ফোন বা বক্স ছাড়াই 'আইএমইআই' নম্বর বের করবেন যেভাবে

বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ডিভাইসগুলোর একটি। যোগাযোগ রাখা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, ব্যাংকিংসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজই এখন ফোনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাই ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, ব্যক্তিগত ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে আইএমইআই (International Mobile Equipment Identity) নম্বরের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। আইএমইআই হলো ১৫ সংখ্যার একটি ইউনিক নম্বর, যা প্রতিটি মোবাইল ফোনের জন্য আলাদা এবং ডিভাইস শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। তবে অনেক ব্যবহারকারীই জানেন না যে, খুব সহজেই নিজের ফোন থেকেই এই নম্বর জানা সম্ভব। সাধারণত মোবাইলের বাক্সে আইএমইআই নম্বর লেখা থাকে, কিন্তু বাক্সটি হারিয়ে গেলে প্রয়োজনের সময় সমস্যায় পড়তে হয়। সবচেয়ে সহজ ও দ্রুত উপায় হলো ফোনের ডায়াল প্যাডে *#06# টাইপ করা। সঙ্গে সঙ্গেই স্ক্রিনে আইএমইআই নম্বর ভেসে উঠবে। ডুয়াল সিম ফোন হলে দুটি আলাদা নম্বরও দেখা যেতে পারে। এই পদ্ধতিতে কোনো সেটিংসে ঢুকতে হয় না, মুহূর্তের মধ্যেই প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়। তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, নতুন ফোন হাতে পেলেই আ

ফোন বা বক্স ছাড়াই 'আইএমইআই' নম্বর বের করবেন যেভাবে

বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ডিভাইসগুলোর একটি। যোগাযোগ রাখা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, ব্যাংকিংসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজই এখন ফোনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাই ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, ব্যক্তিগত ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে আইএমইআই (International Mobile Equipment Identity) নম্বরের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

আইএমইআই হলো ১৫ সংখ্যার একটি ইউনিক নম্বর, যা প্রতিটি মোবাইল ফোনের জন্য আলাদা এবং ডিভাইস শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। তবে অনেক ব্যবহারকারীই জানেন না যে, খুব সহজেই নিজের ফোন থেকেই এই নম্বর জানা সম্ভব। সাধারণত মোবাইলের বাক্সে আইএমইআই নম্বর লেখা থাকে, কিন্তু বাক্সটি হারিয়ে গেলে প্রয়োজনের সময় সমস্যায় পড়তে হয়।

সবচেয়ে সহজ ও দ্রুত উপায় হলো ফোনের ডায়াল প্যাডে *#06# টাইপ করা। সঙ্গে সঙ্গেই স্ক্রিনে আইএমইআই নম্বর ভেসে উঠবে। ডুয়াল সিম ফোন হলে দুটি আলাদা নম্বরও দেখা যেতে পারে। এই পদ্ধতিতে কোনো সেটিংসে ঢুকতে হয় না, মুহূর্তের মধ্যেই প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়। তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, নতুন ফোন হাতে পেলেই আইএমইআই নম্বরটি লিখে নিরাপদে সংরক্ষণ করে রাখা উচিত।

অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য আরও একটি উপায় হলো:

সেটিংস → অ্যাবাউট ফোন → স্ট্যাটাস → আইএমইআই ইনফরমেশন। বিভিন্ন ব্র্যান্ডে নাম কিছুটা ভিন্ন হতে পারে, তবে সাধারণত অ্যাবাউট ফোন সেকশনে তথ্যটি থাকে। এছাড়া অনেক ফোনের পেছনের কভারের নিচে বা সিম ট্রের গায়েও আইএমইআই নম্বর প্রিন্ট থাকে, ফলে ফোন বন্ধ থাকলেও নম্বর বের করা যায়।

আইফোন ব্যবহারকারীরাও একইভাবে নম্বর দেখতে পারেন:

সেটিংস → জেনারেল → অ্যাবাউট। ডিভাইস ইনফরমেশন তালিকায় আইএমইআই নম্বর থাকবে। চাইলে এটি কপি করে নিরাপদ কোনো স্থানে সংরক্ষণ করা যায়। পুরোনো আইফোন মডেলে সিম ট্রের গায়েও নম্বর ছাপা থাকে।

ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে পুলিশ কিংবা মোবাইল অপারেটরকে আইএমইআই নম্বর জানালে ডিভাইসটি ট্র্যাক করা এবং প্রয়োজনে ব্লক করা সম্ভব। এতে ফোনটি কার্যত অকেজো হয়ে যায়, ফলে চোর বা অবৈধ ব্যবহারকারী সেটি ব্যবহার করতে পারে না। অনেক দেশেই নকল বা অবৈধ মোবাইল শনাক্ত করতেও এই আইএমইআই নম্বর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সে কারণে ফোন কেনার সময় মোবাইলের বাক্সে থাকা নম্বরের সঙ্গে ডিভাইসের আইএমইআই মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।

তবে একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখা দরকার—আইএমইআই নম্বর কখনোই অচেনা বা অবিশ্বস্ত কারও সঙ্গে শেয়ার করা উচিত নয়। এটি ফোনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় নম্বর, তাই এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সবচেয়ে ভালো হয় নম্বরটি কাগজে লিখে রাখা বা নিরাপদ কোনো ডিজিটাল নোটে সংরক্ষণ করে রাখা, যাতে প্রয়োজনের সময় সহজেই তা পাওয়া যায়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow