিনি হারাবেন। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র যখন ২০২৬ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হওয়ার অধিকার পায়, তখন তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, আমি তখন এখানে থাকবো না, কারণ প্রেসিডেন্টের মেয়াদসীমা তাকে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করবে।
কিন্তু রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউজে ফিরে এসে ট্রাম্প যেন অতিরিক্ত সময় পেয়ে যান। ফলে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের বিশাল আয়োজনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি নিশ্চিত করার সুযোগ পেয়েছেন।
বিশ্বব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রে নিজেকে রাখতে সবসময়ই আগ্রহী ট্রাম্প সেই সুযোগ হাতছাড়া করেননি।
তিনি নিজের ওভাল অফিসে বিশ্বকাপ ট্রফির ঝকঝকে প্রতিরূপ প্রদর্শন করেছেন, ফুটবলের শীর্ষ কর্মকর্তা ইনফান্তিনোকে নিজের বৈশ্বিক ‘এসমএজিএ’ পরিমণ্ডলের অংশে পরিণত করেছেন এবং গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত ফিফা ক্লাব টুর্নামেন্টে চেলসি এফসিকে ট্রফি দেওয়ার পর দলের সঙ্গে এমনভাবে উদযাপন করেছেন যেন তিনিই ম্যাচজয়ী গোলটি করেছেন।
তবে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপ ট্রাম্পের ফুটবলপ্রেমের চেয়ে তার রাজনৈতিক বিতর্ককেই বেশি সামনে নিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্বমঞ্চে নিজের উপস্থিতি জোরালো করার নতুন সুযোগ হিসেবে ট্রাম্প বিশ্বকাপকে দেখলেও, তার দ্বিতীয় মেয়াদের নানা বিতর্কিত নীতি ও পদক্ষেপ অনেক বিদেশি সমর্থক এবং সমালোচকের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
জনপ্রিয়তা কমার সময়ে বিশ্বকাপ
বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা আগের তুলনায় কমে এসেছে।
ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনো ট্রাম্পকে একটি ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ প্রদান করেছিলেন। অনেকেই এটিকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিকল্প স্বীকৃতি হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু পরে ট্রাম্প যখন বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অংশ নেওয়া দেশ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার নির্দেশ দেন, তখন সেই সিদ্ধান্ত অস্বস্তিকর আলোচনার জন্ম দেয়।
অভিবাসন নীতি নিয়ে বিতর্ক
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতিও বিশ্বকাপকে ঘিরে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সোমালিয়ার একজন স্বনামধন্য রেফারিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। একই সময়ে প্রশাসন মিনেসোটায় বসবাসকারী সোমালি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে, যদিও সম্প্রদায়টি সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে, সেনেগাল জাতীয় দল তাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ক্যাম্পে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর সময় কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশির মুখোমুখি হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। যদিও দেশটির ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, তারা এ ধরনের নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার ব্যাপারে আগে থেকেই অবগত ছিল।
এছাড়া ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য তাদের তিনটি গ্রুপ ম্যাচের জন্য বরাদ্দকৃত টিকিট বাতিল করা হয়েছে।
এর আগে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল যে দক্ষিণ আমেরিকান দলগুলোর ম্যাচে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে পারে। পরে প্রশাসন সেই উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করে।
টিকিটের দাম নিয়ে ক্ষোভ
বিশ্বকাপের টিকিটের উচ্চমূল্যও নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
অনেক সমর্থক অভিযোগ করছেন, ফিফা বিশ্বকাপকে ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী শ্রমজীবী সমর্থকদের উৎসবের পরিবর্তে অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে দেখছে।
টিকিটের উচ্চমূল্য পশ্চিমা দেশগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রতীক হিসেবেও আলোচিত হচ্ছে।
এমনকি ট্রাম্প নিজেও টিকিটের মূল্য নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
প্রথম যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচের কিছু টিকিটের দাম ১ হাজার ডলারে পৌঁছানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি অবশ্যই সেখানে থাকতে চাই, কিন্তু সত্যি বলতে আমিও এত টাকা দিয়ে টিকিট কিনতাম না।
বিশ্বকাপে রাজনীতির ছায়া
বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের শুল্কনীতি, মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে কড়া বক্তব্য এবং আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বিশ্বকাপের ‘ঐক্য ও আনন্দের বার্তা’র সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিবেশ তৈরি করেছে।
এক পর্যায়ে ট্রাম্প যখন ডেনমার্কের কাছে গ্রিনল্যান্ড হস্তান্তরের দাবি তুলেছিলেন, তখন ইউরোপীয় দেশগুলোর সম্ভাব্য বয়কট নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছিল।
অবশ্য বিশ্বকাপ বা অলিম্পিকের মতো বড় ক্রীড়া আসরে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন নয়।
সোভিয়েত ইউনিয়নের আফগানিস্তান আগ্রাসনের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্র একসময় মস্কো অলিম্পিক বয়কট করেছিল। আবার ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অভিবাসী শ্রমিকদের মৃত্যুর অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়েছিল।
তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের বিশেষত্ব হলো—এটি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করছে, এমন এক সময়ে যখন পশ্চিম গোলার্ধের রাজনৈতিক সম্পর্ক নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আর এর কেন্দ্রে রয়েছেন ট্রাম্প।
ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠতা কি উল্টো ফল দেবে?
ট্রাম্পকে ঘিরে তীব্র ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কারণে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।
ইনফান্তিনোকে নিয়মিত ওয়াশিংটন ও মার-আ-লাগোতে দেখা গেছে। এমনকি গত বছর মিসরে অনুষ্ঠিত ট্রাম্পের গাজা শান্তি সম্মেলনেও তিনি উপস্থিত ছিলেন।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অভিষেক সমাবেশের পর ইনস্টাগ্রামে ইনফান্তিনো লিখেছিলেন, একসঙ্গে আমরা শুধু আমেরিকাকেই নয়, পুরো বিশ্বকেও আবার মহান করে তুলবো।
সমালোচকদের মতে, এই বক্তব্য ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তবে ইনফান্তিনো নিজের অবস্থানকে সমর্থন করে বলেন, বিশ্বকাপ সফল করতে আয়োজক দেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তার ভাষায়, একটি বিশ্বকাপ সফল করতে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা একেবারেই অপরিহার্য।
সূত্র: সিএনএন
এমএসএম
What's Your Reaction?