ফুটবলের ওপারে
চার বছর আগের সেই রাতে বিশ্বকাপ যখন মেসিকে পেল, আমিও কেঁদেছিলাম। এরপর থেকে মেসির খেলা সেভাবে দেখাই হয়নি। দেখতে মূলত ইচ্ছে হয়নি। নতুন কোনো ম্যাচ দেখার চেয়ে বরং ফিফার ইউটিউবে গিয়ে ফাইনাল দেখেছি। চোখ বন্ধ করে কত সহস্রবার শুনেছি পিটার ড্রুরির সেদিনের ধারাভাষ্য। যতবার শুনি, ততবারই মনে হয় এ যেন আমাদের প্রজন্মের সবচেয়ে দামি, সবচেয়ে মধুর কবিতার লাইন কানে বাজছে। শেষ শট নিতে Gonzalo Montiel যখন বলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন, তখন পিটার ড্রুরি তো পৃথিবীর সব সবুজ ঘাসের মাঠে, সব সাগরের জল দিয়ে লিখে যাচ্ছিলেন এক অনন্ত মহাকাব্য- “A long, lonely walk for Gonzalo Montiel. He didn’t start the game, but he can finish it.” “Montiel… Argentina, champions of the world. Again. At last. And the nation will tango all night long.” “Thirty-six years since Maradona and Mexico, here finally is a nation’s new throng of immortals.” “Scaloni will be feted. Messi will be sainted.” “France this time denied, defied.” “Lionel Messi has shaken hands with paradise.” “The little boy from Rosario, Santa Fe, has just pitched
চার বছর আগের সেই রাতে বিশ্বকাপ যখন মেসিকে পেল, আমিও কেঁদেছিলাম। এরপর থেকে মেসির খেলা সেভাবে দেখাই হয়নি। দেখতে মূলত ইচ্ছে হয়নি। নতুন কোনো ম্যাচ দেখার চেয়ে বরং ফিফার ইউটিউবে গিয়ে ফাইনাল দেখেছি। চোখ বন্ধ করে কত সহস্রবার শুনেছি পিটার ড্রুরির সেদিনের ধারাভাষ্য। যতবার শুনি, ততবারই মনে হয় এ যেন আমাদের প্রজন্মের সবচেয়ে দামি, সবচেয়ে মধুর কবিতার লাইন কানে বাজছে।
শেষ শট নিতে Gonzalo Montiel যখন বলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন, তখন পিটার ড্রুরি তো পৃথিবীর সব সবুজ ঘাসের মাঠে, সব সাগরের জল দিয়ে লিখে যাচ্ছিলেন এক অনন্ত মহাকাব্য-
“A long, lonely walk for Gonzalo Montiel.
He didn’t start the game,
but he can finish it.”
“Montiel…
Argentina, champions of the world.
Again. At last.
And the nation will tango all night long.”
“Thirty-six years since Maradona and Mexico,
here finally is a nation’s new throng of immortals.”
“Scaloni will be feted.
Messi will be sainted.”
“France this time denied, defied.”
“Lionel Messi has shaken hands with paradise.”
“The little boy from Rosario, Santa Fe,
has just pitched up in heaven.”
“He climbs into a galaxy of his own.”
“He has his crowning moment.
And of course, he is not alone.”
এখন আরেকটা বিশ্বকাপ যখন জানালার ওপারে, তখনো আর মেসির সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে আমাদের বুক থরথর হচ্ছে না। বুকের ভেতর নেই সেই আগুন। রাত জেগে ফিক্সচার খোঁজার উন্মাদনা নেই। বন্ধুদের সঙ্গে তর্কের ঝড় নেই। মেসির সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে সেই কাঁপুনি নেই। কারণ এই জীবনে, এই গ্রহে, মেসির কাছ থেকে আমাদের আর কিছু চাওয়ার নেই।
আরও পড়ুন : খেলতে পারবেন না নেইমার
আর্জেন্টিনার জন্য প্রথম প্রেমের এমন শিহরণ আর কোন যুগে কোন প্রজন্মের জাগবে, তা জানি না। মেসি এবার মায়ামির বাড়িতে ফিরে গেলে, সংসারী হলে ফুটবলের সঙ্গে আমাদেরও বিচ্ছেদ হয়ে যাবে। হয়তো আমরা দেখব। খুশি হব। হয়তো হাততালিও দেব। কিন্তু কোথাও একটা জানি, আমাদের ভেতরের সেই ছেলেটি আর ফিরবে না। যে স্কুল পালিয়ে খেলা দেখত। যে পরীক্ষার আগের রাতেও স্কোরলাইন মুখস্থ রাখত। যে বিশ্বাস করত, মেসি জিতলে পৃথিবী একটু সুন্দর হয়ে যায়।
বিশ্বকাপ আবার আসবে। নতুন নায়ক জন্ম নেবে। নতুন প্রজন্ম নতুন উন্মাদনায় ভাসবে। কিন্তু আমাদের স্কুলপালানো বুকপকেটের ভেতর যে পুরোনো দিঘি আছে, সেখানে চিরকাল ২০২২ সালের সেই রাতের চাঁদই ভাসবে। এর নাম সেইক্ষণে দিয়ে গেছেন পিটার ড্রুরি, "He has his crowning moment, And of course, he is not alone.”
মেসি একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ছিল রোজারিওর সেই ছোট্ট ছেলেটা। ছিল আমাদের কৈশোর। ছিল স্কুল পালিয়ে খেলা দেখা দুপুরগুলো, কিংবা ভোররাতের ঘুমঘুম চোখে টিভির সামনে বসা প্রহর। ছিল হারতে হারতে না-হারা লক্ষ কোটি মানুষের অসমাপ্ত স্বপ্ন। নাম তার ফুটবলের ওপারে।
What's Your Reaction?