ফেনীতে বন্যার শঙ্কা নিয়েই আমন ধান রোপণ

2 days ago 2

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কিছুটা দেরীতে হলেও বীজতলা প্রস্তুত ও চারা উৎপাদন করে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় রোপা-আমন ধান চাষাবাদ শুরু হয়েছে। আগস্টের ক্ষণে ক্ষণে আবহাওয়ার সতর্কতা থাকলেও কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বীজতলা নির্মাণ করে এবারও বন্যার শঙ্কা নিয়েই কৃষকেরা আমন ধান রোপণ করছেন।

ফুলগাজী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি রোপা-আমন ধান চাষাবাদের মৌসুমে বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে আমন ধান বীজতলা ৩৪৫ হেক্টর, আবাদি জমির পরিমাণ ৬ হাজার ২১১ হেক্টর, এখন পর্যন্ত অর্জন ৪ হাজার ৩৪৭ হেক্টর।

কৃষি বিভাগ জানায়, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই রোপণ শেষ হবে। এবার আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা ২১ হাজার ৭৩৭ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন। চালের লক্ষ্যমাত্রা ১৪ হাজার ৪৯২ দশমিক ৩৩ মেট্রিক টন। উপজেলার ৭২০ জন কৃষককে আমন ধান বীজ ও সার সরকারি প্রণোদনা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। শরৎকালীন সবজির আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৫০ হেক্টর।

দরবারপুর ইউনিয়নের উত্তর শ্রীপুর গ্রামের আবু তাহের নামে একজন কৃষক বলেন, ‌‘কৃষিতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় অল্প জমিতে আমন ধান রোপণ করছি, আবহাওয়া ভালো হলে ফলন ভালো হবে।’

একই ইউনিয়নের উত্তর শ্রীপুর গ্রামের কৃষক মোকছেদুর রহমান বলেন, ‘সাম্প্রতিক বন্যায় সরকারি প্রণোদনা না পেলেও সার-বীজ কিনে বন্যার শঙ্কার মধ্যে সময়মতো বীজতলা তৈরি করে ১০ বিঘা জমিতে আমন ধান রোপণ করছি।’

ফেনীতে বন্যার শঙ্কা নিয়েই আমন ধান রোপণ

ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের কৃষক জানে আলম বলেন, ‘মুহুরী নদীর তীরবর্তী এলাকায় আমাদের জমি। প্রতি বছর বন্যার আশঙ্কা থাকে, এবারও বন্যার আশঙ্কা ছিল। তবুও ৫ বিঘা জমিতে আমন ধান রোপণ শুরু করেছি, চলতি সপ্তাহে রোপণ শেষ হবে।’

বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, আগামী সপ্তাহে রোপণ শেষ হবে এবং ভালো ফলন হবে বলে আশাবাদী তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. খোরশেদ আলম বলেন, ‘বোরো ফসলের পরেই আমন ধান দ্বিতীয় জনপ্রিয় ফসল। গত বছর ২ হাজার একশ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষাবাদ হয়েছিল, যা লক্ষ্যমাত্রার ৩৪ শতাংশ। এবার চাষের জমির পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর আবহাওয়া ভালো আছে এখন পর্যন্ত। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।’

আবদুল্লাহ আল-মামুন/এসইউ/জেআইএম

Read Entire Article