ফ্রেমবন্দি মেসি ও ইয়ামালের সুন্দর চিত্রনাট্য আজ
কখনও কখনও একটি ছবি শুধু একটি মুহূর্তকে ধরে রাখে না, সেটি ভবিষ্যতের সাক্ষীও হয়ে থাকে। ২০০৭ সালে তোলা একটি ছবির দিকে তাকালে ঠিক তেমনই মনে হয়। ছোট্ট একটি বাথটাবে বসে আছে কয়েক মাস বয়সী একটি শিশু। তাকে সাবধানে গোসল করিয়ে দিচ্ছেন লাজুক, ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ ফুটবলার। সেই তরুণ হলো ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। আর শিশুটির নাম লামিন ইয়ামাল। সেদিন কেউ জানতেন না, সেই শিশুই একদিন বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত প্রতিভায় পরিণত হবে। আরও অবিশ্বাস্য হলো, একসময় যার হাতের স্পর্শ পেয়েছিল, ১৯ বছর পর সেই মানুষটির বিপক্ষেই খেলবে বিশ্বকাপের ফাইনাল। আরও পড়ুন মেসির আবেগঘন বার্তা / ফাইনালে যা-ই হোক, আর্জেন্টিনা আগেই ইতিহাস লিখে ফেলেছে আরও পড়ুন কেন মেসির থেকেও ইয়ামালের বাজারমূল্য প্রায় ২০ গুণ বেশি? আজ রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় যখন বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন, তখন ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি চোখ শুধু দুই জার্সির দিকে নয় থাকবে দুই প্রজন্মের দুই বিস্ময়ের দিকে। তারা হলেন লিওনেল মেসি ও লামিন ইয়ামাল। একটি ছবির জন্ম, যা পরে হয়ে গেলো ইতিহাস ঘটনাটি ২০০৭ সা
কখনও কখনও একটি ছবি শুধু একটি মুহূর্তকে ধরে রাখে না, সেটি ভবিষ্যতের সাক্ষীও হয়ে থাকে। ২০০৭ সালে তোলা একটি ছবির দিকে তাকালে ঠিক তেমনই মনে হয়। ছোট্ট একটি বাথটাবে বসে আছে কয়েক মাস বয়সী একটি শিশু। তাকে সাবধানে গোসল করিয়ে দিচ্ছেন লাজুক, ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ ফুটবলার। সেই তরুণ হলো ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। আর শিশুটির নাম লামিন ইয়ামাল।
সেদিন কেউ জানতেন না, সেই শিশুই একদিন বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত প্রতিভায় পরিণত হবে। আরও অবিশ্বাস্য হলো, একসময় যার হাতের স্পর্শ পেয়েছিল, ১৯ বছর পর সেই মানুষটির বিপক্ষেই খেলবে বিশ্বকাপের ফাইনাল।
আজ রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় যখন বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন, তখন ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি চোখ শুধু দুই জার্সির দিকে নয় থাকবে দুই প্রজন্মের দুই বিস্ময়ের দিকে। তারা হলেন লিওনেল মেসি ও লামিন ইয়ামাল।
একটি ছবির জন্ম, যা পরে হয়ে গেলো ইতিহাস
ঘটনাটি ২০০৭ সালের। বার্সেলোনার ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে ইউনিসেফ ও স্পোর্ত পত্রিকার যৌথ উদ্যোগে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল বিশেষ ফটোশুট। ক্লাবের ফুটবলারদের সঙ্গে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত শিশুদের ছবি তোলা হচ্ছিল সেদিন। সেই লটারিতেই সুযোগ পেয়েছিল ইয়ামালের পরিবার। কয়েক মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন তার বাবা-মা। অন্যদিকে, বার্সেলোনার মূল দলে জায়গা পাকাপোক্ত করার পথে থাকা তরুণ মেসিকে বলা হয়েছিল শিশুটিকে কোলে নিতে, বাথটাবে বসাতে এবং ক্যামেরার সামনে স্বাভাবিকভাবে কিছু মুহূর্ত ধারণ করতে।

গোল্ডেন বুট জিততে মেসির সামনে কী সমীকরণ?
ফটোগ্রাফার জোয়ান মনফোর্ট পরে স্মৃতিচারণ করে বলেছিলেন, ‘মেসি তখন খুবই লাজুক ছিল। লকার রুমে গিয়ে যখন দেখলো পানিভর্তি একটি বাথটাবে একটি শিশু বসে আছে, তখন সে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে যায়। প্রথমে বুঝতেই পারছিল না শিশুটিকে কীভাবে ধরবে।’
সেই অস্বস্তিই পরে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতীকী ছবিগুলোর একটিতে রূপ নেয়।
আড়ালে লুকিয়ে থাকা ফুটবলের ভবিষ্যৎ
দীর্ঘদিন ছবিটি ছিল প্রায় বিস্মৃত, কারও নজরেই তেমন আসেনি। সময়ের সঙ্গে মেসি হয়ে উঠেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার। অন্যদিকে, লামিন ইয়ামাল বড় হয়েছেন, লা মাসিয়ায় নিজেকে গড়ে তুলেছেন এবং অল্প বয়সেই বার্সেলোনা ও স্পেনের আক্রমণের সবচেয়ে বড় ভরসাগুলোর একজন হয়ে উঠেছেন।
ছবিটি নতুন করে আলোচনায় আসলো বহু বছর পর। ইয়ামালের পরিবারের মাধ্যমে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর যেন পুরো ফুটবল বিশ্ব থমকে যায়। একই ফ্রেমে দেখা যায় দুই সময়কে-একজন তখন ভবিষ্যতের কিংবদন্তি হওয়ার পথে, আর অন্যজন তখন ভবিষ্যতের স্বপ্নও দেখতে শেখেনি।
অনেকেই ছবিটিকে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর ‘টাইম ক্যাপসুল’ বলে অভিহিত করেন।
কিংবদন্তির শেষ অধ্যায়, নতুন নক্ষত্রের শুরু
বিশ্বকাপের এই আসরটি মেসির জন্য আরেকটি সোনালি অধ্যায় লেখার সুযোগ। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি যেন সময়কে অস্বীকার করছেন। পুরো টুর্নামেন্টে গোল করেছেন আটটি, করিয়েছেন আরও চারটি। দলের নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা আর ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা এখনও আগের মতোই অটুট। সোনার বুট ও সোনার বল-দুটি পুরস্কারের দৌড়েও আছেন তিনি।
অন্যদিকে, ইয়ামাল যেন ভবিষ্যতের ঘোষণা। বয়স মাত্র ১৯, কিন্তু খেলার পরিপক্বতায় তা বোঝার উপায় নেই। ডান প্রান্তে তার গতি, ড্রিবলিং, সাহসী সিদ্ধান্ত এবং বড় ম্যাচে ভয়ডরহীন ফুটবল তাকে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত তরুণ ফুটবলারদের একজন করে তুলেছে। এবারের বিশ্বকাপে গোলের সংখ্যা খুব বেশি না হলেও প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রেখেছেন। বিশেষ করে সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স ছিল স্পেনের আক্রমণের অন্যতম চালিকাশক্তি।
ভাগ্যের সবচেয়ে সুন্দর চিত্রনাট্য
ফুটবলকে প্রায়ই বলা হয় ‘দ্য বিউটিফুল গেম’। শুধু মাঠের সৌন্দর্যের জন্য নয়, এর গল্পগুলোর জন্যও। মেসি ও ইয়ামালের গল্প তেমনই এক বিস্ময়।

জয়তু মেসি, জয়তু আর্জেন্টিনা
একসময় যে শিশুকে সাবধানে কোলে তুলে বাথটাবে বসিয়েছিলেন মেসি, আজ সেই তরুণই হতে পারেন তার বিশ্বকাপ জয়ের পথে সবচেয়ে বড় বাধা। এটি শুধু দুই ফুটবলারের লড়াই নয়; এটি সময়ের সঙ্গে সময়ের, উত্তরাধিকারীর সঙ্গে কিংবদন্তির, অতীতের সঙ্গে ভবিষ্যতের এক প্রতীকী সাক্ষাৎ।
ইতিহাসের সাক্ষী একটি ছবি
ইউনিসেফের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছবিটি আবারও কোটি কোটি মানুষের নজর কাড়ছে। অনেকেই বলছেন, ফুটবল ইতিহাসে এত আবেগ, এত প্রতীক আর এত সুন্দর কাকতালীয় ঘটনা একই ছবিতে খুব কমই ধরা পড়েছে।
বিশ্বকাপ ফাইনালের বাঁশি বাজলেই হয়তো ছবিটির অর্থ আরও গভীর হয়ে উঠবে। ফল যাই হোক, ইতিহাসে এই ম্যাচ স্মরণীয় হয়ে থাকবে আরেকটি কারণে-১৯ বছর আগে ক্যাম্প ন্যুর একটি সাধারণ ফটোশুটে যে গল্পের শুরু হয়েছিল, তার সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অধ্যায় লেখা হবে আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মঞ্চে।
এসএনআর/আইএন
What's Your Reaction?



