ফেভারিটের মর্যাদা হারিয়েছে ব্রাজিল: রোনালদো

বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিলকে আর আগের মতো ‘একক ফেভারিট’ মনে করেন দেশটির কিংবদন্তি খেলোয়াড় রোনালদো নাজারিও। তবে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কারণে দলটি এখনো ফুটবল বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। রোনালদোর মতে, ব্রাজিল এখনও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি হলেও ২০০০ সালের শুরুর দিকের মতো আধিপত্য আর নেই। তিনি বলেন, ২৪ বছর ধরে বিশ্বকাপ না জেতার বিষয়টি দলটির বর্তমান অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। ২০০২ সালে জার্মানির বিপক্ষে ২-০ গোলে জেতা ফাইনালে তিনি নিজেও ছিলেন, যা ব্রাজিলের শেষ বিশ্বকাপ শিরোপা। তিনি আরও মনে করেন, বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ হলো আগের মতো বিশ্বমানের স্ট্রাইকারের অভাব। রোমারিও কিংবা পরবর্তীতে অ্যাড্রিয়ানোর মতো ‘গোলমেশিনের অভাব’ এখন স্পষ্টভাবে বোঝা হচ্ছে। আধুনিক ফুটবলে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত ডিফেন্সিভ দায়িত্ব দেওয়ায় তাদের স্বাভাবিক গোল করার দক্ষতাও প্রভাবিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক লেকিপ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোনালদো বলেন, ‘আধুনিক ফুটবলে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের বল ছাড়াও অনেক বেশি দায়িত্ব পালন করতে হয়, যা আগের দিনের ‘গোল মেশিন’ ধরনের খেলোয়াড়দের চর

ফেভারিটের মর্যাদা হারিয়েছে ব্রাজিল: রোনালদো
বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিলকে আর আগের মতো ‘একক ফেভারিট’ মনে করেন দেশটির কিংবদন্তি খেলোয়াড় রোনালদো নাজারিও। তবে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কারণে দলটি এখনো ফুটবল বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। রোনালদোর মতে, ব্রাজিল এখনও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি হলেও ২০০০ সালের শুরুর দিকের মতো আধিপত্য আর নেই। তিনি বলেন, ২৪ বছর ধরে বিশ্বকাপ না জেতার বিষয়টি দলটির বর্তমান অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। ২০০২ সালে জার্মানির বিপক্ষে ২-০ গোলে জেতা ফাইনালে তিনি নিজেও ছিলেন, যা ব্রাজিলের শেষ বিশ্বকাপ শিরোপা। তিনি আরও মনে করেন, বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ হলো আগের মতো বিশ্বমানের স্ট্রাইকারের অভাব। রোমারিও কিংবা পরবর্তীতে অ্যাড্রিয়ানোর মতো ‘গোলমেশিনের অভাব’ এখন স্পষ্টভাবে বোঝা হচ্ছে। আধুনিক ফুটবলে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত ডিফেন্সিভ দায়িত্ব দেওয়ায় তাদের স্বাভাবিক গোল করার দক্ষতাও প্রভাবিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক লেকিপ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোনালদো বলেন, ‘আধুনিক ফুটবলে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের বল ছাড়াও অনেক বেশি দায়িত্ব পালন করতে হয়, যা আগের দিনের ‘গোল মেশিন’ ধরনের খেলোয়াড়দের চরিত্রকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত চাপও রয়েছে। তবে আমাদের স্বীকার করতে হবে—ব্রাজিলে আবারও কার্যকর স্ট্রাইকার তৈরি এবং তাদের সঠিকভাবে গড়ে তোলা জরুরি।’ তার মতে, বিশ্ব ফুটবলে এখন আর কোনো একক পরাশক্তির আধিপত্য নেই। ইউরোপ, দক্ষিণ আমেরিকা, এমনকি আফ্রিকা ও এশিয়ার দলগুলোও অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। তবে ব্রাজিলের নাম, ইতিহাস এবং ফুটবল ঐতিহ্যের কারণে দলটির প্রতি প্রত্যাশা সবসময়ই বেশি থাকে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ব্রাজিলের ইতিহাস ও ফুটবল সংস্কৃতির কারণে প্রত্যাশা সবসময়ই অনেক বেশি থাকে। আমরা ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল (৫টি বিশ্বকাপ শিরোপা), তাই নতুন প্রজন্মের ওপর চাপও অনেক বেশি।’ বর্তমানে ব্রাজিল আক্রমণভাগে মূলত মাতেউস কুনহার ওপর নির্ভর করছে, যিনি এই বিশ্বকাপে তিন ম্যাচে তিন গোল করেছেন। গ্রুপ সি-তে শীর্ষে থেকে শেষ করে ব্রাজিল এখন জাপানের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে খেলবে। তবে রোনালদোর মতে, শুধু এই পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ব্রাজিলকে শিরোপার প্রধান দাবিদার বলা যায় না। ফ্রান্স, স্পেন, আর্জেন্টিনা এবং জার্মানির মতো দলগুলোই এখন সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে করেন তিনি। তবুও ব্রাজিলের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী এই কিংবদন্তি। তিনি বলেন, ‘ফ্রান্স, স্পেন ও আর্জেন্টিনা খুব ভালো ফুটবল খেলছে এবং খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। জার্মানিও সবসময় বিপজ্জনক। এগুলোই ব্রাজিলের শিরোপা জয়ের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow